ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমি কোন কলাম লেখক বা সাংবাদিক নই। বাংলাদেশের একজন সাধারন নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশী। আমরা যারা বিদেশে থাকি বা যারা কখনো বিদেশ সফর করেছেন শুধু তারাই বলতে পারবেন পৃথিবী কতদূর এগিয়েছে আর আমরা কোথায় পড়ে আছি। মন্ত্রী এম পি দের কথা বাদ। কারন তারা চোখে ক্ষমতার চেয়ার আর অর্থ ছাড়া কিছুই দেখে না। বিদ্যুৎ , যোগাযোগ অবকাঠামো , আইন শৃঙ্খলা ও বিভিন্ন বিষয়ে এই সব দেশের উন্নয়নের পেছনে মুল অবদান রাজনৈতিক সরকারের। আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধিনতার এতো বছর বছর পরেও একটি সরকার ও পেলাম না যারা ক্ষমতার উরধে উঠে দেশের উন্নয়নের জন্য সত্যিকার অর্থে ভাবে। তারা জনগনের স্বাভাবিক চাহিদা পুরনে কাজ করেনা, উপরন্ত তাদের অন্যতম যে ভোটাধিকার , যা তারা ব্যর্থতার জবাব দিতে পাঁচ বছর পর পর একবার প্রয়োগের সুযোগ পায়, তাও কেড়ে নিতে চায়।

একথা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত বাংলাদেশের বড় দু’দলের কোনটাই জনমতের তোয়াক্কা করে না। তারা তাদের রাজনীতি পরিচালিত করে কিছু তেলবাজ জনবিচ্ছিন্ন নেতা, অসাধু ব্যবসায়ীর টাকা , ছাত্র নামধারী বয়স্ক কিছু ক্যাডার ও তাদের সাঙ্গ পাঙ্গ দ্বারা। বিভিন্ন সময়ে তারা প্রমান করেছে তাদের কাছে তৃণমূল কর্মীদের মতামত মূল্যহীন । তারা প্রকৃত তৃনমূল জনসম্পৃক্ত রাজনীতিবিদের চিনতে বা মূল্যায়ন করতে বরাবরই ব্যর্থ। কখনো কখনো সেই সব জননেতাদের জোয়ার উঠে । যেমনি নারায়ণগঞ্জে উঠেছিল আইভির জোয়ার । কিন্তু চিরাচরিত নিয়মে আওয়ামীলীগ ব্যর্থ । যেহেতু এ নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে তাই সে প্রসঙ্গ বাদ।

আমি শুধু কিছু অশুভ লক্ষণের কথা বলব। আইভির বিজয়ের পর হাসিনা আইভিকে ডেকেছেন । প্রশ্ন এটা নয়। প্রশ্ন শামিম ওসমানকে ডেকেছেন কেন? সে কেমন ব্যক্তি তা হাসিনা বা আওয়ামী লীগ বুঝেও না বুঝার ভান করলেও , জনগন কিন্তু বুঝে শুনেই ছুড়ে ফেলেছে। এই জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে যেখানে ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা, সেখানে আইভির সাথে শামিমকেও ডেকে নেয়া কি জনগণকে আবারো অবজ্ঞা করা নয়। হাসিনা এতে জনগনকে ভবিষ্যতের জন্য কি বার্তা দিলেন?

সংবাদপত্র জাতির আয়না। আর এতে জনগন আইভি আর শামিমকে সঠিক ভাবেই দেখেছে। অনেক পত্রিকা, সাংবাদিক জনগনের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কলম ধরেছিলেন । তাদের অনেকে আবার আওয়ামীলীগ সমর্থক । তারা তা করেছিলেন বিবেকের তাগিদে যা আওয়ামীলীগ করেনি। শ্রদ্দ্বেয় সাংবাদিক মুসা সাহেব ও তেমনি। যতদূর জানি তিনি আওয়ামী সমর্থক এবং শেখ মুজিবের সময়ে আওয়ামী লিগের এম পি ছিলেন। তিনি বা অন্যরা শামিমের বিরুদ্ধে আইভির পক্ষে কলম ধরেছিলেন কারন তারা বুঝতে পেরেছিলেন শামিমকে সমর্থন করে আওয়ামীলীগ বড় ভুল করেছে। শুধু তারা না দেশের সবাই বুঝেছিল। শুধু হাসিনা এবং হাই কমান্ডের কতিপয় নেতা ছাড়া। প্রশ্ন এটা নয়। প্রশ্ন হল মুসা সাহেব সম্বন্ধে শামিমের মন্তব্যের ধরন নিয়ে । তাও হাসিনার সাথে। আর হাসিনা তাকে মৌন সমর্থন করা কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য। শামিমের মন্তব্য তার চরিত্রের সাথে যায়, কিন্তু হাসিনার মৌনতা কি তার চরিত্রের সাথে যায়?

প্রতিবার হার কিংবা সরকার বদলের পর শামিম ওসমান পালিয়ে যায় । এবারই প্রথম সে হারের পরে না পালিয়ে এলাকায় রয়ে গেছে, এবং হাসিনা তাকে আইভির সাথে ডেকে নিয়ে যে সাহস দিয়েছেন তা ভেবে সঙ্কিত হই।

কয়লা ধুলে যেমন ময়লা যায় না , তেমনি শামিমের মত লোকেরা কখনো বদলায় না। হাসিনার সমর্থন তাকে কততুকু শক্তি জগিয়েছে তা তার বাড়ির কর্মী সভার ভাষণেই বোঝা গেছে। ইতিমধ্যে সবাই পত্রিকা মারফত পড়েছেন এবং ইউ টিউব এ দেখেছেন।

আমার প্রশ্ন আর কতকাল তারা জনরায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে অশুভ শক্তিকে সমর্থন দিয়ে যাবে। সামনে আরো নির্বাচন আছে । হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ কি এ ব্যাপারে কিছু ভাববে?