ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস মে মাসের প্রথম দিনটিকে পৃথিবীর অনেক দেশে পালিত হয়। এদিনটি সরকারীভাবে ছুটির দিন। ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিনের দাবীতে আন্দোলন রত শ্রমিকের ওপর গুলি চালানো হলে ১১ জন শহীদ হয়।

শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের “দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার” দাবী অফিসিয়াল স্বীকৃতি পায়। আর পহেলা মে বা মে দিবস প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দাবী আদায়ের দিন হিসেবে, পৃথিবীব্যাপী আজও তা পালিত হয়।
শ্রমিকদের প্রধান দাবী ছিল কর্ম ঘন্টা কমানো কিন্তু আজ ২০১২ সালে এসেও বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে কি দেখছি? প্রতিদিন অফিস শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট সময় আছে কিন্তু অফিস শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই।

দৈনিক কর্মঘণ্টা
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর
১০০ ধারা অনুসারে কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ দৈনিক আট ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করিবেন না বা তাহাকে দিয়ে কাজ করানো যাইবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে কোন প্রতিষ্ঠানে উক্তরূপ কোন শ্রমিক দৈনিক দশ ঘণ্টা পর্যন্ত ও কাজ করিতে পারিবেন।

সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর
১০২ ধারার
(১) কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করিবেন না বা তাহাকে দিয়ে কাজ করানো যাইবে না।

(২) ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে, কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময়ও কাজ করতে পারিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, কোন সপ্তাহে উক্তরূপ কোন শ্রমিকের মোট কর্ম-সময় ষাট ঘণ্টার অধিক হইবে না, এবং কোন বৎসরে উহা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ছাপ্পান্ন ঘণ্টার অধিক হইবে না।

কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে অধিকাংশ গার্মেন্টসে শ্রমিকদের দৈনিক কর্ম ঘন্টা দশের ওপরে। যা সপ্তাহ শেষে ৬৫-৭০ ঘন্টা। অনেক সময় আর্জেন্ট শিপমেন্ট-এর কথা বলে দৈনিক ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করে নেয়।
বায়ার অডিট আশার পূর্বে শ্রমিকদের বুঝানো হয় অডিটরগণ কর্ম ঘন্টা জানতে চাইলে আমরা সবাই বলব সাধারণত ৮ ঘন্টার বেশি কাজ করিনা সপ্তাহে ১-২ দিন ১০ ঘন্টা কাজ করি। নাইট ও টিফিন বিলের ভাউচার সরিয়ে রাখা হয়।

মহিলা শ্রমিকের জন্য সীমিত কর্মঘণ্টা
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর
১০৯ ধারা অনুসারে কোন মহিলা শ্রমিককে তাহার বিনা অনুমতিতে কোন প্রতিষ্ঠানে রাত দশ ঘটিকা হইতে ভোর ছয় ঘটিকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন কাজ করিতে দেওয়া হইবে না।

কিন্তু অনেক সময় জোর করে রাত ১২-০৩ টা পর্যন্ত কাজ করে নিয়ে থাকে।

শ্রমিকরা গার্মেন্টস শিল্পের প্রাণ। আমাদের গার্মেন্টস শিল্পকে বাঁচাতে চাইলে সবার আগে শ্রমিকদের বাঁচাতে হবে। নইলে আমাদের গার্মেন্টস শিল্পকে আমরা বাঁচাতে পারবেনা। শ্রমিক দৈনিক ১২-১৩ ঘন্টা কাজ করার কারনে সব সময় অপুষ্টিতে ভোগে এবং অল্প বয়সেই কর্মে অক্ষম হয়ে যায়। ফলে আমাদের শ্রমিক হারানোর হার অনেক বেশি হয়ে থাকে।

এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের একমাত্র পথ প্রডাকটিভিটি বৃদ্ধি। প্রডাকটিভিটি বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্ম ঘন্টা কমে আসবে শ্রমিক বাঁচাবে এবং আমাদের গার্মেন্টস শিল্প টিকে থাকবে।