ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ছোটবেলায় সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে প্রায় মারামারি করতাম। কোনদিন মার খেতাম বা মার দিতাম। কারও কাছে মার খেলেও মায়ের কাছে বিচার দিতে পারতাম না। কারণ মাকে বললে মা আবার উল্টো আমাকে মার দিতেন। একদিন পাশের বাড়ির একছেলের সাথে আমার ছোট ভাইয়ের ঝগড়া বাঁধে। আমি স্কুলে যাবার পথে দেখলাম দুইজন মারামারি করছে। আমি আমার ভাইকে মুক্ত করে নিয়ে আমরা দুজন স্কুলে গেলাম। স্কুলে থাকা অবস্থায় জানতে পারলাম ঐ ছেলের মা আমার মায়ের কাছে নালিশ নিয়ে এসেছে তার ছেলেকে আমরা দুইভাই মিলে পিটিয়েছি।স্কুল থেকে বাড়িতে আসতে ভয় পাচ্ছিলাম। কারণ মা আজকে আস্ত রাখবে না। তবুও ভয়েভয়ে বাড়ি আসলাম। আমার মা আমাকে ধরে যে মার দিয়েছিল তা কোনদিন ভুলতে পারবো না। দশবার কানধরে উঠাবসা করলাম। সেদিনের পর মারামারি একবারে বাদ দিলাম। কোনদিনও দেখিনাই আমার মা আমার তথা আমার ভাইদের পক্ষনিয়ে অন্যদের সাথে ঝগড়া বা মারামারি কিংবা চুলোচুলি করেছে।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার মায়ের বিয়ে হয়ে যায়। পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার মায়ের পড়ালেখার সুযোগ হয়নি। আমার মা যতটুকু পড়েছিলেন ততটুকু থেকে আমাদের শিক্ষাদিয়েছেন অন্যায় না করতে, বড়দের সম্মান করতে, বড় হয়ে সুশিক্ষিত মানুষ হতে। বাবার মুখে শুনতাম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, আমাদের শাসন-শোষনের কথা।

আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। এই স্বাধীনতা কোন চুক্তির বিনিময়ে হয়নি কিংবা কেউ ইচ্ছা করে আমাদের স্বাধীনতা দেয়নি। এই স্বাধীনতার বিনিময়ে আমাদের দিতে হয়েছে চরম মূল্য এক সাগর রক্ত। আজ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি দেশ আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতায় আমরা এতবেশি উন্মাদ হয়েগেছি যে আমরা ভুলেগেছি স্বাধীনতার মহানায়কে। তাকে নিয়ে কটুক্তি করলে আমরা হাততালি দেই। আর কটুক্তিকে বাস্তবায়নে একটি মহল সদা ব্যস্ত।

আমার জন্ম ও বেড়েওঠা এক অজোপাড়া গ্রামে। যে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত। কখনও দেখি নাই কাউকে গালি দিলে গ্রামের মানুষ হাততালি দেয় বরং কেউ গালি দিলে তাকে থামতে বলতো তাতে কাজ না হলে তাকে শাসন করতো। এখন যে ছেলে কটুক্তি করছে আর যারা কটুক্তি শুনে হাততালি দিচ্ছে আমার মনেহয় গ্রামের মানুষ অশিক্ষিত হলে তালি বাজানো লোকেরা অবশ্যই মূর্খ।

মা-ই পৃথিবীতে একমাত্র ব্যাক্তি যে কিনা নিঃশর্ত ভালবাসা দিয়েই যায় তার সন্তানকে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়া। পৃথিবীর ইতিহাসে সন্তানের জন্মদাত্রী হিসেবে প্রাকৃতিকভাবেই মায়ের অবস্থান। মানব সমাজে যেমন মা-এর অবস্থান রয়েছে, পশুর মধ্যেও মাতৃত্ববোধ প্রবল। সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকেই মা, সকল মমতার আধার ও কেন্দ্রবিন্দু। মা তার সন্তানের শারিরিক ও মানসিক অবস্থা মুখ দেখলেই বুঝতে পারেন।

অনেক মা তার মাতাল ছেলেকে মাতাল না হওয়ার জন্য শাষন করে শেষমেষ অত্যাচার সইতে না পেরে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। কিন্তু মা কখনও মাতাল হওয়ার জন্য আশকারা দেন না। এখন এক মা তার মাতাল ছেলেকে এমনভাবে আশকারা দিচ্ছে যা বড়ই লজ্জার ও অপমানের।

এই মা শুধু মা নয়, একাধারে মা ও রাজনীতিবিদ। এখানে মায়ের বন্ধনের চেয়ে ক্ষমতার বন্ধনটা বেশি শক্তিশালী।

হায়রে ক্ষমতা, হায়রে রাজনীতি।