ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জামাতের আঁতাতের হরতাল শেষ হতেই আবার শুরু হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল । ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এই সরকারের আমলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এটাই প্রথম হরতাল কর্মসূচি । সংসদকে উচ্চ আদালতের বিচারকদের সরানোর ক্ষমতা দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ’৭২ এর সংবিধানে সংসদের কাছে থাকলেও তা ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের (বাকশাল গঠন) পর রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত হয়। চতুর্থ সংশোধনী বাতিলের পর জিয়াউর রহমান এক সামরিক ফরমান বলে বিচারপতি অপসারণের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন।আওয়ামী লীগ আবার আগের পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করে।

গণবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে অনেকটা দেউলিয়া হয়ে নিজেদের অবৈধ ও অনৈতিক ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার হীন উদ্দেশ্যে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের কাছে অর্পন করেছে। আর এই আইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকেই বিচার বিভাগের ওপর খবরদারী করার গ্যারান্টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে বিচারপতিদের জবাবদিহিতা এখন সরকারের কাছেই । নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামালায় র‍্যাবের কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগে আদালত দোষী কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন । এতেই চরম উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী । আদালতের এমন নির্দেশ ভালভাবে নিতে পারে নি সরকার । তাই বিচারপতিদের ছকে বাঁধতেই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ।

মিডিয়া, আদালত আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হাতের মুঠোয় রাখতে পারলেই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার মহাকাব্য রচনা করা সম্ভব । মিডিয়াকে বসে আনতে ‘’সম্প্রচার নীতি’’ আর আদালত কে নিজেদের মত করে রাখতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ই হয় তো যথেষ্ট ।

বীরের বেশেই সরকার এগিয়ে ই যাবে। হরতাল ডেকে কিংবা মিডিয়ায় গরম বক্তব্য দিয়ে ২০ দল যে তেমন কিছুই করতে পারবে না এটা সরকারের ভালো ই জানা আছে । আর ২০ দলও যে হরতাল ডেকে মাঠে থাকবে না এটাও সাধারণ জনগণের জানা । এ যেন বিএনপির দায় সারা হরতাল কর্মসূচি । মাত্র ২১০ মিনিটে সংবিধানের এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির হরতাল আহবান করা উচিত ছিল । জাতীয় পার্টি সরকারি দল না বিরোধী দল এটা এখন কৌতুক ছাড়া আর কিছুই না ।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে দেশের জন্য কতটা ভালো হয়েছে না খারাপ সেটা আলোচনা সাপেক্ষ । দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বহিরবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সেই সমীকরণ টা কিন্তু খুবই সহজ । খেটে খাওয়া মানুষ আর সাধারণ জনগণের কাছে এই সব সমীকরণ দুর্বোধ্য ।

হরতাল মানেই পিকেটিং। গাড়ি ভাংচুর। ককটেল বিস্ফোরণ। গান পাউডারে বাসে আগুন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে জীবনের কাছে হেরে যাওয়া। যারা হরতাল ডাকে, যাদের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকে ভোগান্তি তাদের না । ভোগান্তি জনসাধারণের । সত্য কথা বলতে কি হরতাল বিহীন এতদিন ভালই ছিলাম ।