ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

প্রথম বলি মানুষ ।

এরপর নারী বা পুরুষ ।

সে যাক, এ বিষয়ে তত্ত্ব, তথ্য পূর্ণ লিখার জন্য রথী, মহারথীর অভাব নাই। আমি সে দিকে না যেয়ে কেবল এই টুকু বলি, পুরুষের পুরুষ হওয়ার প্রথম শর্তই হচ্ছে নারীর প্রতি নিঃশর্ত সন্মান বোধ। সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টি ভঙ্গি বলে দেয় ঐ সমাজ সভ্যতার কোন স্তরে আছে। আমি কোন নারীবাদীর প্রকৃতি কে অস্বীকার করার চেষ্টা কে যেমন হাস্যকর মনে করি, তেমনি নারীর উপর শক্তি প্রদর্শন যাদের কাছে পৌরুষ বলিয়া মনে হয় তাদের তাদের পুরুষ বা মানুষ কোনটাই ভাবি না। নারীর জন্মগত শারীরিক কিছু দুর্বলতা আমাকে বাধ্য করে তার নিরাপত্তা ও সন্মান নিশ্চিত করিতে।এটি সমাজ ও সভ্যতার কাছে পুরুষ হিসেবে আমার দায় । যাক আমার সমস্যা শ্লোগান খানি ! নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন !! সারা পৃথিবী এক বাক্যে জপিতেছে। আমার ধারনা মানুষের ইতিহাসে যত শ্লোগান উচ্চারিত হইয়াছে এবং বহুল প্রচলিত হিসেবে গণ্য, এর মত অর্থহীন আর কোন শ্লোগান খুজিয়া পাওয়া যাইবে না ! কেন ? তাহলে আগে ঈশ্বর কি করিয়া অন্ধ হইলেন সেই গল্প টা বলি । প্রাসঙ্গিক ও বটে ।

পৃথিবী হইতে একটি বার্তা সম্পর্কে অবগত হইয়া ঈশ্বর অভিভুত হইয়া পরিলেন , আহা কি কথা — নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন। তাইত! সেটাই হওয়া উচিত , কি করিয়া এতদিন জগত চলিল, তিনি নিজেও তোঁ নারীর চোখে বিশ্ব দেখেন নাই এতদিন!! অতঃপর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি নারীর চোখে বিশ্ব দেখিবেন ।নারী যেহেতু মানুষ তাই তিনি দুই চোখ ধারন করিলেন ।

অতপর তিনি দেবদূত গনে ডাকিয়া শোন আমি ঠিক করিয়াছি অদ্য হইতে আমি নারীর চোখে বিশ্ব দেখিব। তা আমি তোঁ আর যে কোন সাধারন নারীর চোখে দেখিতে পারি না, তাই তোমরা পৃথিবীতে যাইয়া দুইজন সেরা নারী সম্পর্কে জানিয়া আস , দুই চোখ যখন ।

দেবদূত গন , বলিলেন কিন্তু এই সেরা নারী নির্ধারণের মানদণ্ড কি হইবে বলিয়া দিন ঈশ্বর ?

ঈশ্বর একটু ভাবিয়া কহিলেন , তাদের এমন ভালোবাসা অর্জনের যোগ্যতা থাকিতে হইবে যে , অন্তত দশ লক্ষ বা ১ মিলিয়ন মানুষ তাদের কথায় বিনা প্রশ্নে কেবল ভালবাসিয়া জীবন দিতে ও নিতে পারে ।

অতপর, দেবদূত গন আকাশ হইতে রওনা করিলেন পৃথিবীর উদ্দেশ্যে। মধ্য পথে তাহারা পৃথিবীর একটি অঞ্চলে আগুন জ্বলিতে দেখিয়া আগে সেখানে নামিলেন । এবং তাদের সন্ধান ঐ মুহূর্তে শেষ হইল। তাহারা জানিলেন এই অগ্নির উৎস দুই নারী এবং উহা কিছুই নয়। উনারা দুইজন চাহিলে লক্ষ নয় কোটি লোক এক কথায় ভালবাসিয়া, নিজের জীবন দেয়া বা অন্যের  টা কাড়িয়া নিতে পারে। দেবদূত গন তৎক্ষণাৎ ঈশ্বরেএর নিকট ফিরিয়া জানাইলেন, বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে তাহারা দুই জন নারীর খোঁজ পাইয়াছেন যাদের কথায় কেবল ভালবাসিয়া, কোটি মানুষ জীবন দিতে পারে ।

ঈশ্বর দুজনের নাম, পরিচয় অবগত হইয়া , দেবদূত গণকে যথাযথ পুরষ্কার দিলেন। যেহেতু তিনি হও বললেই হয় তাই খুশীতে আর কোন খোঁজ খবর না নিয়াই নিজের জন্য ঐ দুইজনার দৃষ্টি চাহিলেন ও তৎক্ষণাৎ অন্ধ হইয়া গেলেন !

স্বর্গে মহা গোলমাল, ঈশ্বর অন্ধ ! আসলে ঈশ্বর ততখনে ব্যাপারটি আঁচ করিয়া, এফ, বি, আই কে তদন্ত করিতে বলেন। এফ বি আই রিপোর্ট দেয় , ঐ দুইজনা নিজের ছাড়া আর কিছু দেখিতে পাইতেন না যার অপর অর্থ অন্ধই বলা যায় । সেই থেকে ঈশ্বর সাময়িক অন্ধ ।

এখন প্রশ্ন হইল, আমরা কি এই অন্ধ নারীর চোখে পৃথিবী দেখিব? আপনারা বলেন ? এর বাইরে ইতিহাস বহু নিষ্ঠুর নারীর কথা বলে, যাদের নির্দয়তা যে কোন হিংস্র পুরুষের সমান বা বেশী বই কম ছিল না । তাহলে তাদের চোখে দেখিব কি ? কোন টাই কাম্য নয় । জিজ্ঞেস করি এই শ্লোগান টি কারা প্রমোট করে ? একটু লক্ষ্য করিলে দেখিবেন , বেনিয়া মালটি- ন্যাশনাল কোম্পানি গুলি তেল, সাবান, শাম্পু, নেল কি লিপ পলিশ বিক্রিতে এই শ্লোগান টি দমে দমে উচ্চারন করে ! রুপের রহস্য ওয়ালারাত কথাই নাই !! এতে সমস্যা টা কোথায় ?  আমি কি বলতে চাই? দেখুন ,

নারী বলতে সব নারীর দৃষ্টি মানবিক তা ঠিক নয়, তাদের ও লোভ , কাম , ক্রোধ সবই আছে। এমন নারীও আছে, মাত্র প্রিয় পুরুষ টি শত্রু পক্ষের নারীর গলা হইতে হীরার হার ছিনাইয়া আনিয়াছে, তাকে হত্যা করিয়া। কিন্তু নিহত রমণীর মতই অপর নারী হীরার হারের বিনিময়ে পুরুষের কামনা পুরনে লিপ্ত, আরেক নারীর হত্যা বিষয় নয়। আমি এমন নারীর চোখে পৃথিবী দেখিতে চাই না । যদিও নারীর চোখেই দেখিতে চাই !! অবাক হলেন ??

নারীর শুদ্ধতম রূপ জননী, আমি সেই ভিরু জননীকে দেখেছি স্বামী পরিতাক্তা , হয়ত পিতার বা ভাইয়ের ঘরে দাসীর জীবন সামনে , তবু সন্তান টি কে কোল ছাড়া করেন নাই , তিনি যে জননী । পৃথিবীর শুদ্ধতম দৃষ্টি হইল, সন্তানের প্রতি জননীর, কেবল নারীর নয়। যে নারী আমার হৃদয় ভাঙ্গিয়াছে চাইলেও তার চোখে আমি বিশ্ব দেখিব না। কিন্তু এই মাত্র সন্তান যে জননী কে লাথি মারিয়া বাহির করিয়া দিয়াছে, সেই জননী কে বলিয়েন তোঁ সন্তান টি কে অভিশাপ দিতে ? দিবে না ! তাই ঐ বেনিয়া , নির্বোধ , শ্লোগান নয়, নিরাপদ পৃথিবী চান তোঁ বলুন ঃ

জননীর চোখে বিশ্ব দেখুন ।