ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 


ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে মিশিগানের ডিয়ারবর্ণে ‘ইসলামিক সেণ্টার অফ আমেরিকা’ র মসজিদের দেয়ালে ‘চিকা’ মারা হয়েছে যে ‘ফিরে যাও’। প্রথম দর্শনে মনে হবে ৯/১১ এর পর থেকে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠা ক্ষুদ্ধ কোন আমেরিকানের প্রতিবাদ।

আসল ঘটনা অন্য জায়গায়। ৯/১১ এর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে আমেরিকানদের অনুভূতি কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায় নি। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমেরিকান জনগণের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিরুপ রাষ্ট্রপতি জর্জ ডাব্লিউ বুশের ভাষণেই প্রতিফলিত হয় যে ‘ইসলাম ও মুসলিম আসল শত্রু নয়’, ২০০২ সালে আফগান এমব্যাসিতে আরব এবং মুসলিম আমেরিকান নেতৃবৃন্দদের সাথে এক ঐতিহাসিক গোলটেবিল বৈঠকে। বুশ বলেন, “সমস্ত আমেরিকানদের এ সত্যটি অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে সন্ত্রাসের যে চেহারা সেটি সত্যিকারের ইসলামিক বিশ্বাস থেকে আসেনি, সেটি ইসলামের সত্যিকারের চেহারাও নয়। ইসলাম একটি বিশ্বাস যা সারা বিশ্বে শত শত কোটি মানুষের জীবনে শান্তি-স্বস্তি এনে দিয়েছে। এটি এমন একটি বিশ্বাস যা প্রত্যেকটি জাতির নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ করে। এটি এমন একটি বিশ্বাস যার ভিত্তি ভালবাসা, ঘৃণা নয়।”

President Bush said, “All Americans must recognize that the face of terror is not the true faith—face of Islam. Islam is a faith that brings comfort to a billion people around the world. It’s a faith that has made brothers and sisters of every race. It’s a faith based upon love, not hate.”

দূর্ভাগ্যজনকভাবে, রাষ্ট্রপতি বুশের কথাগুলো একটি সুসংগঠিত ইসলামবিদ্বেষী বর্ণবাদি চক্রের দ্বারা রাহুগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ভিন্নভাবে পরিবেশিত হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতে থাকে। এটি একইসঙ্গে দুঃখজনক ও বিপজ্জনক। এই বিপজ্জনক প্রচারণা আমেরিকান ধর্মীয় স্বাধিকারের সার্বভৌম চেতনা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিগত সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে চরমভাবে ব্যহত করে তুলেছে। ৯/১১ এর পর থেকে আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা আল কায়েদার মোট সন্ত্রাসী হুমকির ৪০ শতাংশেরও বেশি বানচাল করা সম্ভবপর হয়েছে। মুসলিম আমেরিকান হামলা পরিকল্পনার ব্যাপারে প্রশাসনের প্রাপ্ত আগাম তথ্যের বৃহত্তম একক উৎস হিসেবে মুসলিম সম্প্রদায়ই কাজ করেছে। সারা বিশ্বে মানুষ মানুষকে ইসলামের নামে হত্যা করছে যার সাথে বেশির ভাগ মুসলিমই একমত নয়।

হোয়াইট হাউজ সম্প্রতি ‘সন্ত্রাসী চরমপন্থার’ বিরুদ্ধে তাদের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে, আল কায়েদা নেটওয়র্কের কৌশলি প্রচারণা ছিল যে ‘আমেরিকা ইসলাম ও মুসলিমদের চরম শত্রু হিসেবে যুদ্ধে নেমেছে’ এটিকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে,

The White House recently released the national strategy for combating violent extremism, “Empowering Local Partners to Prevent Violent
Extremism in the United States.” One of the top focal points of the effort is to “counter al-Qa’ida’s propaganda that the United States is somehow at war with Islam.” Yet orchestrated efforts by the individuals and organizations detailed in this report make it easy for al-Qa’ida to assert that America hates Muslims and that Muslims around the world are persecuted for the simple crime of being Muslims and practicing their religion.

নিউইয়র্ক শহরের গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ ইস্যুকে বিতর্কিত করে তোলা হয়েছে ইসলামবিদ্বেষী মহলের অপপ্রচারণার মাধ্যমে, এ সম্মন্ধে মেয়র ব্লুমবার্গ অতীতের ক্যাথলিক বিরোধী বর্ণবাদি কালো অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক করে দেন একটি বয়ানে,

In response to the fabricated “Ground Zero mosque” controversy in New York last summer, Mayor Bloomberg said:
In the 1700s, even as religious freedom took hold in America, Catholics in New York were effectively prohibited from practicing their religion, and priests could be arrested. Largely as a result, the first Catholic parish in New York City was not established until the 1780s, St. Peter’s on Barclay Street, which still stands just one block north of the World Trade Center site, and one block south of the proposed mosque and community center. … We would betray our values and play into our enemies’ hands if we were to treat Muslims differently than anyone else.

রিপোর্ট আলোচনায় ‘ইসলামফোবিয়া’ বা ‘ইসলামবিদ্বেষ’ এর বিষাক্ত ভয়াবহতা সম্মন্ধে সতর্ক করে আরো বলা হয়,

Before we begin, a word about the term “Islamophobia.” We don’t use this term lightly. We define it as an exaggerated fear, hatred, and hostility toward Islam and Muslims that is perpetuated by negative stereotypes resulting in bias, discrimination, and the marginalization and exclusion of Muslims from America’s social, political, and civic life.

ইসলামবিদ্বেষী লেখালেখি ও প্রচারনার জন্য ৪২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট খরচ করা হয়েছে গত কয় বছরে সুপরিকল্পিতভাবে,

Altogether, these seven charitable groups provided $42.6 million to Islamophobia think tanks between 2001 and 2009—funding that supports the scholars and experts that are the subject of our next chapter as well as some of the grassroots groups that are the subject of Chapter 3 of our report.

যেসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ইসলামবিদ্বেষী কর্মকান্ডে বিপুল অর্থের যোগান দিয়ে থাকে তারা হল,
* Donors Capital Fund
* Richard Mellon Scaife foundations
* Lynde and Harry Bradley Foundation
* Newton D. & Rochelle F. Becker foundations and charitable trust
* Russell Berrie Foundation
* Anchorage Charitable Fund and William Rosenwald Family Fund
* Fairbrook Foundation

বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় কারা হয় ইসলাম বিদ্বেষী বই, আর্টিকেল, ম্যাগজিন, ওয়েব সাইট প্রমোশন এ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ও ব্লগ লেখালেখির জন্যে। এসব পেশাদার ইসলামিফোবিকদের শীর্ষে আছেন ‘এ্যাটলাস শ্রাগস’ ব্লগের লেখিকা প্যাম গ্যালার, ‘জিহাদ ওয়াচ’ সাইটের রবার্ট স্পেন্সার, ‘মিডল ইস্ট’ ফোরামের ড্যানিয়েল পাইপস, ‘টেরোরিসম ইনভেস্টিগেট’ সাইটের স্টিভেন এমারসন সহ আরো সো-কলড এক্সপার্ট যাদের ফক্স নিউজে সবসময় নিয়মিত দেখা যায়। এদের ফান্ডিং এবং প্রোপাগান্ডা এতই বিশাল যে এদের তত্বাবধানে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ভাষায় হাজার হাজার ওয়েবসাইট, ব্লগ, আর্টিকল ও বই লিখে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা চালায়। এরা ডানপন্থি রক্ষণশীল ইয়াহুদীবাদি এবং ক্রীশ্চান ইভন্জালিস্ট। এজন্যেই আপনি দেখবেন যে, ইন্টারনেটে ইসলাম/মুসলিম বিরোধী ম্যাটেরিয়াল অনেক বিশাল।


ইসলামবিদ্বেষীরা থেমে নেই এবং বিভিন্ন কৌশলে তারা ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বর্তমানে ইসলামের অপপ্রচার করে ইন্টারনেটে লেখালিখি শুধু একটি আধুনিক হুজুগ বা হাল ফ্যাশানই নয় বরং বেশ লাভজনক ব্যবসা ও পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপুল অর্থায়নের কারণে উচ্ছিষ্টভোগী কিছু বিদূষক বিভিন্ন দেশে ডলারের লোভে পড়ে তাদের অনুগামী হয়েছে। এমনকি বাংলাভাষীদের মধ্যেও রয়েছে তাদের অনুচর দোসর। আমারব্লগ ডটকমের সিনিয়র ব্লগার কালো ওঝা নিজেই একদিন স্বীকার করেছেন যে ড্যানিয়েল পাইপস এর সাথে অনেক মিটিংয়ে তিনি ছিলেন। এই বিপুল ডলারের লোভেই আমাদের অগা-মগা-ওঝা-অভিরা ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের হুজুগে মাতিয়ে কোমর বেঁধে নেমেছেন ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে।

জায়োনিস্ট-ইভ্যাঞ্জেলিস্ট চক্রের সাথে হিন্দুত্ববাদীরা বাদ পড়ে গেছে। হিন্দুত্ববাদীরাও কম ভয়ঙ্কর নয়। তারা জায়োনিস্ট-ইভ্যাঞ্জেলিস্ট চক্রের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে হেটক্রাইম ছড়াচ্ছে। যে কোন মুসলিম বিদ্বেষী ব্লগে গেলে দেখবেন সেখানে হিন্দুত্ববাদীদের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। বাংলা কিছু ব্লগেই তার অনেক প্রমাণ আছে। এমনকি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা পর্যন্ত বাংলাদেশি কিছু ব্লগে এসে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে হেটক্রাইম থেকে শুরু করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর বাংলাদেশি সহোদররা তাদেরকে জামাই আদরে আপ্যায়ন করছে।

চরম ইসলাম বিদ্বেষী মুক্তমনা আবুল কাশেমের সাথে বিশ্ববিখ্যাত ইসলাম বিদ্বেষী রবার্ট স্পেন্সার, স্টিভেন এমারসন প্রমুখদের সাথে অনেক আগে থেকে যোগাযোগ আছে! ইসলাম বিদ্বেষকে তিনি পেশা হিসেবে গ্রহন করেছেন। আবুল কাশেমসহ অন্যরা পরামর্শ করেছে কিভাবে পশ্চিমা বিশ্বকে ইসলাম মুক্ত (Islamization) করা যায়। আবুল কাশেম সেই সিম্পোজিয়ামের এক্সপার্টের ভূমিকা পালন করেছে (কেননা সে ‘Apostates Speak Out and Beyond Jihad: Critical Views From Inside Islam নামক বইয়ের লেখক)! পশ্চিমা বিশ্বকে ইসলামমুক্ত করতে সে আট দফা কৌশল উত্থাপন করেছে।

মুক্তমনা আবুল কাশেমের দাবীর মধ্যে ছিল-

১। মুসলিমদেরকে নন-মুসলিম (পশ্চিমা দেশগুলোতে) দেশে প্রবেশ করতে চুক্তিপত্রে এই মর্মে স্বাক্ষর দিতে হবে যে তারা মুসলিম ভ্রাতৃত্বে বিশ্বাস করে না (pan-Islamism)। এই চুক্তি যারা ভংগ করবে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হবে এবং সাথে সাথে ইসলামিক ‘প্যারাডাইসে’ ফেরত পাঠাতে হবে।

২। বিধর্মীরা যাতে ইসলাম ধর্মে কনভার্ট হতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনে আইন করে তা প্রতিহত করতে হবে!

৩। মসজিদ বানানো বন্ধ করতে হবে। বিদ্বেষী আবুল কাশেম মসজিদ প্রতিষ্ঠা রোধ করতে বেশ্যাখানা, সিনেমা হল, মদখানা, পর্ণ ইন্ড্রাস্টির উদাহরণ তুলে ধরেছে! তার ভাষায়


“Please note that controlling mosques is not the same as banning them. It is similar to controlling pubs, cinema houses, brothels, and adult entertainment centres.

তার এসব পয়েন্টে বিশ্ব ‘নন্দিত’ ইসলাম বিদ্বেষীরাও দ্বি-মত প্রকাশ করেন! সেই বৈঠকে আল-কায়েদা বিশেষজ্ঞ ড রোহান গুনারত্নেও উপস্থিত ছিলেন। উনার মতে মুসলিমদের একটি ক্ষুদ্র অংশ চরমপন্থার সাথে জড়িত। কিন্তু এই যুক্তি বাংগালী মুক্তমনা মানতে পারেনিরেগে-মেগে একাকার অবস্থা! আবুক কাশেমের মতে গুনারত্ন হচ্ছে naïve! “Dr. Gunaratna is too simplistic in his thought” মুক্তমনা কাশেম তাকে স্মরণ করিয়ে দেন যে আসল সমস্যা হচ্ছে কোরান, হাদিস, মুহাম্মদ (সা) নিয়ে! তার ভাষ্য হচ্ছে-

Dr. Gunaratna is very naïve. He forgets that Islamist terrorism is the direct result of the stipulations of the Koran, Sunna, and Sharia. If he would read the exegeses of the Koran by eminent scholars of Islam, such as ibn Abbas, Jalalyn, ibn Kathir, Tabari, Maulana Maududi, Hilali and Khan, he would have found that none of them differ from the doctrinal bases of al-Qaeda. The reality is: the Koran firmly backs up the terror, murder, loot and barbarism of the jihadists.

Unfortunately, there is only Islam—the Islam preached, practiced and enforced by Muhammad. The entire ummah is bound by Islamic law to emulate Muhammad in complete.

তার মানে অর্থ হচ্ছে আমাদের নবী(সাঃ)ও সন্ত্রাসী ! মুসলিম মাত্রই সন্ত্রাসী। বাংলাব্লগে এসব ইসলামবিদ্বেষীদের যত অনুসারী আছেন তাঁরাও এভাবেই এই একই স্টাইলে একই সিলেবাস ফলো করে একই গরল নিয়মিত ‘মিউনিসিপ্যালটির মশামারা স্প্রে’র মতো স্প্রে করে পরিবেশ দূর্গন্ধময় করে চলেছেন অক্লান্তভাবে।

প্রিয় পাঠক, এবার দেখুন ইসলামবিদ্বেষীদের ঘৃণার গরল ছড়ানোর কিছু ‘নমুনা’ :

পামেলা গ্যালারের ইসলামফোবিয়া ও মিথ্যাচারের কিছু নমুনা
http://www.youtube.com/watch?v=D_wqt9edqOQ&feature=player_embedded
http://www.youtube.com/watch?v=HzPTkFTx98E&feature=player_embedded
রবার্ট স্পেন্সারের সাথে পামেলা গ্যালার
http://www.youtube.com/watch?v=kx-5ggGY2mU&feature=player_embedded
এরা সাদা চামড়ার হওয়াতে হিন্দু বর্ণবাদি এবং নব্য শিক্ষিত কিছু মুসলিম এদের লেজুড়বৃত্তি করে।

স্টিভেন এমারসন এর ইসলামোফোবিয়ার নমুনা দেখুন-
http://www.youtube.com/watch?v=05eghPOTcxA&feature=player_embedded
http://www.youtube.com/watch?v=vxEQ9yVc3S4&feature=player_embedded
প্যাট রবার্টসন আর রবার্ট স্পেন্সার এর ইসলামোফোবিয়ার নমুনা:
http://www.youtube.com/watch?v=NU4vJKb_QC8&feature=player_embedded
http://www.youtube.com/watch?v=lgL8FDUtkWQ&feature=player_embedded