ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই ছাত্রলীগের বেপরোয়া কর্মকান্ড সরকারের অনেক সফলতা মলিন করে দিয়েছে। সরকার দেশ পরিচালনায় অনেক কাজে সফল হলেও ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের কর্মকান্ড হায়ানাকেও হার মানিয়েছে। হায়ানার মাংস হায়ানা খায়না, অন্য প্রাণীর মাংস খায়। কিন্তু ছাত্রলীগ অন্যদল (ছাত্রদল ও শিবির) ও সাধারণ মানুষের রক্ত ও মাংস তো সময় খায়, মাঝেমাঝে স্বজাতীয় (ছাত্রলীগ) দের রক্ত ও মাংস খেতে তাদের বিবেকে বাধেনা।

বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশটাকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শুধু বিএনপি তথা ১৮ দলের দাবি নয়, এটি গণমানুষের দাবি। এই দাবি দেশের মানুষ যে কোন উপায়ে হোক আদায় করবে। বিএনপি যেমন প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে তাদের দলীয় আনুগত্য কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। দেশের মানুষ জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করেছে। দেশের মানুষ ভালো করে জানে ২৮ অক্টোবর কার সৃস্টি। ২৮ অক্টোবর যেমন বিএনপি-জামাতজোট সরকারের কুকর্ম দায়ী ঠিক তেমনি বর্তমান পরিস্থির জন্য মহাজো্ট সরকারই দায়ী। দেশকে যেভাবে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তাতে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার শেষ করতে পাববেন কিনা তা নিয়ে সাধারণ জনগনের মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক আশা নিয়ে দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, সেই আশায় বুঝি গুড়ে বালি হতে চলল।

“আমি রাজনীতি করি না, আমি ছাত্রদল বা শিবির করি না, আমি হিন্দু। আমি দরজিখানায় কাজ করি” বিশ্বজিতের তার কথা শোনেনি আমাদের ছাত্র নামধারী কিছু খুনি সন্ত্রাসী। সোমবার সকালে পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি কাজী নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করেন।

বিরোধী জো্ট আপনারা হরতাল ডাকেন, অবোরোধ ডাকেন আর সরকারী জোট আপনারা তা প্রতিহত করেন। আপনারা দুই রাজনৈতিক জোট কর্মসূচীর নামে গুন্ডামি করেন, মাস্তানি করেন, একে অপরের উপর ঝাপিয়ে পড়েন খুনোখুনি করেন, তা নিয়ে হয়তো আমাদের চায়ের দোকানে দুই-একদিন ঝড় উঠবে তারপর সব আগের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের সাধারণ জনগনের কিছু হলে সেই আঘাতটা লাগে হৃদয়ে, যে ক্ষত কখনও মুছে যাবে বলে মনে হয়না।

আমার এক বন্ধু তার ফেসবুক ওয়ালের মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন “আবারও অবরোধ ও হরতাল হবে। আমাকে অফিসে যেতে হবে। পথচারী আমিও হবো। মিছিলের মাঝে পড়বো। ককটেল ফুটবে। ভয়ে দৌড়দিবো। তখন ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল বা ছাত্র শিবির অন্য পক্ষের মনে করে আমাকেও এভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে লাশ বানাবে। ২০ টা টিভি চ্যানেলের ৪০ জনকর্মী, ২০ টা নিউজ এজেন্সির ৪০ জন সাংবাদিক, অসংখ্য পুলিশ, অসংখ্য জনতা আমার মৃত্যুবরণ দৃশ্য দেখবে, ভিডিও করবে। ১০ টা চাপাতি ধারী পশুর বিরুদ্ধে ১০০ জন মানুষ দাঁড়াবে না। তারা ভিডিও করবে-হত্যা নিয়ে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের কাটতিবাড়াবে। আমার মত অধমের মৃত্যুর মূল্য বেড়ে যাবে বহুগুণ। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাবে কে কে পিটিয়েছে তবু কোন মামলা হবে না। বিচার হবে না। এক অদ্ভুত সময়ে বেঁচে আছি, যেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশের কাছে নিরাপদ, স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। আর কিছু চাই না আপাতত”।

আমারও চাওয়া এর চেয়ে বেশি কিছু নয়, এটা আপনারা খুব সহজেই করতে পারবেন। আপনারা যখন মিছিল সমাবেশ করবেন তখন নেতা কর্মীরা সবাই একটি নির্দিষ্ট রঙ্গের জার্সি পরবেন, আর যারা প্রতিহত করবেন তারাও অন্য একটি নির্দিষ্ট রঙ্গের জার্সি পরবেন তাহলে আপনারা খুব সহজেই নিজপক্ষ, বিরোধীপক্ষ ও সাধারণ জনগন চিনতে পারবেন। আপনাদের কিছু বাড়তি খরচ হলেও স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তাটুকু দিন।