ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

টার্গেট আর কোন নির্দিষ্ট মানুষকে নয়, তার কোন প্রিয় মানুষ। এসপি বাবুলের স্ত্রী হত্যা তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। হত্যাকান্ডের এই তালিকা এবার আরও প্রসারিত হলো। ব্লগার হত্যা থেকে শুরু, এরপর বাংলাদেশে অবস্থানরত ভিন দেশী বিভিন্ন কূটনৈতিক বা পেশায় যুক্ত ব্যক্তিগন, এরপর ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিরীহ নাগরিক এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মী হত্যা, গতকাল থেকে আরেকটি নতুন মোড় নিল এই হত্যাযজ্ঞ। মিতুর এই হত্যা লাশের এই মিছিলে নতুন মাত্রা যোগ করলো। হতবিহ্ববলতা আর তীব্র শোক যেন যথেষ্ট হয়ে উঠছে না আমাদের বুকে, উপরন্তু ভয়াবহ ভীতির সঞ্চারও করেছে। মিতুর জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করতে গেলে ভেসে উঠছে হানাহানির এই নিদারুন বাস্তবতা। এ যেন সুপরিকল্পিত কোন পরিকল্পনা। কেউ যেন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এ হত্যার মিশনে নেমেছে। ঘটেই চলছে খুন, যেন কোন ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন হচ্ছে ধীরে ধীরে।

এরিস্টটল বলেছেন, “Man is political”. সলিমুল্লাহ খান স্যার এর বাংলা অনুবাদ করেন, মানুষ রাষ্ট্র নির্ভর প্রানী। প্রাসঙ্গিক ভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিল ১৯৭১ সালে। লক্ষ্য ছিলো- সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচার। ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে গঠিত রাষ্ট্রের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমরা স্বাধীনতা ঘোষনা করলাম। যদিও বিভাগ পরবর্তী অল্প দিনেই বুঝতে পেরেছিলাম, রাষ্ট্র আর ধর্ম- আলাদা জিনিস। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত আজ এ রাষ্ট্রে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? একদিকে ধেয়ে চলছে নির্বাচনে সহিংসতা আর খুন। অন্যদিকে নিরীহ নাগরিক হত্যা। যদি প্রশ্ন করা হয়, “মিতু কে?”, মোটাদাগে একটি উত্তর ঘুরে ফিরে আসে, একজন নিরপরাধ নাগরিক। রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “কোন মতেই মোটর সাইকেলে তিনজন চড়া যাবে না”। আমরা প্রশ্ন করি, তাহলেই কি এসব বন্ধ হয়ে যাবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দুরদর্শিতা অত্যাবশ্যক কি-না তা মন্ত্রী মহোদয়ের ভেবে দেখা উচিত বলে মনে হয়। আইন আর অপরাধের সম্পর্ক নিয়ে বোধ হয় তাঁর বোঝাপড়া সংকীর্ন। দরদ নিয়ে রাষ্ট্রের সমস্যাকে ভাবতে না পারলে সেই সরকারের উপর জনগনের আস্থা হ্রাস পেতে শুরু করে।

অপরাধ নতুন নতুন মাত্রা নিয়ে হাজির হচ্ছে প্রতিনিয়ত। একের পর এক খুন ঘটেই চলেছে। এক্ষেত্রে একদিকে যেরকম তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেয়া দরকার, অন্য দিকে রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা থাকাও জরুরি। যেসব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে তা কোন সুস্থ বা সভ্য মতাদর্শের সাথেই যায় না। সুতরাং মানবতার বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধে নেমেছে তাদের নিয়ে রাষ্ট্রের ভাববার অবকাশ আছে। “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।“- মানবতার এই জয়গান অন্যথায় ভুলুন্ঠিত হবে। যারা শিকার তারা আমাদেরই, আর যারা ঘটাচ্ছে তারাও এ সমাজেই বেড়ে উঠেছে বা উঠছে। আজ রহমতের মাসের শুরুতে ধর্মের সেই শান্তির বাণী আমাদের প্রাণে জেগে উঠুক।