ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

কেএফসি, বিএফসি, পিজা হাট, আম্বালাতে  খাচ্ছি। ভ্যাট দিচ্ছি। বিভিন্ন  ব্রান্ডের পণ্য কিনছি । ভ্যাট দিচ্ছি। কোন সমস্যা নেই। মাথা ব্যথা নেই। ভার্সিটিতে প্রতিদিন নতুন নতুন জামা পরে গলায় আইডি ঝুলিয়ে আসছি। আড্ডা দিচ্ছি। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ওই যে আইডি ঝুলাই আবার বাসায় না ফেরা পর্যন্ত আর আইডি খুলি না ।   সমস্যা কেবল ৭.৫% ভ্যাট নিয়েই । হয় তো ভাবছেন আমি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কট্টর বিরোধী। না। যা বললাম এটা বাস্তবতা ।

“শিক্ষা কি পণ্য, ভ্যাট কি জন্য” চমৎকার শ্লোগান। তবে বাস্তবতা হচ্ছে শিক্ষা আসলেই পণ্য আর এই জন্যই ভ্যাট । প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষা কে পণ্য করার এক উর্বর ক্ষেত্র। দুই একটা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রম হলেও অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কে পণ্য করেই গড়ে উঠেছে । আনাচে কানাচে চিপা চাপায় দুই একটা রুম নিয়েই গড়ে উঠেছে এক একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। দারুল ইহসানের যে কত জন মালিক আর এর ক্যাম্পাসের সংখ্যা কত তা বলাই কঠিন। একটা ফ্ল্যাটে  গড়ে উঠেছে শিক্ষার একাধিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়”।  আর এই জন্যই সরকারের নজর পড়েছে এই খাতে।

এইচএসসিতে মানবিকে পড়েও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি তে পড়া যায়। ২.৫ নিয়েও ট্রিপলই পড়ে “ট্রিপল” ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়। হয় তো ভাবছেন একটু বানিয়েই বলছি কিন্তু না । বিবিএ পড়ে অথচ একটা ইংরেজি বাক্য সঠিক ভাবে লিখতে পারে না। এক বাসায় থাকি আট জন। ছয় জন ই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের।  করুণ অবস্থা। প্রেজেন্টেশন তৈরি করে দিতে হয়। লিখে দিতে হয়। থিসিস হচ্ছে একটা কপি পেস্ট সাহিত্যের মত। এ যেন এক চরম বাস্তবতা ।

দুই টা রুমের একটা অফিস । একটা ক্লাস রুম। এই বিল্ডিঙে ইংরেজি বিভাগ আর ওই বিল্ডিঙে আইন বিভাগ। একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়টা বিভাগ কত জায়গায় ছড়িয়ে আছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী বলতে পারবে বলে মনে হয়। এখানেই শিক্ষা পণ্য হয়েছে। শিক্ষা হয়েছে পরাজিত । চারপাশ টা একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন। রীতিমত আঁতকে ওঠবেন ।

বুধবার রামপুরায় ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রতিবাদে এবং ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাস্তায় নামে  ভ্যাট বিরোধীরা।

রাজধানীর উত্তরা, প্রগতি সরণির বসুন্ধরা আবাসিক গেইট ও রামপুরা এলাকা, মহাখালীর ওয়্যারলেস গেইট এবং ধানমণ্ডি-২৭ নম্বর এলাকা ও আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  দিনভর তীব্র যানজটে নাকাল হতে হয় রাজধানীবাসীকে।

বিকালে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষায় আরোপিত ভ্যাট শিক্ষার্থীদের নয়, দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। তারপরেও রাত  নয় টা পর্যন্ত তারা রাস্তা অবরোধ করে রাখে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ভর্তুকি দেয়। কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তুকি তো দূরের কথা তাদের উপরে সরকার ই ৭.৫ ভ্যাট আরোপ করেছে। তাহলে কি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সরকার অখুশি না তাদের শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ  ? সঠিক উত্তর যে আসলে কি তা বলা কঠিন।

 

আহমদ আল হুসাইন

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।