ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
Avijit-roy-ED

সংবাদ পত্রে শিরোনাম ; ব্লগার অভিজিত রায় নিহত!

ভারি আনন্দ আজ বাংলার কিছু ঘরে, কিছু মনে, বুদ্ধিজীবী, বুদ্ধিহীন, চেতন, অচেতন সব মনে খেলা করে অংক, যোগ বিয়োগ আর লাভ লোকসান, ফসল তুলতে হবে না! ব্লগার মরেছে যে!

সরকারি মনে আজ ভাবনা, এই ইন্টারনেট এর কিছু যন্ত্রণা কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। কেন যেন মানবাধিকার, ভোটাধিকার এসব নিয়ে ক্রমাগত ঘ্যান ঘ্যান করেই যাচ্ছিল । মাঝে মধ্যে আবার ধর্ম নিয়ে বেকায়দায় ফেলা । তারপরও সাহস দেখ ইতিহাসের মহানায়কের ডাকে শাহাবাগেও এলো না সেদিন। এবার যাবে কোথায়? জান বাঁচানো ফরজ । চেতনার( চেতনা বলতে তাদের মত ) ছাতির তলে  আসতেই হবে, ব্লগার মরেছে না!

কেউ জিজ্ঞেস করবে না, অভিজিত তো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল, নাগরিক হিসেবে তাকে রক্ষায় রাষ্ট্র কী করেছে ? যারা হুমায়ূন আজাদ মৃত্যু টানেন, তারা কেউ রাষ্ট্রকে বলবে না একই স্থানে একই ধরনের দুটো ঘটনার কী ব্যাখ্যা দেবে সরকার? সারা দেশে বাহিনী প্রধানরা যখন রাষ্ট্রের পেশী দেখিয়ে বেড়ান তখন কেউ বলবে না স্যার পেশী এখানে নীরব ছিল কেন?

আমি জানতে চাইব না বইমেলার মত আয়োজনে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেষ দিকে যে কেউ সুযোগ নিতে পারে জেনেও, নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব প্রাপ্তরা কী করেছেন? এ প্রশ্ন করার সাহস আমার নেই, দখল করে দাপিয়ে বেড়ানো সোনার ছেলেরা কী করছিল?

আজ আরেক দলের মনে বড় সুখ, বড় আনন্দ । তারা আজ প্রমাণ করেছে যতই ক্রস ফায়ার আর দমন-পীড়ন চালাও, আমরা আছি । আহা! ধর্মের দুশমন মরেছে – ব্লগার মরেছে!

নব্য নেতার চকচকে চোখ, যাক! কিছুতেই সাড়া দিচ্ছিল না! এবার ইস্যু পাওয়া গেল! জাগো চেতনা জাগো! তাকে কে মনে করিয়ে দেবে এই ব্লগার আর ফেসবুকারদের ঘাড়ে পা রেখে আপনি এখানে এসেছেন, তাদের পক্ষে সত্যিকারের কয়টি বাক্য উচ্চারন করেছেন গত দু’বছরে?

জ্ঞানের বাতিঘরেরা, পূর্ব হত্যা তুলনা করে তকমা লাগিয়ে তদন্তের গতিপথ ঠিক করে দেবেন সেই দিকে, যে দিকে ঠেলে দিলে তার নিজেরও ঊর্ধ্ব গতি প্রাপ্তি জোটে ।

কেবল, একজন পিতা সন্তান হারানো শুন্য বুকে বয়ে বেড়াবেন সেই যন্ত্রণা যা মানুষ অনুভব করে মানুষের জন্য, কাঁটা আঙ্গুল কোন শুন্য রাতে একটি মেয়েকে মনে করিয়ে দেবে, বিছানায় তার পাশে এক সময় একটি মানুষ ছিল, মানুষটি নেই- অভিজিত…!