ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

হে আল্লাহ উহাদের আত্মা তুমি কি দিয়া সৃষ্টি করিয়াছ, সামান্য লাইকের লোভে তোমার পবিত্র নামের,বানীর অপমান করে !
যাহারা ফেস বুকের উম্মুক্ত পেজে ধর্ম, আল্লাহ, নবী (সা) দরদী সেজে পোস্ট দেন ইদানিং আমি তাহাদের মানব জন্ম নিয়া সন্দিহান। মাতৃ গর্ভে জন্ম হইলেও উহাদের ঔরস খোদ ইবলিশের। আমি তাই বিশ্বাস করি । কেন ?
আমি দেখেছি, সাধারন পেজের উপরের পোস্টে , – বাঙালি নারীর যৌবন জ্বালা !
নীচে ঃ সানি লিওনের সেক্স !
ঃ আর মাঝ খানে ১০ টি সহিহ হাদিস!! বা কোরানের আয়াত ( হে আল্লাহ ক্ষমা কর )
এখন যদি মুসলমান হন উহা সমর্থন করেন কি ? আপনি কি বাড়ীতে কোরআন শরীফ সন্মানের সাথে রাখা শিখেন নাই ? যে কোন প্রকৃত মুসলিম তার পরিবারে এই শিক্ষা লাভ করে কোরআন ও হাদিস গ্রন্থ , বানী আলাদা ভাবে সন্মানের সাথে সংরক্ষন করা।  আপনি যদি কোরানের এই অসন্মানের প্রতিবাদ না করেন কেমন মুসলিম আপনি ? আমি এই ধরনের লোকেদের ইহুদির অধিক নষ্ট মুসলমান বলি ।
প্রশ্ন হল কারা কেন এটা করে?
মনে রাখবেন ঘুষ খোরের টুপি প্রদর্শনীর জন্য, নামাজির টুপি প্রয়োজনের। কতিপয় ভণ্ড নিজেদের অসৎ চরিত্র তাড়িত হইয়া ধার্মিক সাজে এবং লম্পট প্রবৃত্তি বাস্তবায়নে এই সব পোস্ট করে। সাধারনের ধর্মের দুর্বলতার সুযোগ নেয়া সোজা । এরা তাই করে । নিজেদের চারিত্রিক শুদ্ধতা প্রকাশে এ কেবল ধর্মের মতলবি ব্যাবহার । ধর্মীয় প্রদর্শনী অসৎ ও চতুর মানবদের বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রাচীন কৌশল যা সেই প্রথম দিনের মত আজো সমান কার্যকরী ।
-আরেকদল !! কেবল লাইক , হায় লাইকের আশায় আল্লাহর পবিত্র কালাম কে উপরে নীচে চটি গ্রন্থের মধ্যে আবদ্ধ করে ( নাউজুবিল্লাহ) । কারন সাধারন আমরা আল্লাহ, নবীর ( সা ) বানী দেখলে লাইক দেই । মজার বিষয় এই যে ঐসব পোস্টে হাদিসের যে সুত্র উল্লেখ করা হয় অনেক সময় তাও ভুল আর কিছু হাদিস তো মুল বিচারে স্বীকৃত ও নয় । তারপরও কেবল ধর্মীয় বানী বিবেচনায় যাচাই, বাছাই ছাড়াই আমরা তাহাতে লাইক দেই , বিশ্বাস ও করি ।

আরেকদল রাজনৈতিক ধর্ম বিকৃতিকারী , রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় বানী বিকৃত করে বা বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে সমর্থক , অনুসারী তৈরি করতে চাচ্ছেন যারা ভুল বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠছে- এর পরিনতি ইতিহাসেই দেখা যায় । এদের অনেক কেই আমি দেখেছি , কুন ফা ইয়া কুন এর এমন অদ্ভুত অর্থ তারা দাবী করে যার সাথে মুল ও স্বীকৃত কোরানের কোন অনুবাদের সম্পর্ক নেই । আমার ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দীর্ঘ তর্ক পর্যন্ত হয়েছে ।

বিষয়টি কেন প্রাসঙ্গিক ? বিগত কিছু দিন হতে এই ধর্ম প্রচারনা আশঙ্কা জনক হারে বাড়ছে এবং খুব সহজেই নুতন প্রজন্ম এই ফাঁদে পা দিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে। আমি নিজে তাদের সাথে কথা বলে দেখেছি ধর্মীয় বিষয়ে জীবন আচারে এরা এমন সব বিশ্বাস স্থাপন করছে যার সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই, মুল কোরআন , হাদিসেও তার কোন উল্লেখ নেই । এখন প্রশ্ন হল যারা প্রতিনিয়ত ফেস বুকে , ব্লগে ধর্ম যূদ্ধের তলোয়ার ঘুরাচ্ছেন এই অনাচার নিয়ে তারা নীরব কেন ? হাজার আইন প্রনয়নের দাবী করেন কিন্তু এই বিকৃত রুচির বিরুদ্ধে মত প্রকাশে নিশ্চুপ কেন ?

আরেকটু লক্ষ্য করলে দেখবেন অনেকের পছন্দের পুস্তক তালিকায় বা লাইক পেজের তালিকায় পবিত্র কোরআন, হাদিস গ্রন্থের পাশেই বাংলার চটি, সেক্সি ভাবী ইত্যাদি । কতখানি বিকৃত রুচি হইলে এটা সম্ভব ? আর এই বিকৃত নজির সামনে রেখে বেড়ে উঠেছে আমাদের একটা গোটা প্রজন্ম!

আমরা কি করতে পারি ? ( যারা ফেসবুকে ধর্ম প্রচার করতে চান )
ফেস বুক ব্যাবহার কারীরা জানেন , সুনিদ্রিস্ত এবং নিয়ন্ত্রন যোগ্য পেজ খুলতে কোন আলাদা টাকা লাগে না । আপনি ইসলাম প্রেমি হইলে তা খুলে মহান বানী সমুহ প্রচার করুন । যেখানে অন্য কোন পোষ্টের সুযোগ নেই। অথবা প্রকাশের আগে তা নিয়ন্ত্রনের বাবস্থা আছে ।
যদিও ঐসব মতলববাজ ধার্মিকেরা তা করিবেন না , কারন লাইকের সুযোগ কম আবার নষ্ট পুরুষ ও রমণীরা নিজেদের পবিত্রতা দেখাইবেন কাকে?
আমি জোড় করে নিয়ন্ত্রন আরোপের কথা বলি না, কিন্তু প্রার্থনা করি সমাজের বিবেক ও নৈতিকতার হয়ে এই অসাধু ও চূড়ান্ত অনৈতিক কাজটির বিরুদ্ধে আমরা সজাগ হই। আর যারা প্রতিনিয়ত জিহাদি হুঙ্কার দেন তাদের বিনয়ের সাথে বলি যে টুকু আছে তা যেন প্রকৃত পথে পরিচালিত হয় সেজন্য সচেতন হোন ঘর সামলিয়ে তার পর না হয় প্রতিপক্ষ কাবু করবেন । মনে রাখবেন এই ধর্মের আগাছারা চিরকাল মুল ধর্ম কেই কলঙ্কিত করেছে ।

যারা ফেস বুকে অসৎ উদ্দেশ্যে, লাইক , কমেন্ট বৃদ্ধির জন্য মহান ধর্মের এই অমর্যাদা করছেন তারাও কি একটু ভেবে দেখবেন ?