ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশ বলতে আমরা থানাকেই বুঝি। থানার অফিসার-ইন-চার্জ হলেন থানার প্রশাসক, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ পরিকল্পনার মুখ্য সমন্বয়ক । কিন্তু, দুর্ভাগ্য আমাদের! আমাদের দেশের কিছু কিছু থানার অফিসার-ইন-চার্জ পদে বসে আছে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও অসংবেদনশীল প্রকৃতির মানুষ। তারা বোঝেনা কোনটা ভালো কোনটা মন্দ। তারা সব সময় সংবাদের শিরোনাম হতে পছন্দ করে।

ওসি পেটালেন এসিল্যান্ডকে! ফেনী সদরের এসিল্যান্ড, তহসিলদার ও সার্ভেয়ারকে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ সময় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আখতারকেও গালাগাল করা হয়।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আখতার অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবারে (০৩/০৫/২০১২) রাতে ফেনী মডেল থানা ক্যাম্পাসে ওসি ফেনী সদরের এসিল্যান্ড, তহসিলদার ও সার্ভেয়ারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং তাকে গালাগাল করেছেন। তিনি জানান, অবৈধ স্থাপনা ভাঙা অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের স্থাপনা ভাঙতে ফেনী মডেল থানার ফটকের সামনে গেলে ওসি তাদের বাধা দেন। এ সময় তারা ওসিকে নিজ দায়িত্বে স্থাপনা ভাঙার অনুরোধ করেন। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে স্থাপনায় বুলডোজার না লাগানো সত্ত্বেও ওসিসহ বেশ কয়েক পুলিশ সদস্য শত শত মানুষের সামনে এসিল্যান্ড নজরুল ইসলাম, তহসিলদার আবদুল মতিন ও সার্ভেয়ার খাদেমুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং তাদের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।

(তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৫ মে ২০১২)

ঐ ওসি কি জানে তার পদমর্যাদা? একজন ওসি দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা আর একজন এসিল্যান্ড প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। পুলিশের একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা যদি প্রশাসনের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে সেথানে আমরা সাধারণ জনগন সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট থেকে কি পরিমান সেবা পেতে পারি সেটা সহজেই অনুমেয়।

ইদানিং থানায় কাজের গতিশীলতার জন্য দুই জন ইন্সপেক্টর (ওসি) দেওয়া হয়েছে। একজন ইন্সপেক্টর প্রশাসন, অন্যজন ইন্সপেক্টর তদন্ত। এই দুই ইন্সপেক্টরের কাজের সমম্বয়ের জন্য প্রতিটি থানায় যদি একজন প্রথম শ্রেণীর বিসিএস ক্যাডার পুলিশ অফিসার (ASP) থাকলে আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হত না বলে আমি মনে করি।