ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহ-৬, বাংলাদেশের সর্বাধিক উপেক্ষিত অঞ্চলগুলোর একটি । ১৯৯১ থেকে ২০১২, অর্থাৎ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকায় যা উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে তার অর্ধেকও এই এলাকায় হয় নি । প্রতি নির্বাচনে যে দল জয়লাভ করেছে ফুলবাড়ীয়ার মানুষ সেই দলীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করলেও তার কোনো রকম সুফল এই এলাকার লোকজন পায় নি । নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধিই এই এলাকার উন্নয়নের জন্য তেমন কোনো ভূমিকা পালন করেন নি । অথচ সবাই ঝুড়ি ভর্তি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছে । আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে ফুলবাড়ীয়া বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি হলেও বঞ্চনার শীর্ষে এই এলাকার লোকজন ।

আসুন নির্দিষ্টভাবে খোলামেলা কিছু আলোচনা করি । আছিম বাজার থেকে পাটিরা ও বিদ্যানন্দ হয়ে ফুলবাড়ীয়া পর্যন্ত প্রায় পনের কিলোমিটার রাস্তা । এই রাস্তাটি আছিম, কালাদহ, ভবানীপুর ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের লোকজনের জন্য উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম । অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি গত বাইশ বছরেও পাকা হয় নি !1991 সালের নির্বাচনে বি এন পি জয়যুক্ত হবার পর তত্কালীণ নির্বাচিত প্রতিনিধি(বি এন পি দলীয় সাংসদ) উক্ত রাস্তাটির পনের কিলোমিটারের প্রায় সাত কিলোমিটার অর্থাত্ ফুলবাড়ীয়া থেকে বিদ্যানন্দ বাজার পর্যন্ত ইট বিছিয়ে পাইলিং বা সলিং করে দিয়েছিলেন । তাতেই তার পাঁচ বছর পার । তারপর সলিং রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে অত্র এলাকার লোকজন রিকশার তুমুল ঝাঁকি আর হোঁচট খেতে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলেন । তত্কালীণ প্রতিনিধি হয়ত পনের কিলোমেটারের-ই সেনশন করিয়ে ছিলেন, কিন্তু প্রায় সাত কিলোমিটার সলিং করতেই কীভাবে টাকা ফুরিয়ে গেল ? সে রহস্য এখনো উদঘাটণ হয় নি ।

দেশে আবার নির্বাচন এল । শুরু হল সম্ভাব্য প্রতিনিধিগণের প্রতিশ্রুতি দেবার পালা । নির্বাচন হল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জয়লাভ করল । এই এলাকার মানুষ নতুন আশায় বুক বাধল, এবার হয়ত আমাদের রাস্তাটি হবে । কিন্তু আওয়ামীলীগের নির্বাচিত প্রতিনিধির দৌড়ও ঐ সাত কিলোমিটারের বেশি ছিল না । তিনি উক্ত সাত কিলোমিটারের ইট তুলে সরু করে পাকা করে দিলেন । শেষ হয়ে গেল তার পাঁচ বছর । এই এলাকার মানুষ এক বুক হতাশা নিয়ে দিন কাটাতে শুরু করল ।

দেশে এরপর আরো দুইটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল, এই এলাকার লোকজন ভোটও দিলো কিন্তু তাদের অতি প্রয়োজনীয় রাস্তাটি এখনো হয় নি । শেষবার বি এন পি নির্বাচিত হবার পর তাদের দৌড়ের সীমানা কিঞ্চিত্ বাড়ালেন । বিদ্যানন্দ বাজার থেকে পাটিরা পর্যন্ত ইট বিছিয়ে সলিং করে দিলেন । শুরু হল ফের ঝাঁকি আর হোঁচট খাবার পালা । এবার শুধু পাঁচ বছর নয়, সাত বছর হোঁচট খেতে হল । বি এন পি গেল, তথাকথিত তত্ত্বাবোধক সরকারও গেল । দেশে আবার নির্বাচন হল, আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এল । রাস্তা পাকা করবেন বলে আওয়ামীলীগের বর্তমান প্রতিনিধি সেই রাস্তার সলিং-র ইট তুলে বিক্রি করে দিয়েছেন । কিন্তু এখনো রাস্তা পাকা হয় নি । আওয়ামীলীগ সরকারের আর মাত্র এক বছর বাকী । গত বাইশ বছরেও যে রাস্তাটি পাকা করা সম্ভব হয় নি, সেটি আগামী এক বছরে কী করে হবে ? কিংবা আদৌ হবে কিনা কে জানে ?