ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (আইইউটি) তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করলো ন্যাশনাল আইসিটি ফেস্ট ২০১১। গাজীপুরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে দু’দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এই আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা দেয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এবারের আয়োজনের অনলাইন মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।

সকাল ১১টায় ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ন্যাশনাল আইসিটি ফেস্ট ২০১১-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইইউটি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. মো. আফসারুল আমিন-এর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত তিনি আসতে পারেননি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হক। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইইউটি কম্পিউটার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট শেখ জিসান কবির এবং সিআইটি ডিপার্টমেন্টের প্রধান মো. আব্দুল মোতালিব।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে আইইউটি’র ভিসি প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানান, ‘একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির যুগে দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য আইসিটি প্রযুক্তির বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। দেশের যুবক-যুবতীদের মাঝে এ ব্যাপারে আগ্রহ ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এ আয়োজন।‘ তার মতে, পাশের দেশগুলো এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ উন্নয়নে বেশ ভূমিকা রাখছে। সে তুলনায় আমাদের দেশ এখন পর্যন্ত এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আশা করি এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিযে সুফল পাওয়া যাবে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।‘

উব্দোধনী অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলর ইমতিয়াজ হোসেন জানান, আইইউটি ন্যাশনাল আইসিটি ফেস্ট ২০০৯ এবং ২০১০ এর সফল আয়োজনের পর এবারের আয়োজনে আরো বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এ ধরনের উদ্যোগ মানুষকে প্রযুক্তির প্রতি উৎসাহী করে তোলে।

দু’দিনব্যাপী এই আয়োজনে রয়েছে গেমিং প্রতিযোগিতা, আইসিটি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, প্রোগ্রামিং কন্টেস্টসহ নানা আয়োজন। এছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক নানা প্রজেক্ট প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রয়েছে এবারের আইসিটি ফেস্ট-এ।

দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেড় সহস্রাধিক প্রতিযোগী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেড় সহস্রাধিক প্রতিযোগী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে।

আপডেট দুপুর ১.৩০
অতিথিরা অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রোবোটিক গেমার, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘরের লাইট, ফ্যান ইত্যাদি চালু ও বন্ধ করার প্রযুক্তি ইত্যাদি।

উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রজেক্ট ঘুরে দেখছেন অতিথিরা।

এদিকে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে গেমিং কন্টেস্ট। ফিফা ২০১১ এবং কাউন্টার স্ট্রাইক এই দু’টি গেমে প্রচুর সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন এবারের গেমিং কন্টেস্টে।

অন্যদিকে সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। দু’দিনব্যাপী এই আয়োজনের আজ প্রথম দিন থাকলে সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর, গেমিং কন্টেস্ট, প্রজেক্ট শোকেসিং এবং প্রোগ্রামিং কন্টেস্টের প্র্যাকটিস রাউন্ড।

আপডেট ২
আইবিবিএল আইইউটি ৩য় ন্যাশনাল আইসিটি ফেস্ট ২০১১ অনুষ্ঠানে সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর সেরা চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত এ পর্বে বিভিন্ন রাউন্ডের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সেরা স্থান দখল করে নেয় সেইন্ট যোসেফ স্কুল।

এদিকে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মক টেস্ট ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ও শেষ দিন ৮ই এপ্রিল শুক্রবার।

সবমিলিয়ে জমজমাট ছিল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির আইসিটি ফেস্ট-এর এবারের আয়োজন। আজ প্রথম দিন সব মিলিয়ে গেমিং প্রতিযোগিতা এবং সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর পর্ব সম্পন্ন হলো। আগামীকাল বিজ্ঞান ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপর সেমিনার, আইসিটি অলিম্পিয়াড, গোলটেবিল আলোচনা এবং প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আয়োজিত হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এদিন দৃষ্টিনন্দন লেজার শো এবং আতশবাজির মাধ্যমে এবারের আয়োজন শেষ হবে বলেও জানিয়েছেন আইইউটি কর্তৃপক্ষ।

দ্বিতীয় ও শেষ দিন

আইবিবিএল আইইউটি তৃতীয় ন্যাশনাল আইসিটি ফেস্ট ২০১১ এর শেষদিন আজ ৮ই এপ্রিল সকাল থেকে শুরু হয়েছে প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট। এছাড়াও এদিন অনুষ্ঠিত হয় আইসিটি বিষয়ে সেমিনার। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রফেসর আব্দুস সোবহান, আইইউটির সিআইটি ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ড. মো. হাসানুল কবির,প্রফেসর ড. কায়কোবাদ, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রফেসর ড. আখতার হোসেন। এ সময় তিনি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তার একটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করেন। তিনি জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ব্রেইল মোবাইল ফোনে কীভাবে আনা যায় এ বিষয়ে তিনি গবেষণা চালাচ্ছেন। কেননা, কাগজের ব্রেইলে হাতের ঘর্ষণে একসময় তা অনেকটা সমতল হয়ে যায়। ফলে, সেগুলো পড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অনেকটা কষ্টকর হয়ে যায়। যদি মোবাইল ফোনে ব্রেইল প্রযুক্তি আনা যায়, তাহলে সেই সমস্যা দূর করা যাবে এবং ব্রেইল অনেক সহজলভ্য হবে। ফলে লাভবান হবে অনেক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ।

এদিকে দুপুরের পর আইসিটি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় আইইউটি অডিটোরিয়ামে। অন্যদিকে চলতে থাকে প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট।

চলছে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগী দলগুলো সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত।

বিকেল পাঁচটায় অনুষ্ঠিত হয় রাউন্ডটেবিল বৈঠক। “ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং পল্লী উন্নয়ন” শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ হোসেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার, প্রফেসর আব্দুস সোবহান, প্রফেসর ড. কায়কোবাদ, প্রফেসর ড. আখতার হোসেন এবং আরো অনেকে। বৈঠকে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের পল্লী এলাকাগুলোর উন্নয়নের প্রতিও জোর দিতে হবে। কৃষকদেরও আইসিটি বিষয়ে সাহায্য দেয়ার জন্য আসলে তেমন কিছুই করা হচ্ছে না বলেও মত দেন বক্তারা। তারা প্রস্তাব রাখেন, কেবল কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে এসএমএস বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করা এবং তাদের সারের চাহিদা এসএমএস-এর মাধ্যমে সরকারকে জানানোর ব্যবস্থার সৃষ্টি করা।

বৈঠকে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে মানুষের মধ্য থেকে তিন ধরনের অজ্ঞতা দূর করতে হবে। তার মতে, তথ্য বিষয়ক অজ্ঞতা, ভাষাগত অজ্ঞতা এবং আইসিটি বিষয়ে অজ্ঞতা।’ এই দিন ধরণের অজ্ঞতা দূর করা গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সহজ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

গোলটেবিল বৈঠক শেষে শুরু হয় আইইউটি ৩য় ন্যাশনাল আইসিটি ফেস্ট ২০১১-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় আইসিটির প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

প্রোগ্রামিং কন্টেস্টের বিজয়ী দল পুরস্কার গ্রহণ করছেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কন্টেস্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এ বছর প্রোগ্রামিং-এ চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম এবং প্রজেক্ট শোকেসিং-এ চ্যাম্পিয়ন হয় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রোবোটিক’ প্রজেক্ট।সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় সেইন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রজেক্ট শোকেসিং-এ বিজয়ী ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির তৈরি রোবোটিক।

ভিডিও

রোবোটিক-এর উপর তৈরি একটি ছোট ভিডিও দেখুন নিচেঃ

প্রধান অতিথি হাসানুল হক ইনু ভাইস চ্যান্সেলের প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ হোসেনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন।

এরপর সমাপনী বক্তব্য প্রদান, লেজার শো এবং আতশবাজির মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই ফেস্টিভালের সমাপ্তি টানা হয়।

দ্রষ্টব্যঃ ইন্টারনেট সংযোগ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনুষ্ঠানটি লাইভ ব্লগিংয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠানটির তাৎক্ষণিক আপডেট দেয়া সম্ভব হয়নি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।