ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

“কেউ যদি অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা করে, তাহলে সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করল।”- আল কোরআন।

ইসলামের যাবতীয় ব্যাপারে চূড়া মাপকাঠি হচ্ছেন আল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহর কালাম আল-কোরআন। আল-কোরআনের কোথাও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য মানুষকে বাধ্য করার কথা বলা হয়নি। বরং আল-কোরআনের পরতে পরতে আল্লাহর অস্তিত্ব উপলব্ধির জন্য মানুষের বিবেকবোধকেই নাড়া দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনার আহবান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে সৃষ্টির মধ্যেই নিহিত রয়েছে স্রষ্টার নিদর্শন। স্রষ্টার অস্তিত্ব উপলব্ধির জন্য বিভিন্ন যুক্তি-প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের বিবেক ও চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানোর আহবানের মাধ্যমে মূলত মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদকেই উৎসাহিত করা হয়েছে।

আল-কোরআনের পরতে পরতে স্রষ্টার নিদর্শন তুলে ধরার পাশাপাশি বলা হয়েছে- “দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। হেদায়েতের পথ থেকে গোমরাহিকে পৃথক করে দেখানো হয়েছে। এখন যেকেউ ‘তাগুত’কে প্রত্যাখান করে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে, সে এমন একটি মজবুত রজ্জু (অবলম্বন) ধারণ করেছে যা কখনও ছিঁড়ে যাবে না। আর আল্লাহ সব কিছু শুনেন ও জানেন।” [আল-বাকারা: ২৫৬]

আর আল্লাহর কালাম আল-কোরআনকে মানার ক্ষেত্রে যথার্থ মডেল বা আদর্শ হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। রাসূলের জীবনাদর্শের দিকে তাকালে আমরা দেখব, তিনি ইসলাম কায়েমের জন্য কোন নেতিবাচক পথ কিংবা চরমপন্থাকে গ্রহণ করেননি। বরং তাঁর পথ ছিল দাওয়াতের পথ। অর্থাৎ ইতিবাচক পন্থায় ইসলামের শিক্ষাকে তিনি মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন। আল্লাহর বিধান অনুসরণের গুরুত্ব ও সুফল তিনি মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন এবং পাশাপাশি ঐশী হেদায়াত প্রত্যাখ্যানের পরিণাম সম্পর্কেও তিনি মানুষকে সতর্ক করে দিতেন। কিন্তু সত্যের আদর্শ ইসলামকে গ্রহণ করার জন্য তিনি কখনো মানুষকে বাধ্য করেননি। জোর করে আল্লাহর বিধান মানব সমাজে চাপিয়ে দেননি কিংবা চরমপন্থায় ইসলামী শাসন কায়েম করেননি।

এটা আল্লাহর নির্দেশ ছিল যে, তিনি তাঁর নবীকে ‘দারোগা’ করে পাঠাননি। কারণ আল্লাহর নেয়ামত অপাত্রে দেয়ার মত বিষয় ছিল না। যে জাতি আল্লাহর হেদায়াত গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়, আল্লাহ জোর করে তাদের উপর তাঁর হেদায়াত চাপিয়ে দিতে চান না। অবশ্য যারা আল্লাহর কালামকে গ্রহণ করতে আগ্রহী হয় কেবল তাদেরকেই তিনি এ নেয়ামতের সুফল ভোগ করার সুযোগ প্রদান করেন।

এ কারণে ইসলামী সমাজ কায়েমের ক্ষেত্রে জনমতটি ছিল সব সময়ই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। গণমত ইসলামের অনুকূল হলেই কেবল ইসলাম কায়েম সম্ভব হয়েছে, আর যেখানে জনমত ইসলামের প্রতিকূলে ছিল, সেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের আদর্শই হচ্ছে দ্বীনের যথার্থ ভিত্তি এবং ইসলামী আদর্শের চিরন্তন উৎস। আল্লাহর আইন বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হলেও তা কেবল আল্লাহর কালামের দিক-নির্দেশনা ও রাসূলের দেখানো পথেই করা যেতে পারে।

ইসলামের নামে নিজেদের খাম-খেয়ালীপনার মাধ্যমে কিংবা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ-বিরোধী পন্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না এবং তা কখনো গ্রহণযোগ্যও নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন অত্যন্ত সুষ্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন:

“হে নবী, লোকদের বলে দাও, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াবান। তাদের বল, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কবুল কর। এরপর তারা যদি তোমাদের দাওয়াত কবুল না করে, তাহলে সে লোকদেরকে- যারা তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে, তাদেরকে আল্লাহ কিছুতেই ভালোবাসতে পারেন না।”- [আলে ইমরান: ৩১-৩২]।

“নিঃসন্দেহে রাসূলের জীবনে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। অবশ্য তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ও পরকালীন মুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী এবং যারা আল্লাহকে বহুল পরিমাণে স্মরণ করে।”- [আহযাব: ২১]

তাহলে আমরা কেন দারোগার ভূমিকায় যাবো? কেন নিজে নিজেই ধর্মের মাণদণ্ড ঠিক করবো? আসুন সবাই ধর্ম প্রতিষ্ঠায় অধর্মের কাজ না করে আল্লাহ হুকুম ও রাসূলের আদর্শে জীবন চালাই।