ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

আসুন ইতিহাসের গল্প শুনি, আমাদের ইতিহাসের গল্প শুনি। ইতিহাসকে যেভাবে তুলে ধরা হবে সে সেভাবেই চলবে, এই নিয়ম আমাদের ইতিহাসও মেনে চলছে। ইতিহাসের গল্প পাঠ্যপুস্তক থেকেই শুনে আসি। আমাদেরকে যারা ইতিহাস শিখিয়েছেন তারা নিজেদের প্রয়োজনে ইতিহাসকে নানাভাবে বলৎকার করেছেন। তাদের বলৎকারের ফসল হিসাবে বিভিন্ন ইতিহাস আমাদের চোখের সামনে এসেছে, আমাদের মস্তিষ্কে আটকে গেছে। ইতিহাসকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে বলৎকার করা হয়েছে। কোন সময় ধর্মের নামে, কোন সময় রাজনীতির নামে, কোন সময় ব্যাবসায়িক উন্নতির জন্য, কোন সময় শাসন চিরজীবনের জন্য পাকাপোক্ত করার জন্য ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম কিছু ইতিহাসের বলৎকারের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সত্য কিছু ইতিহাস সবার সামনে তুলে ধরার জন্য আমার লেখা। শুরু করলাম, চালিয়ে যেতে পারবো কি না জানি না।

গল্প-১

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বিহার দখল করে এক বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়ে ফেলে, যা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরানো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি ছিল। খলজি বাংলার নিরীহ শাসক লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ১২০৫ সালে তার রাজ্যের রাজধানী দখল করেন। বহু নিরীহ বাঙালি নিজ মাটিতেই তার ধারালো তরবারির কোপে মস্তক হারিয়েছে। বহু বঙ্গ নারী হয়েছে গণিমতের মাল। এভাবেই বাংলা মৃত্যুপুরীতে পরিণীত হয়েছিল এই মহান ‘মালিক গাজী ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী’ এর জন্য।

পাঠ্যপুস্তকের কল্যাণে ছোটকাল থেকে এই ডাকাত, দখলদারকে আমরা নায়ক বানিয়েছি। এভাবেই ধর্মের প্রয়োজনে যখন যাকে ইচ্ছা নায়ক বানানো হয়েছে আবার যাকে ইচ্ছা ভিলেন বানানো হয়েছে। এই ধর্মের কারণেই খুনি, ডাকাত খলজি আমাদের কাছে হয়েছে মহান।

(চলবে)