ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

Photo0330

বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা CID। RAB একটি ধর-মার ঠিক কর টাইপের সংস্থা। এখানে ফৌজদারি মামলা তদন্তের জন্য কোন বিশেষজ্ঞ নেই। এবং সেটা থাকার কথাও নয়। RAB এর অফিসারগন আসেন মূলত সশস্ত্র বাহিনী থেকে। একজন মেজর বা লেঃ কর্নেলের যুদ্ধ কৌশল জানা থাকলেও তদন্ত কৌশল জানা থাকার কথা নয়।

এখন সাগর রুনির মামলার তদন্ত RAB এর কাছে হস্তান্তরের সুবাদে সেনা অফিসারগন নিজেদের বড় তদন্ত বিশেষজ্ঞ ভাবতে শুরু করেছে।

কোর্টের নির্দেশ মতে এই মামলার তদন্তের ভার এএসপি বা তার উর্দ্ধের কর্মকর্তা হতে হবে। তার আবার একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা তদন্তের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সেই ক্ষেত্রে একজন ক্যাপ্টেন বা লেঃ কর্নেল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হতে পারেন না। কিন্তু ফৌজদারী মামলার তদন্ত করার অভিজ্ঞতা এবং ট্রেনিং কোন ক্যাপ্টেন বা লেঃ কর্নেলের নেই। আদালতের কাছে গ্রহন যোগ্য কোন তদন্ত সম্পন্ন করতে হলে প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘদিনের অনুশীলন দরকার। যা কেবল একজন পুলিশ অফিসারেরই হতে পারে। এমতাবস্থায় RAB এর তদন্ত মানে পুলিশ অফিসার দিয়েই তদন্ত বোঝাবে। অন্যদিকে CID হল পরীক্ষিত তদন্তকারী সংস্থা। BDR মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা সহ হাজার হাজার তদন্ত পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তাই সাগর রুনি হত্যার তদন্তের ভার CID এর কাছে হস্তান্তর করাই শ্রেয় ছিল। সাগর রুনি হত্যার তদন্তের ভার RAB এর কাছে হস্তান্তর করে শুধু শুধু কাল ক্ষেপন করা হচ্ছে।
ফৌজদারী মামলা তদন্তের জন্য সময়ের প্রয়োজন। দুই বা তিন মাসে সব মামলার রহস্য উদ্ভাবিত নাও হতে পারে। এখন DB এর চেয়ে কোন সাফল্য RAB দেখালে তা দক্ষতার জন্য নয়, সময় পাওয়ার জন্যই হবে।

আর এমন হতে পারে এই মামলা শেষ পর্যন্ত CID এর হাতেই পড়বে। কেননা তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে RAB এর জন্ম হয়নি তাকে গড়ে তোলাও হয়নি এবং গড়ে তোলা সম্ভবও নয়।