ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল রাজনীতির ধোয়া তুলসি পাতা ইলিয়াস আলি নিখোঁজ হইছে। অনেকেই কন সরকার করছে, অনেকেই কন বিরোধী দল। দেশ হইয়া গেছে স্থবির, চলতাছে অরাজকতা। যাহোক এই আকাম কে করছে সেইডা বড় ব্যাপার না, ব্যাপার হচ্ছে সরকার এখনও কোন কুল কিনারা করতে পারল না। এটা সরকারের ব্যর্থতা এবং এই ব্যর্থতার সুযোগ অনেকেই নিচ্ছে এবং ব্যর্থতার মূল্য জনগণকে তথা দেশকে দিতে হচ্ছে। অনেকেই কন এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিপর্যয়ের সূত্রপাত হল। ওমা! কি কই? কেম্নে? আরে ভাই শুরু এখন কেন হইব, একটু পিছনে তাকান না! সব বাদ দিলাম কিন্তু কিবরিয়া, আইভি, আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুর ইমাম রে ভুললেন কেম্নে? নাকি তাঁরা ইলিয়াসের থেকে কম কিছু!

আসেন জন্ম থেইক্যা শুরু করি। “গণতন্ত্রের বিপর্যয়” শুরু হইছে যখন শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়। আইন কইরা যেদিন মুজিব হত্যার বিচার নিষিদ্ধ করা হয় সেদিন “গণতন্ত্রের বিপর্যয়” শুরু হইছে, এরপরে এরা থামে নাই। চলতাছে, কবে যে থামবে খোদাই জানে!

“গণতন্ত্রের বিপর্যয়” হইছে যেদিন জেলের মধ্যে ঢুইকা মারা হল চারজন জাতীয় নেতাকে। কিসের বিচার কিয়ের কি, যখন ২০ বছর পরে বিচার শুরু হইল তখন বিচারকে করা হইল প্রভাবিত। লজ্জাজনক রায়ের মাধ্যমে অপমানিত করা চার জন জাতীয় বীর এবং তাদের পরিবারকে।

“গণতন্ত্রের বিপর্যয়” শুরু হইছে সেদিন, যেদিন একজন রাজাকারকে বানান হইল এই দেশের প্রধান্মন্ত্রী। যেদিন গো আযম এন্ড কোংদের দেশে ফেরার এবং রাজনিতী করার সুযোগ দেওয়া হইল সেদিন বিপর্যয়ের শুরু হইছিল।

“গণতন্ত্রের বিপর্যয়” শুরু হইছিল যেদিন জিয়াউর রহমান নিহত হইল সেদিন। এরপরে তাঁর দল দুই টার্ম ক্ষমতায় থাকল কিন্তু কিসের কি, বাকিগো খাইয়া দাইয়া এই কামের টাইম পাই নাই।

“গণতন্ত্রের বিপর্যয়” হইছে যখন ইলিয়াসের উল্টা মেরুর লোক শাহ এম এস কিবরিয়া, আহসাউল্লাহ মাস্টার মঞ্জুর ইমাম, আইভি রহমানদের হত্যা করা হল। বিপর্যয় হইছিল যখন হুমায়ুন আজাদের উপরে আক্রমণ করা হইল। বিপর্যয় হইছিল যখন একটা দলের প্রধানরে গ্রেনেড মাইরা উড়াইয়া দেওয়ার খায়েশ হইছিল তখন। এর থেকে কি বড় বিপর্যয় সম্ভব?

গণতন্ত্র আজ এতটাই বিপর্যস্ত যে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিশেবে। বুয়েট, চুয়েট এবং জাবিতে চলছে অচলাবস্থা।

যাহোক অনেক কিছু মনে কইরা দিলাম আপানাদের ভুলু মনকে, মাইন্ড খাইয়েন না! শেষ করনের আগে কই, ভাই “গণতন্ত্রের বিপর্যয়” খুব সুন্দর শোনায়! কিন্তু যেখানে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, আদর্শ অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে সেখানে এরকম শব্দের চর্চা করা ঠিক মানায় না। শিষ্টাচার, আদর্শ যদি থাকত তবে উপরের সবগুকিছুর দৃষ্টান্ত মূলক বিচার হত। আর যদি হত তবে ইলিয়াস কাহিনী আমাদের সামনে আসত না। এখন যদি সরকার এইখানেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ইলিয়াস কাহিনীর কুল কিনারা না করতে পারে তবে কিন্তু ভবিষ্যত অন্ধাকার!