ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বিগত ৭ই মার্চ জাতির জনকের উচ্চারিত ৭১ এর ৭ই মার্চ বিকেলের সেই শব্দাবলী কে বাঙ্গালীর জীবনে স্বাধীনতার মন্ত্র, কলেমা ও তার পিতার দায়িত্ব সম্পাদন বলিয়া অভিহিত করিয়া ছিলাম। লেখাটি তাৎক্ষণিক আবেগে লিখা কিন্তু বিষয়টি নিয়া আমরা অনেক দিন ধরিয়া কাজ করিতেছি। আবেগ অনেক ক্ষেত্রে দৃঢ় উচ্চারন ও যুক্তি কে  বাধাগ্রস্থ করে, বিষয়টি র প্রকাশ ক্ষতি গ্রস্থ হয় । তাই বিবেকের দায়মুক্ত হইতে সম্পূর্ণ বিষয়টি উপস্থাপন প্রয়োজন মনে করি , অন্য অর্থে ইহা জনকের জন্ম দিনের উপহার । বিষয়টির আরও কিছু দিক পূর্ণতা দিয়া দাবীটি সামনে আনিতাম হয়ত। কিন্তু আপাতত জানাইয়া রাখাও মন্দ নয় ।

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও স্বাধীনতার ঘোষক , পক্ষ- বিপক্ষ নিয়া একটি জাতি যুদ্ধে লিপ্ত, সময়ের উল্টা পথে হাটে। উহা কি দুর্ভাগ্য?? আমি তা মনে করি না। উহা আমাদের মেধাহীন রাজনীতির ফল, এই মেধাহীনতার শুরু আওয়ামী লীগের হাত ধরিয়াই। তার আগে বলি, আমাদের স্বাধীনতা কোন গোপন রাজনীতির ফল নয়, কোন গুপ্ত বিপ্লবের অর্জন নয়, এই ইতিহাস খোলা বইয়ের মত, আন্দোলন , সংগ্রামের অর্জন। তাহলে এত বিতর্ক কেন ? মূলত আন্দোলন পারদর্শী হইলেও, সৃষ্টিশীল মেধার অভাবে এই সংকট, এই তর্ক।, ইতিহাসের সত্যিকারের মুহূর্ত টি চিনিতে না পারা বা তার তাৎপর্য অনুধাবন না করিতে পারার কারনে আজ এই সমস্যা। এবং সব কিছু গ্রাস বা দলীয় করন করার প্রবনতা ও এর কারন । স্বাধীন বাংলাদেশের , ঘোষণা, জাতির জনক নির্ণয় এবং বাংলা মুক্ত বা স্বাধীন দিবস , নির্ধারিত হবে ৭ ই মার্চের সেই বিকেল কে কেন্দ্র করে, আজ না হোক আগামী সময় সে কথা বলবে। পরিসর বৃহৎ–কেন ৭ই মার্চ ? কেবল মুল জায়গাটি বলি:

১/ সেই মার্চের বিকেলে, স্বাধীনতার লক্ষে কি কি পদক্ষেপ নিতে হইবে জনক স্পষ্ট বলিয়া দেন । প্রতিটি ঘর হইবে দুর্গ–  পাকিস্তানি প্রতিরধের। সাধ্য ও সম্বল অনুযায়ী যার যা হাতিয়ার আছে তা নিয়ে প্রস্তুত হও, কেন? শত্রু নিধনে । জীবনের তরে বন্ধ করিয়া দাও, এর মানে কি? শত্রু হত্যার নির্দেশ। আমি যদি নির্দেশ নাও দিবার পারি — অর্থাৎ এটাই নির্দেশ , আজ হইতে শুরু । খাজনা, সরকারি বিল বন্ধ– এর অর্থ একটাই পাকিস্তান অস্বীকার। দাবায়ে রাখতে পারবে না — ভয় দেখিয়ে লাভ নেই এবং উনি কি চান তা বলে দিলেন এবার ,

২/ এল ঘোষণাটি — এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম । কেউ অস্বীকার করিবেন ,এই ঘোষণা সারা জাতিকে মানসিক স্বাধীনতা দিয়েছিল ঐ মুহূর্তে? ভৌগলিক স্বাধীনতা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র । এই দুইটি বিষয় বিবেচনায় নিলে স্বাধীনতার ঘোষক, ঘোষণা এবং ঘোষণার সময়/ দিন নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ আছে কি ? এবার আসি কেন জাতির জনক ?

৩/ যে কোন জিনিসের চূড়ান্ত বা সর্ব শেষ সীমা বলিয়া একটি কথা আছে যা বিজ্ঞানেও স্বীকৃত। সেই বিকেলে শেখ মুজিবর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের চূড়া স্পর্শ করেন। এবং তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন নি কোন দিন, সম্ভব ছিলও না । পরবর্তীতে তার কাছে প্রত্যাশার আর প্রাপ্তির বাবধান তাই বলে, অনেকে যাকে তার  শাসক জীবনে ব্যারথতা বলেন। এটি বললে বিজ্ঞান অস্বীকার করা হয়। কারন ঐ চুড়া ছুঁয়ে দিলে তা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। কি সেই চূড়া ? একটি জাতি ও স্বাধীন দেশ নির্মাণ। মূলত বাঙ্গালীর স্বাধীনতা ঘোষণা ও তা অর্জনের পথ নির্দেশ করেন, নুতন জাতি নির্মাণ করেন যার জনক তিনি। এ কারনেই তিনি জাতির জনক ।

অনেকে পরবর্তী বিভিন্ন ঘোষণার কথা বলেন! এটা কি সত্য নয় সেই সব ঘোষণাই এসেছিল তার ঐ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ? উদাহরন দেই। আটপাড়া থানায় কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র শোনা যাইত না , বাজারে দাঁড়াইয়া আমার মূর্খ মামুজান ও বলিয়াছিল , “ঐ শোন ঢাকাতে পাকিরা লুক মাইরালতাছে, মুজিব গ্রেফতার, বাইরও সবাই যা আছে নিয়া, যুদ্ধ হবে, দেশ স্বাধীন। শেখ সাব কইছে , আগে থানাত লও , অস্র কাইরা নিবাম — এখন কি তাকেও স্বাধীনতার ঘোষক বলতে হবে? হয়ত মেজর জিয়া ভাগ্য অর্জিত সুযোগে একটি ঘোষণা দিয়াছেন, সামরিক বাহিনীর লোক হওয়াতে  তার গুরুত্বও বেশী কিন্তু ঐ ঘোষণাটি নির্মাণের যে দীর্ঘ পথ তা কে পাড়ি দিয়াছেন, কে দিয়াছেন দিক নির্দেশনা ? উত্তর একটাই — শেখ মুজিব ।

এবার ভুলের কথায় আসি , স্বাধীনতার পর সাংবিধানিক ভাবে এই দিনটি কে কেন মূল্যায়ন করা হয় নাই? কেন বলা হইল না এটি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা, নির্দেশ যুদ্ধের এবং মুক্তি দিবস। আমরা স্বাধীনতা দিবস নির্ণয় করিলাম অনেকটা পাকিস্তানিদের ইচ্ছায় , তারা যে রাতে আক্রমন করল! অথচ এই আক্রমন ২ দিন আগে পরেও হইতে পারিত। কারণটাও পরিস্কার মার্চের সেই বিকেলে মানসিক স্বাধীনতা অর্জন করিয়া , লাল সবুজ পতাকা নিয়া সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী ভোঁগলিক মুক্তির প্রহর গুনিতেছিল । কে দিয়াছিলেন ঐ মুক্তি? কে নির্মাতা নুতন জাতির — শেখ মুজিব। এটি যদি সংবিধান প্রনয়নের সময় স্পষ্ট করিতেন আজ বিতর্কের কি কোন সুযোগ ছিল ? পাকিস্তানি দের আক্রমনের রাত টিকে বাছিয়া নিয়া স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক সৃষ্টির সুযোগ করিয়া দিলেন। এটা বোঝার, ইতিহাসের মুহূর্ত চেনার মেধার অভাব যাকে মেধার সংকট বলিয়াই অভিহিত করি ।

দলীয় করন ছোট হইলেও একটি কারন। জাতির জনক কোন দলের থাকেন না , সার্বিক গ্রহন যোগ্যতার জন্য তারেক রহমান যেমন তাকে জাতির জনক মানিতে হইবে তেমনি আওয়ামী লীগ কেও ভোটের রাজনীতিতে জনকের একক মালিকানা দাবী ছাড়িতে হইবে । কারন উনি সবার । আওয়ামী লীগ, কি বি এন পি যে জাতির উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করিবে উনি সেই জাতির জনক। আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উনি কিন্তু যখন উনি জাতির জনক , উনার মর্যাদার স্বার্থেই আওয়ামীলীগ কে একক দাবী ছাড়িতে হইবে, ত্যাগের এই শিক্ষা উনিই দিয়াছেন। আবার এটিও স্পষ্ট আইন থাকিতে হইবে, এর পর উনাকে অস্বীকার করিলে এই বাংলায় রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার হারাইবেন, সেটি তারেক অথবা যেই হোক । এতদিন বহু পণ্ডিত বহু কথা বলিয়াছেন , অনেক স্বার্থে। আজ জাতির স্বার্থে এই সমাধানে আসিতে হইবে। আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হইবে জানি, ভয় কি তার কাছেই তো পথ চলা শিখিয়াছি।

একদিন মার্চের সপ্তম দিনের বিকেল নিজেই সাক্ষী দিবে,এই সময় ঘোষিত হয় তোমাদের স্বাধীনতা,- ঘোষক শেখ মুজিব । তাই তিনি জাতির জনক— টুঙ্গি পাড়ার মাটিতে শুয়ে আমাদের আশীর্বাদ দাও জনক, তোমার জন্মদিনে এই প্রার্থনা ।