ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

2

বঙ্গদেশে আইন কী রূপে বিদ্যমান ? — উত্তর ইচ্ছা রূপ ।

বঙ্গ দেশে নারীর কী রূপ? উত্তর কেবল ভোগ্যা ।

তোমার মা, বোন, স্ত্রী, কন্যাও কি তাই ? উত্তর, যাহার শক্তি আছে তিনি কষিয়া এক চড় মারিবেন, দুর্বল মিনকা হাসি দিবেন ।

বাংলাদেশে একক, একমাত্র, সৌরজগত এর শ্রেষ্ঠ আইনজীবী  হ্যাপীর মামলা হইতে নাম প্রত্যাহার করিয়া স্ট্যাটাস দিয়া নিজের জীবন ধন্য করিয়াছেন! যেন আইনজীবী ফেসবুকে যোগ, বিয়োগ করা যায় । ইতিপূর্বে উনি সম্ভবত হিজবুত তাহরিরের পক্ষে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অনুমতিহীনতার বিষয়ে একটি মামলায়  পক্ষে আবেদন করিয়া ক্যামেরায় চেহারা দেখাইয়া ছিলেন। আইনজীবী ইচ্ছা করিলে মামলা নাই করিতে পারেন, কিন্তু মক্কেলের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার বাধা হইতে পারে অথবা তাকে সামাজিক ভাবে বিব্রত করে এমন পরিস্থিতি তৈরির অধিকার কি তাহার আছে?

বলি না রুবেল ধর্ষণ করিয়াছে কিন্তু অভিযোগ আছে, সত্য-মিথ্যা আদালত বলিবেন তাই বলিয়া একজন পেশাজীবী পেশার মর্যাদা হারাইয়া ফেলিবেন? তাও আইন পেশার? যদি রুবেল অপরাধ করিয়া থাকে, যদি সে ধর্ষক হইয়া থাকে তবু তাকে চাপ মুক্ত রাখিতে ধর্ষিতাকে হাসি মুখে থাকিতে হইবে কারন উনি বোধহয় আইনজীবী পাইবেন না আর বিচার তো পরে! কে প্রশ্ন করিবে এই আইনজীবী কে যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়া আইনি বাবসা শুভ কিছু নয়। হিজবুত তাহরিরের আবেদন করা যায় কিন্তু একজন নারীর পক্ষে দাঁড়ানো যায় না!! যদি বলি একজন পতিতাকে ধর্ষণের অধিকারও কি আইন কাউকে দিয়াছে? শুধু বলি হ্যাপি আপনার ছোট বোন ।

একজন আইনজীবী, প্রায়ই মামলা বিষয়ক রেফারেন্স, বা আইনগত তথ্য চাহিয়া আমাকে ফোন করেন । আমি চেষ্টা করি তাহাকে সাহায্য করিতে ।

কাল রাতে ফোনে বলিলেন, দাদা বাংলাদেশ কি দেখাইল?

আমি বলিয়াছি খুব ভাল, আরও ভাল এই দেখানোর সাথে রুবেলের জামিনকে যুক্ত করিয়া আইনকে ধর্ষণ করিয়া ফেলিয়াছে সবাই মিলিয়া !!

উনি অবাক হইয়া বলিলেন, কী বলেন দাদা? একটা সি গ্রেড প—– ওর আবার –!

চুপ করিয়া গিয়াছি । হয়ত সে ঠিক । আমার অত বুদ্ধি নাই, তাই বুঝি না। পতিতার আবার ধর্ষণ হয় নাকি? নারীর আবার ইজ্জত? এমন বিজয়ের নায়কের পায়ে তাদের কন্যা, স্ত্রী, বোন সব উৎসর্গ, সেখানে এক সি গ্রেড পতিতার সন্মান আর আইনের মর্যাদা?? আসলে আমি যার কাছে আইন শিখিয়াছি উনি হয়ত ভুল , প্রায়ই বলিতেন, হয় আইন নয় মৃত্যু, একজন আইনজীবীর দর্শন এই ।

জনক তুমি ক্ষমা করিও তুমি ভুল।    –  হ্যাপি র মামলাটি প্রথম হইতেই ভুল পথে চলিয়াছে। ধর্ষণ বলিতে কেবল জোর পূর্বক নয় , ২০০০ সনের ৯ নং আইনে এও বলা যদি সম্মতি সহকারেও সহবাস হইয়া থাকে, কিন্ত সেই সম্মতি প্রতারনার মাধ্যমে নেয়া, যেমন বিবাহের আশ্বাস, অথবা  বিবাহিত বলিয়া ভাবার কারন আছে সেক্ষেত্রে ও ধর্ষণ বলা হইবে।

আমরা কি দেখিলাম ? একদল নির্বোধ সংবাদকর্মী সারা জাতিকে মেডিক্যাল পরিক্ষার রিপোর্ট শুনাইলেন, জোর করিবার কোন আলামত নাই !! হ্যাপী কি বলিয়াছে জোর করা হইয়াছে? বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়া দিনের পর দিন রাত্রি যাপন, স্বামী ,স্ত্রী র মত বসবাস তার কথা । এক্ষেত্রে জোড় করিবার আলামত কোথা হইতে আসিবে ? তবু প্রশ্ন রুবেলের সাথে শারীরিক সম্পর্ক ছিল কি, তাহা কিভাবে বুঝিব? মেডিক্যাল পরীক্ষা দরকার? কিন্তু তাহার আইনজীবী কেন বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন নাই এবং রিপোর্টটি মামলা শেষের আগে প্রকাশ্য আসায় নিষেধাজ্ঞা চান নাই। কারন রিপোর্ট এ একাধিক সম্পর্কের কথা বলিল আর আমরাও বলিয়া দিলাম – হ্যাপী তো প —- !! অতএব ধর্ষণযোগ্য!

প্রশ্ন হইল হ্যাপী কি একথা বলিয়াছে সে কুমারী ছিল রুবেলের সাথে পরিচয় কালে? সে তখনই নায়িকা বা মডেল, রুবেলও বাচ্চা ছেলে নয়! কাজেই হ্যাপির অভিযোগ, রুবেল তাহাকে ভালবাসার অঙ্গিকারে বিবাহিত দম্পতির মত বসবাস করিয়াছে, যদি অভিযোগ সত্য প্রমানিত হয় সে ধর্ষক এটাই আইন । হ্যাপির এত আইন বোঝার কথা না। কিন্তু নিম্ন আদালতে তাহার আইনজীবীর ভুমিকা স্পষ্ট নয় । আর সাংবাদিকগণ অনুসন্ধান করিয়া দেখিতে পারে যে গতিতে মাজিস্ট্রেট আদালত হইতে মামলাটি জজ কোর্টে শুনানি হইল তা ইতিপূর্বে অন্য কয়জনের বেলায় হইয়াছে?

বলিবেন রুবেল জাতীয় ক্রিকেটার ? আমি কেবল বলিব আইনের সামনে হাইকোর্ট মাজারের পাগল আর জাতীয় ক্রিকেটার এক । তবে নিম্ন আদালতের যে বিচারক রুবেলের জামিন অস্বীকার করেন উনাকে সালাম জানাই, কোন চাপ নয় আইনে যা আছে তাই করিয়াছেন , আমি জানি অসম্ভব সৎ মানুষ যদিও এই মানুষ গুলো এখন পাগল বলিয়া বিবেচিত হন ।

যাই হোক যেদিন মেডিক্যাল রিপোর্ট বহুগামিতার বর্ণনা সহ প্রকাশ হইল, আমি ফেসবুক এ স্ট্যাটাস দিয়াছিলাম, বাংলার পুরুষ সমাজে ভারী আনন্দ, নুতন আমদানি । কেবল রেট জানা বাকি যদিও প্রয়োজন শেষে পয়সা দিব না । পতিতার আবার পয়সার দাবী । কেউ ভাবিবে না হয়ত মেয়েটি ভালবাসিয়া ছিল, স্বপ্ন দেখিয়াছিল ! পতিতার স্বপ্ন !!

তা ভাইয়েরা প্রস্তুত হন কেবল ভালো খেলার কারনে, কোন ক্রিকেটার যাহাকে ইচ্ছা প্রেমের অভিনয় করিয়া ভোগ করিবে, কিছু বলিতে পারিবেন না । যদি সে আপনার বোন হয়?

আমি হ্যাপীকে চিনি না, ইচ্ছাও নাই। প্রথম হইতেই মামলাটির দুই পক্ষের চরিত্র নিয়া আমি সন্দিহান, এসব মামলার গতি হয় না , সমাজে নোংরামি ছড়ায়, লাভ বাদি, বিবাদি, বা চেহারা দেখানো আইন বাবসায়িদের। কিন্তু এখানে আইনের যে অমর্যাদা হইয়াছে, তার সাথে একটি মহান বিজয়কে সম্পৃক্ত না করিলে চলে না?  অহঃ নারীবাদী, আন্তর্জাতিক নারীরা কোথায়?

এইভাবেই, আইন তার মর্যাদা হারায়, নারী পতিতা হয়, আগামী দিনের ক্রিকেটারদের জন্য উৎসর্গ বাংলার সব নারী, নির্বিচারে। আইন কাঁদিবে না — সে মরিয়া গিয়াছে ।