ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

গত কয়েক দিন থেকে অশান্ত আশুলিয়া ও কাঁচপুর। বন্ধ হয়ে গেছে আশুলিয়ার সব গার্মেন্টস কারখানা। ৩১ অক্টোবর ২০১০ প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সর্ব নিম্ন বেতন তিন হাজার টাকা। সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে চুক্তি হয়েছিল আগামী দুই বছরের মধ্যে আর কোন বেতন বৃদ্ধির দাবি তোলা হবে না। দু্ই বছর পূর্ন হতে এখনো কয়েক মাস বাকী, তার আগে কেন অশান্ত হয়ে উঠল শিল্পাঞ্চল? তাদের উদ্দেশ্য কি শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধি না অন্য কোন কারন রয়েছে এর পেছনে। আমার চাকুরী জীবনে অনেক বার শ্রমিক আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু তাদের সব আন্দোলন শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য ছিল না। অধিকাংশ আন্দোলন হয়েছে কর্মঘণ্টা, টিফিনের মান, দেরিতে বেতন প্রদান, পারিশ্রমিক কম দেয়া, জরিমানা, জুলুম ও নির্যাতনের জন্য। আজকে যদি শ্রমিকের সর্বনিম্ন বেতন তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হয় তবে শ্রমিকের আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি না। যেখানে গেজেটে গ্রেড-৩ এর শ্রমিকের বেতন ৪২১৮ টাকা কিন্তু বাস্তবে এক গ্রেড-৩ এর সিনিয়র অপারেটরকে ৪৫০০ টাকা বা তারও বেশি বেতন দেয়া হয়ে থাকে। অতএব বেতন বাড়লে যে আন্দোলন বন্ধ হবে এটা ভাবা ঠিক হবে না।

শ্রমিকের আন্দোলনের কয়েকটি কারণ:
১। দেরিতে বেতন বা মজুরী প্রদান: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১২৩। (১) ধারা অনুসারে “কোন শ্রমিকের যে মজুরী কাল সম্পর্কে তাহার মজুরী প্রদেয় হয় সেই কাল শেষ হওয়ার পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাহার মজুরী পরিশোধ করিতে হইবে।“

কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ গার্মেন্টসে এই ধারাটি মানা হয়না। অনেক গার্মেন্টস আছে যেখানে ১ মাসের বেতন হাতে রাখা হয়। অর্থাৎ মাস শেষ হওয়ার ২৬ কর্মদিবসেও বেতন প্রদান করা হয়না। আমি আমার চাকুরী জীবনের অধিকাংশ মাসের বেতন পেয়েছি মাস শেষ হওয়ার ১৫-২০ কর্মদিবস পর, এমনকি একটানা দুই মাসও বেতন পাইনি। যার কারনে প্রায় সময় আন্দোলন হয়ে থাকে।

২। কর্মঘণ্টা: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১০০ ধারা অনুসারে “কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ দৈনিক আট ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করিবেন না বা তাহাকে দিয়ে কাজ করানো যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে কোন প্রতিষ্ঠানে উক্তরূপ কোন শ্রমিক দৈনিক দশ ঘণ্টা পর্যন্ত ও কাজ করিতে পারিবেন।“

কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে অধিকাংশ গার্মেন্টসে শ্রমিকদের দৈনিক কর্ম ঘন্টা দশের ওপরে। অনেক সময় আর্জেন্ট শিপমেন্ট-এর কথা বলে দৈনিক ১৮ ঘন্টারও বেশী কাজ করে নেয়। আমিও একটানা ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করেছি। বাংলাদেশে অধিকাংশ গার্মেন্টসে কাজ শুরু হয় সকাল ৮-৯ টার মধ্যে, আমরা অফিসাররা সাধারণত ৮-১০ ঘন্টা কাজ করার পর বাসা চলে যাই, কিন্তু অধিকাংশ শ্রমিক বাসায় ফিরে রাত ১০-১২ টার মধ্যে। একদিন এক শ্রমিক আমাকে বলে স্যার আপনারা অনেক সুখে অছেন, আমি বললাম তোমরা স্বামী-স্ত্রী (স্বামী লাইন চীপ ও স্ত্রী অপারেটর) দুজনে চাকুরী কর, ভালো টাকা-পয়সা পাও, আমি তোমাদের চেয়ে সুখে আছি সেটা কিভাবে? সে বলল “স্যার আমরা সকালে খাই গরম ভাত, দুপুরে ঠান্ডা ভাত এবং রাতে পান তা ভাত”। আমি বললাম রাতের খাবার তো রান্না করে খেতে পারো? সেই অপারেটর আমাকে বলে “স্যার রাত ১২ টায় গার্মেন্টস ছুটি হয় বাসায় যেতে রাত ১ টা বাজে রান্না করে খেলে ঘুমানোর সময় থাকেনা, তাই পান্তা খেয়ে ঘুমাই”। এই অধিক কর্মঘন্টার কারনে তারা তাদের সন্তানকে কাছে রাখতে পারেনা। তারা বড় হয় দাদা-দাদীর অথবা নানা-নানীর কাছে। যদিও অনেক গার্মেন্টসে ডে-কেয়ার সেন্টার আছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অপ্রতুল। কিছু কিছু গার্মেন্টসে ডে-কেয়ার সেন্টার শুধুমাত্র বায়ারেকে দেখানোর জন্য সেখানে কোন বাচ্চা রাখতে দেওয়া হয়না। যেদিন বায়ার অডিট আসে সেদিন বাচ্চা ভাড়া করে এনে রাখা হয়। এই হচ্ছে ডে-কেয়ার সেন্টার।

৩। ছুটি: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১১৫ ধারা অনুসারে “প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে দশ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি পাইবার অধিকারী হইবেন, এবং উক্তরূপ ছুটি কোন কারণে ভোগ না করিলেও উহা জমা থাকিবে না এবং কোন বৎসরের ছুটি পরবর্তী বৎসরে ভোগ করা যাইবে না ।“ অনেক গার্মেন্টসে ১০ দিন তো দুরের কথা ১ দিনও ছুটি দেওয়া হয়না। আমি বাংলাদেশের নাম করা এক গার্মেন্টসে জয়েন্ট করার পর দেখলাম সেখানে অনুপস্থিতের হার অনেক বেশি, এর কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম এখানে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়না। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করলাম যে, ছুটি না দেয়ার কারনে শ্রমিকেরা অধিক হারে অনুপস্থিত থাকছে যার দরুন প্রডাকটিভিটি কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেন এবং নোটিশ করার পর অনুপস্থির হার অনেকটাই কমে গেল। অনেক কারখানায় সাপ্তাহিক ছুটিও প্রতি সপ্তাহে দেয়া হয়না, সেখানে এক সপ্তাহ পরপর ছুটি দেয়া হয়।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ৪৬৷ (১) ধারা অনুসারে “প্রত্যেক মহিলা শ্রমিক তাহার মালিকের নিকট হইতে তাহার সন্ত্মান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী আট সপ্তাহ এবং সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী আট সপ্তাহের জন্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন, এবং তাহার মালিক তাহাকে এই সুবিধা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, কোন মহিলা উক্তরূপ সুবিধা পাইবেন না যদি না তিনি তাহার মালিকের অধীন তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পূর্বে অন্যুন ছয় মাস কাজ করিয়া থাকেন৷” অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রম আইনের এ ধারাটি মানা হয় না। তাকে ছলে বলে কৌশলে ছাটাই করা হয়ে থাকে।

৪। নিম্ন মানের টিফিন: গার্মেন্টসে যখন টিফিন দিয়ে ওভার টাইম করানো হয় তখন অনেক নিম্ন মানের টিফিন দেয়া হয়। অনেক সময় শ্রমিকরা বলে, “স্যার যে প্যাডিশ খাইতে দেন সেটা তো খাওয়া যায় না, আমাদের এডমিন স্যারদের বললে বলে পা দিয়ে চেপে ধরে দাঁত কামড়ে কামড়ে খা। বলে স্যার একথা শুনলে কার মেজাজ ঠিক থাকে”। অনেক জায়গায় টিফিনের জন্য বরাদ্দ মাত্র পাঁচ টাকা। যখন কোন পিএম বা এডমিন ম্যানেজার একটা রেস্টুরেন্টে টিফিনের অর্ডার দেয় বলে চার টাকার করে এক হাজার পুরি লাগবে তখন টিফিনটা হয়ে যায় চার টাকার। এই চার টাকার টিফিন খেয়ে কি করে আরও তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা কাজ করবে। কিছু কিছু কারখানায় টিফিনের জন্য পনেরো থেকে বিশ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ থাতে সেখানে অসাধু কর্মকর্তাদের কারনে নিম্ন মানের খাবার দেয়া হয়। অনেক সময় বাস্তবে এক হাজার জন কাজ করলে এক হাজার দুইশত জনের টিফিনের টাকা নেয়া হয়। যার ফলে গার্মেন্টস মালিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। যা অনেক গার্মেন্টস মালিক জানেন না।

৫। পারিশ্রমিক কম দেয়া ও জরিমানা: বেতন দেয়ার দিন অধিকাংশ শ্রমিক বলে স্যার আমি দশ ঘন্টা, কেউ বলে আট ঘন্টা আবার কেউ বলে বার ঘন্টা ওটির (ওভার টাইম) টাকা কম পেয়েছি। আমি অনেক সময় হিসাব করে দেখেছি আসলেই তাদের টাকা কম দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের অনেকের পাওনা টাকা দেয়া হয়েছে।
এখানে কথায় কথায় জরিমানা করা হয়, শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ওভার টাইম এবং স্টাফদের হাজিরা কাটা হয়ে থাকে।

৬। জুলুম ও নির্যাতন: শ্রমিকদের উপর কারনে অকারনে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করা হয়। অনেক সময় মারধরও করে থাকে। শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালায় সাধারনত সুপারভাইজার, লাইন চীপ, এপিএম ও পিএম। এবং এদের উপর জিএম কিংবা ডাইরেক্টর বা কিছু কিছু গার্মেন্টস মালিকও নির্যাতন চালিয়ে থাকে। আমি এমনও এক গার্মন্টস মলিক দেখেছি যার মুখে কখনো একটা ভালো কথা শুনিনি। তিনি সব সময় গালি দিয়ে কথা বলতেন। এখানে ডাক্তারি পরীক্ষার নামে অনেক সময় মেয়েদের যৌন হয়রানি করা হয়ে থাকে। একবার এক গার্মেন্টসে গণ্ডগোল শুরু হওয়ার সাথে সাথে কারখানার মেডিক্যালটাকে ভেঙ্গে ফেলল, কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারলাম ঐ ডাক্তার পরীক্ষার নামে মেয়েদের যৌন হয়রানি করত। তাই তাদের ক্ষোভটা সর্ব প্রথম ডাক্তারের উপর ঝেড়েছে। সেই ডাক্তার ছিল ঐ গার্মেন্টস মালিকের দুলাভাই।

৭। অদক্ষ ব্যবস্থাপনা: অনেক গার্মেন্টসে সাধারনত নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া লোক নিয়োগ করা হয়ে থাকে, এদের অধিকাংশের প্রাতিষ্ঠানিক কোন সার্টিফিকেট নেই, আর যে সার্টিফিকেটের কপি জমা আছে সেটা নকল বা অন্য কারো। দুলাভাই শালার নামে, শালা দুলাভাইয়ের নামে, ছোট ভাই বড় ভাইয়ের নামে, বড়ভাই ছোট ভাইয়ের নামে এখানে চাকুরী করে। এবং ব্যবস্থাপনার অধিকাংশ লোকজন গার্মেন্টস মালিকের আত্মীয়-স্বজন এরা কোন নিয়োম নীতির তোয়াক্কা করে স্বেচ্ছাচারিতা করে থাকে। মুলত এরা গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিকদের মাঝখানে দেয়াল হিসাবে কাজ করে। এরা গার্মেন্টস মালিককে গার্মেন্টসের প্রকৃত অবস্থা সমদ্ধে জানতে দেয় না। এই অবস্থার কারনে একজন জিএম একজন লাইন চীপ বা সুপারভাইজারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, ফলে চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়। জিএম স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পেরে দিন যায় আর টাকা গণনা করে এবং ভালো চাকুরীর সন্ধান করতে থাকে ফলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আমি পাশের কারখানার এক অপারেটরকে বললাম তুমি আমাদের জয়েন্ট করো, সে আমাকে না বলে দিল। কারণ জানতে চাইলে সে বলে “স্যার আমাদের গার্মেন্টসে মাসে পনের দিন কাজ করলে পুরো মাসের বেতন পাই”। আমি বললাম সেটা কিভাবে? সে বলে “আজকে আমি অফিসে যাইনি কিন্তু আমার হাজিরা কার্ড জমা হয়েছে, অতএব আজকের বেতন পাব”। আর যেখানে কার্ড পাঞ্চের ব্যবস্থা আছে সেখানে একজন দুই বা তিন জনেরও আইডি কার্ড পাঞ্চ করে থাকে। যা অসাধু কর্মকর্তা ও শ্রমিকের যোগসাযোগে হয়ে থাকে। যার দরুন প্রকৃত উপস্থিতির সাথে হাজিরা দানকারী শ্রমিকের হিসাবে গড়মিল পাওয়া যায়। অসাধু কর্মকর্তাদের একটা বড় অংশ মালিকদের আত্মীয়-স্বজন। গার্মেন্টস সেক্টরে মেধাবী লোকের সংখ্যা খুবই কম। গার্মেন্টস মালিকরা কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করলে মেধাবীরা এখানে কাজ করতে উৎসাহী হবে।

৮। বিদেশীদের আগ্রাসন: আমাদের দেশের অনেক গার্মেন্টস শিল্পে চীন, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, কোরিয়া ও ভারতের লোকজন ব্যবস্থাপকের কাজ করে থাকে। তারা আমাদের ভাষা ও কালচার এর সাথে পরিচিত নয়। তারা গার্মেন্টস মালিকদের বড়বড় লোভ দেখিয়ে বড়বড় জায়গা দখল করে আছে, আসলে কাজের কাজ কিছুই না। তাদের কাজ হচ্ছে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ডেকে এনে ধমক দেয়া ও গালিগালাজ করা। আমাদের দেশে এদের চেয়ে অনেক ভালো ভালো টেকনিশিয়ান আছে যারা সময় সুযোগ পেলে তাদের চেয়ে অনেক ভালো কিছু করতে পারে। অনেকে ভাবে এদের কাজ না দিলে বায়ার চলে যাবে এটা তাদের ভুল ধারণা, কারন তারা আমাদেরকে অর্ডার দেয় কোয়ালিটি ও কম দামের জন্য। ওদের মাসে মাসে প্রত্যেককে উচ্চ বেতন প্রদানের জন্য আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে যা আমাদের দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করছে। আমার মনে হয় গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের পিছনে ওনাদের হাত আছে। মুক্ত বাজার অর্থনীতির কারণে আমাদের শিল্প ধ্বংস হয়নি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯। এনজিও ও শ্রমিক সংগঠন: আমাদের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে এক শ্রেণীর অসাধু এনজিও ও শ্রমিক সংগঠন। যারা সব সময় একটা ছোট ইস্যুকে বড় করে তোলে অর্থাৎ তিলকে তাল করে। তারা একটা ছোট সমস্যাকে শ্রমিকের সামনে অনেক ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে আমাদের কোমলমতি শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে হা-মীম গ্রুপের গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যুর মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছিল। যার জন্য আমরা নাহারের মতো একজন শ্রমিককে হারিয়েছি। তারা কখনো বলে না আপনার গ্রামে কর্মসংস্থান ছিলনা এখানে এসে কর্মসংস্থান হয়েছে মাস গেলে বেতন পাচ্ছেন তা দিয়ে নিজে চলার পরও গ্রামে কিছু টাকা পাঠাতে পারছেন, মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন এখানে উন্নতি করার অনেক সুযোগ আছে।

এ সংকট থেকে বাঁচার উপায়:
আমি গার্মেন্টস মালিকদের বলল, আপনারা সমস্যার গভীরে যান নিজে দেখেন আপনার প্রতিষ্ঠানে কেন বারবার আন্দোলন হচ্ছে? কখনও আপনার অযোগ্য আত্মীয়-স্বজনদের কথায় কান দেবেন না, তারা সব সময় আপনাকে ভুল বোঝায়। সময়মত বেতন পরিশোধ করুন এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা দূর করুন। আজ গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকদের জীবন নিরাপদ নয় তারা বাসা, অফিসে যাতায়াতের সময় এমনকি অফিসে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে, তাদের নিরাপত্তা দানে শিল্প পুলিশকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে। শুধু অভিযোগের উপর ভরসা না করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। এভাবে গার্মেন্টস বন্ধ থাকলে আমরা বায়ার হারাবো, লক্ষ্য লক্ষ্য শ্রমিক বেকার হবে, মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ৭৮ শতাংশই ধ্বংস হয়ে যাবে, সর্বোপরি আমাদের অর্থনীতি ধ্বংসের দার প্রান্তে চলে যাবে। এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিৎ। সব জায়গায় বিরোধী দলের উপর দোষ না চাপিয়ে নিজেরা আমাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন। দোষীদের খুজে বের করুন, আইনের আওতায় নিয়ে আসুন, শাস্তি দিন, দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে। যদি কেঁচো খুড়তে শাপ বের হয়ে আসে সেটাকে মেরে ফেলুন।

কয়েকদিন থেকে কোন কাজ নেই ঘরে বসে আছি, এভাবে জমানো টাকা খরচ করলে তা অল্প কিছু দিনের মধ্যে শেষ হবে তারপর আমরা চুরি করবো অথবা না খেয়ে মারা যাবো। আর যার জমানো টাকা নেই সে বলে পেটে ক্ষুধা, খাবার চাইনা, কাজ চাই।