ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব। এই বাহিনীর উৎপত্তি ঠিক কত সালে আমার মনে নেই। তবে যখন উৎপত্তি হয় তখনকার কথা বেশ মনে আছে। অনেকটা SWAT টিমের মতো কালো পোশাক, কালো চশমা, কালো অস্ত্র আর কালো কুকুর নিয়ে এদের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড দেখতে বেশ ভালোই লাগতো। রাস্তাঘাটেও র‌্যাবের সদস্যদের মানুষ বেশ উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাতো।

এসবের পরিবর্তন আসে যখন কিছুদিন পর শুরু হয় ক্রসফায়ারে সন্ত্রাসী নিধন। পত্র-পত্রিকায় মানবাধিকার কর্মীদের কলামে দেখতাম এভাবে সন্ত্রাসী হত্যার বিরুদ্ধে কত কত কথা। আমার তখন মেজাজ বেশ খারাপ হতো। যারা মানুষ খুন করে, তাদের খুন করতে আবার বিচার করা লাগবে কেন? ক্রসফায়ারই এদের প্রাপ্য। বলা বাহুল্য, এখনও আমি তাই মনে করি। কিন্তু প্রথম দিকের মতো র‌্যাবের প্রতি শ্রদ্ধা এখন আর নেই। আর এর কারণ তারা ইতিমধ্যেই আন্দাজ করে নিয়েছেন যারা দেশের খবর কিছুটা হলেও রাখেন।

ক্রসফায়ারে পড়ে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনা। লিমনের ক্ষেত্রে ধরে নিলাম তাই হয়েছে। একটু অসতর্কতা হতেই পারে। এটা মেনে নিতে কষ্ট হবে। একটা মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হলো। সেই সদস্যদের অবশ্যই আমি ঢাকার চেষ্টা করছি না। কিন্তু তারাও মানুষ, সেই হিসেবে আমি প্রথমে ভুলটা মেনে নিতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু এখন আর মেনে নিতে পারছি না। প্রথমে র‌্যাব নিজেও ভুল স্বীকার করল। অথচ এখন সাধারণ এই মানুষটার পুরো পরিবারকেই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করছে। এতোটাই কি কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে? আমি অন্তত হার্ড এভিডেন্স পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বাস করছি না। বিশ্বাস উঠে গেছে র‌্যাবের হাত থেকে। ‘রক্ষক যখন ভক্ষক’ এমন শিরোনাম পত্রিকা ঘাঁটলে বহু পাওয়া যাবে। কিন্তু র‌্যাব নিয়ে বোধহয় এই প্রথম এমন শিরোনাম করা সম্ভব হচ্ছে।

এখন আর নিজেকে নিরাপদ মনে হচ্ছে না। যে কোনো সময় দু’পক্ষের বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে হাত-পা কিংবা প্রাণও হারাতে পারে। I just need to be in the wrong place in the wrong time. তাহলেই র‌্যাবের কেল্লাফতে। আমার জীবনেও আসতে পারে পঙ্গুত্ব বা মৃত্যু, সেই সঙ্গে পরিবারসুদ্ধ সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ।

এদেশের যারা সাধারণ সাধারণ নাগরিক, যারা মূলত রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাদেরই জীবনের এক পয়সা দাম নেই। উপরন্তু আছে র‌্যাব-পুলিশের মতো হাউন্ড। এর চেয়ে বোধহয় বিদেশে গিয়ে ভিক্ষা করাও ভালো। সেখানে ভিক্ষুকদেরও পুলিশ যথেষ্ট সম্মান দেয়।