ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাইলেজেশনে বরিশাল জেলা গোটা বাংলাদেশের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছে নাগরিক সেবা। প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আত্মিক সম্পর্ক। জনসেবা আজ নাগরিকের দোরগাড়ায় নয় হাতের মুঠোয় পৌঁছে গিয়েছে। নাগরিকরা হাতের স্পর্শতেই তুলে ধরছেন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা।

বলছি বরিশাল জেলা প্রশাসন পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপ ‘বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা’র কথা। ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট শুরু হওয়া এই গ্রুপের সদস্যা সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮০০০০। সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তুলে ধরা সহস্রাধিক নাগরিক সমস্যার সমাধান হয়েছে ইতিমধ্যেই। সব থেকে বড় ব্যাপার হল, “ধান, নদী, খাল- এই তিনে বরিশাল” ঐতিহ্যবাহী এই নাম শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায় স্থান নেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কারণ বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জেল খাল থেকে শুরু করে আরো ২৩ টি খাল অপদখল করে রেখেছিল প্রভাবশালীরা। ঠিক সেই মুহুর্তে সচেতন এক নাগরিক ফেসবুকে গ্রুপ ‘বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা’ তে তুলে ধরেন জেল খাল রক্ষার কথা। সেই পোস্টের সূত্র ধরে এগিয়ে আসেন বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান। ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমেই জনমত গড়ে তোলেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে।

জনগণের খাল জেল খাল রক্ষার জন্য গ্রহণ করা হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সীমানা চিহ্নিত করে অপদখল কারীদের নিজ নিজ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তে অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয় বরিশালবাসীর সামনে। গণমানুষকে সঙ্গে নিয়েই শুরু হয় ‘জনগনের জেল খাল, আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ নামক সামাজিক কার্যক্রম, এক গণ-আন্দোলনের।

এই গণ-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে আপামর বরিশালের প্রায় ৪০ হাজার সাধারণ জনগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সমূহ। নিজ নিজ উদ্যোগে সবাই অংশগ্রহণ করে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী খাল ফিরিয়ে আনতে, যার নেতৃত্ব দেন বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান।

untitled-8_235240 .

সাফল্যের গাঁথা দিয়েই শুরু হল বরিশালের খাল রক্ষার আন্দোলন, এরপর একে একে বরিশালের আরো ২৩ টি খাল দখলমুক্ত করা হল। ফিরিয়ে আনা হল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী নাম ধান, নদী, খাল- এই তিনে বরিশাল। জেল খাল মুক্তকরণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু বরিশালে নয় গোটা বাংলাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরকম একটা সফল অভিযানের পরে সচেতন হয় বরিশালবাসী। বিশ্বাস এবং আস্থা রাখতে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জনমত সৃষ্টি করে এমন গণ-আন্দোলনে রূপ দেয়া যায়।

এরপর একেরপর এক সচেতন নাগরিক তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরতে শুরু করে বরিশাল সমস্যা সম্ভাবনা ফেসবুক গ্রুপে। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করে। শুধু সমস্যাই নয়, তুলে ধরা শুরু করে বরিশালকে ঘিরে অপার সম্ভাবনা কথা। দর্শনীয় স্থানগুলোকে কিভাবে আরো দর্শনীয় করা যায়, পর্যটক আকর্ষণে আরো কি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে এসব বিষয় তুলে নিয়ে আসে সচেতন নাগরিকরাই।

জেলা প্রশাসক মহোদয় সেসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বরিশালের মাধবপাশায় ঐতিহ্যবাহী দিঘী দূর্গাসাগরের সংস্কার করেন। পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো অঞ্চলটি সিসিটিভি’র আওতায় নিয়ে আসা হয়। পর্যটক আকর্ষণে হরিণ আনা হয়, দিঘীতে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য রাখা হয় নৌকা। যার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নিজে নৌকার হাল ধরে।

16934054_909670445842000_832549917_n.

শুধু কি তাই? কখনো গভীর রাতে চলে গিয়েছেন শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র নিয়ে, কখনো বা নিজ হাতে ঝাড়ু নিয়ে পরিষ্কার করেছেন রাস্তা, শহীদ মিনার প্রাঙ্গন। কখনো ধান কাটছেন, আবার গভীর রাতে স্পিড ব্রেকারে রং করেছেন সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমকে সাথে নিয়ে।

16402464_409031309441108_2534408978504187048_o.

যেখানে জেলা প্রশাসক কিংবা প্রশাসনের লোকজন থাকেন আমজনতা থেকে ২০০ গজ দূরত্বে। সেখানে বরিশাল জেলা প্রশাসক জনগণকে সাথে নিয়েই রচনা করতে চলেছেন সুন্দর আগামী, পরিচ্ছন্ন সোনার বাংলাদেশ। কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে বরিশালের জন্য।

18192675_452327378444834_2428489100793500379_o.

বরিশালকে বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড় করাতে প্রশিক্ষিত সিটিজেন জার্নালিস্ট টিম পাঠিয়েছিলেন টাংগাইল জেলার লৌহজং নদী উদ্ধার কার্যক্রম এবং বাগেরহাট জেলার ভৈরব নদী উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে। বরিশালবাসী গর্বিত এমন জেলা প্রশাসক পেয়ে। ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের এই অবদান বরিশালবাসী চিরজীবন স্মরণ রাখবে।