ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

bangubandhu

১৯৭১  মার্চ সাত। বিশাল বক্ষ প্রসারিত হল, প্রিয় মাটির ঘ্রানে ভেজা বাতাস বুক ভরে টেনে নিলেন তিনি, তারপর? কিছু ধ্বনি হয়ে বেরিয়ে এলো, ছড়িয়ে গেল! টেকনাফ কি তেতুলিয়া অথবা রূপসা – পাথুরিয়া সেই ধ্বনি সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির কানে বলে গেল মাটির সন্তান মুজিব বলেছে মুক্তি , যারে ধেয়ে যা ,ঐ যে মুক্তি, ঐ স্বাধীনতা ! স্রেফ এই ছিল বার্তা।

সেই দিন হতে বহু অধঃ এই ধ্বনি চর্চা করে , ভাষণে শব্দের ব্যাকরণ খোঁজেন!

গুন মামা (মায়ের স্কুল সখা সুত্রে) তো শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কবিতার কবি বলে দিলেন ।

কেউ ,কেউ ছোট বাক্য, উচ্চারন শক্তি প্রয়োগের কৌশল ইত্যাদির বর্ণনায় নিজেই কাব্য জনক ।

কিছু গবেষণা তোঁ আঞ্চলিক ও আধুনিক শব্দ মিশ্রন , যেমন “দাবায়ে রাখতে”  দাবিয়ে বলেন নি কিন্তু! একেই ভাষণের গুন আবিস্কার করে বসেন । যদি সুযোগ দেয়া হয় ৫০ রকম বিশ্লেষণ দেখাব। জানা দরকার ও । মজার কথা এক গুন মামা ছাড়া মতলব হীন দেখি না তেমন! আর গুন মামার তোঁ উত্তরাধিকার সুত্রেই পিতার সম্পদ পাওনা, অথচ উনিই —! আবার কবি তোঁ কি করবেন হিসেব পারবেন না তাই দেননি হতে পারে। যাক সবাই বলেছেন ভাষণ ! এক কথায় বলছি ভুল, ভুল ,ভুল ।

তবে একে কী বলব? কী বলা যায়?

প্রথমত, কিছু সূত্র। স্বাধীনতা অর্জনের। যেমন, যার যা কিছু আছে ——– । আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি — । এরকম সুত্র প্রয়োগে আসবে স্বাধীনতা। এখানে কি শেষ ? না ।

এরপর দিলেন স্বাধীনতার কলেমা খানি ! কি সেই কলেমা যা ফরজ? ধ্বনি এলো,

ভাইয়েরা আমার , — এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের স্বাধীনতার সংগ্রাম !!!!!!

আর? আর একজন পিতা তার পিতৃত্বর দায় শোধ করলেন, আমরা পেলাম জাতির পিতা, বাঙালি পেল মুক্তি ।

যারা বলেন ভাষণ, কেবল একটা কথা বলি, নেত্রীর উদ্বোধন করা জনককে নিয়ে আবৃত্তির ক্যাসেটে আমাকে এই কলেমাটি উচ্চারন করতে হয়েছিল। জীবনের সব দিয়েও সেই নিখুঁত আবেগ আসেনি । আসলে জনক নিজেও দ্বিতীয় বার এই যাদু সৃষ্টি করতে পারতেন না। এটি বেরিয়ে আসে জীবন যন্ত্রণা, সৃষ্টির উল্লাস, হারানোর বেদনা, জমা কান্না, আগামির আনন্দ আরও কত কী থেকে—- ব্যাখ্যা সম্ভব নয়! তার -ভাইয়েরা আমার- আব্দুর রাজ্জাক প্রায় নিখুঁত করতেন, আমি কাছে পৌছাব, ভাষণ উনি অনেক, অনেক দিয়েছেন, ভাইয়েরা আমার শুনতে সবখানে প্রায় এক। কিন্তু বাকী  ধ্বনি একজীবনে একবারি উঠে আসে, আসে না আর।  তাই যাই বলেন এটি ভাষণ নয় । ধ্বনি যা সূত্র প্রকাশ করেছে, আর সেই কলেমাটি ফুঁ দিয়ে বুকের ভেতর সেঁধিয়েছে  যা নিয়ে মৃত্যুর মুখে হেসে যাব, মুক্তি আর স্বাধীনতার আনন্দে  কেবল ’৭১ এ নয়  অনাগত যে কোন সময়ে। তাই, –

শেষে দাবি জানাই , এই ৭ই মার্চ কে ঘোষণা করা হোক জাতীয় মুক্তি ও জাতির জনক দিবস। যারা মুক্তি ও জনকের পরিচয় জানতে চায় জেনে যাবে ৭ই মার্চে অনন্ত কাল । আসুন আজ থেকে ধ্বনি হোক ৭ই মার্চ স্বাধীনতার সূত্র ও কলেমা পেয়ে বাংলা হয়েছে মানসিক মুক্ত, মুজিব হয়েছেন জাতির জনক– আজ ৭ ই মার্চ বাংলার মুক্তি ও জাতির জনক দিবস। বলবেন?