ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
Untitled

 

সাঈদীর আপিলের রায় আওয়ামী লীগের নেপথ্যের মুখোশ উন্মোচন করেছে । জামাতের প্রতি আওয়ামী লীগের যে একটা দুর্বলতা আছে এটা এখন সহজেই অনুমেয় । যুদ্ধাপরাধীর দল বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি একটা সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্র ছিল। সময়ের ব্যাবধানে সেই সমীকরণ পাল্টেছে । কিন্তু পুরনো প্রেমের শিকড়ের তো একটা সম্পর্ক থেকেই যায়।

শাহবাগের মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে, পুলিশ ব্যারিকেট, সিসি ক্যামেরা, র‍্যাবের টহল দিয়ে যে আন্দোলনের শুরু হয়েছিলো তার অন্তরালে সরকারের জোরালো ভূমিকা ছিল । যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি মানুষের তীব্র ঘৃণা, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মানুষের অগাধ শ্রদ্ধা আর আবেগকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার যে নকশা এঁকেছিল মানুষ তখন বুঝতে পারেনি।

অনেক নাটকীয়তা আর অপেক্ষার পর গত ১২ই ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশ সময় রাত ১০:০১ মিনিটে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনকারীদের অন্যতম হোতা আব্দুল কাদের মোল্লা। মহান বিজয়ের মাসে এই ফাঁসি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়। এই নতুন অধ্যায় রচনা করার ফলে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আস্থা আর ভালবাসা বেড়ে যায় অনেকগুন। মানুষের এই ভালবাসাকেও আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কাজেই ব্যবহার করেছে ।

৫ই জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দম্ভ করে বলেছিলেন, জাতিসংঘের মহা সচিব বান কি মুন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রি উইলিয়াম হেগ, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আমাকে কল করে অনুরোধ করেছিল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দেওয়ার জন্য, কিন্তু আমি কাউকে পরোয়া করিনি । এই দাম্ভিকতায় বাংলাদেশের জনগণের বুকও দম্ভে একটু উঁচু হয়েছিলো। কিন্তু সাঈদীর ফাঁসির রায় আপিল বিভাগে গিয়ে যখন আমৃত্যু কারাদণ্ডে পরিণত হয় তখন সেই দম্ভে চুনকালি পড়ে। মানুষ থুথু দেয়। ছিঃ ছিঃ করে ।

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। ক্ষমতায় থাকার নতুন কৌশল হিসেবে তারা জামাতের সাথে আঁতাত করতেই পারে । আওয়ামী লীগ সবই পারে । জাতীয় পার্টিকে যেভাবে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছে, জামাতকে ধরলে আর সমস্যা কোথায় । হয় তো এটাও অসম্ভব না যে, ২০১৯ সালের নির্বাচনে সরকারে থাকবে আওয়ামী লীগ আর বিরোধী দলে জামাত ।

ফাঁসির রায় আওয়ামী আপিল ফিল্টারে গিয়ে হল আমৃত্যু কারাদণ্ড। দুই দিন পরে যে আপিল বিভাগ কাউকে বেখসুর খালাস দিবে না এই নিশ্চয়তাও নেই ।

সরকার বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন ভাবে কাজ করছে। আদালতের উপর তাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই। বাংলাদেশের মানুষ এখনও কি এতটাই বোকা আছে যে সরকারের এই সব লাল-নীল তামাশা বুঝবে না ? নাকি আওয়ামী লীগ আমাদের খুব বোকা মনে করে?

জামাত পারেও বটে। লবিং -এ ওরাই সেরা। হিউম্যান রাইট ওয়াচ, জাতিসংঘের মহাসচিব, উইলিয়াম হেগ পাড়ি দিয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগান পর্যন্ত লবিং করেও যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার থামানো, গতি শ্লথ করা বা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিরত রাখতে পারেনি, তখন খোদ আওয়ামী লীগেই ওরা লবিং শুরু করেছে । ফলাফলও বেশ ভালো ।