ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সম্প্রতি ১লা বৈশাখে বস্ত্রহরণকে ঘিরিয়া মায়াকান্না ও বিচারের দাবীর মৃদু চিৎকার শুনিয়া, হাসিব না কাঁদিব বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না!

কে করে বিচারের দাবি? কোন অধিকারে? নাগরিক অধিকারে? ওহে শোন হে নাগরিক, যে বস্ত্র তুমি স্বেচ্ছায় খুলিয়া, তুলিয়া দিয়াছ রাজদণ্ডের হাতে, সেই বস্ত্রহরণের বিচার চাও? সেলুকাস! উলঙ্গ নাগরিক  তুমি আজ নারীর বস্ত্রহীনতার জন্য লজ্জিত? অথচ নিজের নগ্নতা তোমায় লজ্জা দেয় না! কী করিয়া স্বেচ্ছা নগ্ন তুমি? দেখ!

নারীর শ্লীলতাহানির এই সরকারের সময় (ইতিপূর্বেও হইয়াছে) শুরুর দিকটা আনন্দ মোহন কলেজের এক উৎসবে। উহা একটি নাম মাত্র এমন উদাহরণ। আরও আছে। তুমি বলিলে (যেহেতু অভিযোগ ক্ষমতা বানদের দিকে তাই ), বাচ্চাকাচ্চা একটু ভুল করিয়াছে মাফ করা যাক। নাগরিক কিংবা নারী অধিকার, অসম্মান বিবেচ্য নয়! বাচ্চাকাচ্চা বিবেচ্য!

শুরু হইল বাজিকরের খেলা। নদী দখল, টেন্ডার দখল, সড়ক দখল, শিক্ষাগন দখল, হল দখল, দখল আর দখল – তুমি বলিলে ওসব একটু-আধটু না করিলে কী হয়! যেন নাগরিক দায় নাই, নাই দায়িত্ব।

উন্নয়নের একটি উদাহরন দেই কেবল, হাঁকডাক ছাড়িয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো স্বপ্নে নির্মাণ হইয়া গেল। গাড়ীও চলিল প্রায়! বেরসিক বিশ্ব ব্যাংক বলিল না দুর্নীতির গন্ধ পাও! বেকায়দায় পড়িয়া চুপ রহিলে! মন্ত্রীর বিদায়ে স্বস্তি ! অতপর আবার এসো নিজেরা করি! এখন তো বিশ্ব ব্যাংক খোদ অপরাধি। তোমার গলাবাজি কে দেখে? নাগরিক হিসাবে প্রসারিত বক্ষ হিমালয় ঠেলিয়া ফেলে! একবার ও জিজ্ঞাসিলে যেটি ৫ বছর আগে হওয়ার কথা তা ৫ বছর পরে হওয়াতে ক্ষতির আর্থিক মূল্যমান কত? এই দায় কার? আর ৫ বছর বিলম্বের কারনে কত হাজার কোটি টাকা খরচ বৃদ্ধি পাইল উহা কে দেবে? তুমি নাগরিক নীরব থাক, উল্লাস কর!

কেবল ঘটনা বলি, হোক টোকাই হইতে কোটি পতি, চৌধুরী আলম নাই! একজন জন প্রতিনিধি রাজধানীর তুমি নীরব! ইলিয়াস আলী, হোক জন্মে ভুল তবু যে দলটি তোমার, আমার মত নাগরিক ভোটে দেশ শাসন করিয়াছে কয়েক বার তার সাংগঠনিক সম্পাদক নাই! তুমি কী বলিয়াছ? গুপ্ত থাকা সালাউদ্দিন গুম তার স্ত্রী, কন্যার কান্না তোমার নাগরিক হৃদয় স্পর্শ করে নাই! তুমি কি বোঝ নিজের জন্য ঐ পথ তুমি নির্মাণ করিয়াছ?

বিরোধী আন্দোলনের পেট্রোল সন্ত্রাস কিংবা নাশকতার নিন্দা করি। কিন্তু যে নিরাপত্তা তোমার প্রাপ্য সরকারের কাছে আইনি পথে, তা না করিয়া তুমি বেআইনি গনধোলাই আর ক্রস ক্রস গুলিবিদ্ধ দেখিয়া বলিয়াছ দে তালি!! আরে গোলাপিরে শিক্ষা দেয়ার নামে তুমি তোমার শেষ বস্ত্রখানি তুলিয়া দিলে কার হাতে হে নাগরিক?

কত বলিব? ১৫৩ আসনে ভোটার বিহীন নির্বাচনের মহান গণতন্ত্রী তুমি ! হায় নাগরিক বিচার চাও বস্ত্রহরণের?

অথবা সেই দিনটি স্মরণ কর ২১শে আগস্ট। সেই নির্মমতার দিনে নাগরিক তুমি প্রয়োজনে একবার নামিয়া আসিতে রাস্তায়, ঐ রাজপুত্রকে বায়তুল মোকারম দাঁড় করাইতে কাঠগড়ায়, পরবর্তী সাহস কারো হইত না এত অপকর্মের, বুক কাঁপিত শাসকের  হে নাগরিক ।

মিডিয়া মিথ্যাকে রঙ চড়াইয়া কি নির্মম প্রহসন করিতেছে দিনের পর দিন, নাগরিক তুমি নীরব।

প্রতিটি ক্ষেত্রে, নীরব রহিলে, মিথ্যাকে বরণ করিলে, নিজ দায়িত্ব অস্বীকার করিলে, নিজে উলঙ্গ হইলে স্বেচ্ছায় , আর আজ বস্ত্রহরণের বিচার চাও? দে তালি!

শোন হে নাগরিক , শুনিয়াছি , চূড়ান্ত এক নায়কতন্ত্রের ধাপগুলো নাকি এমন, উন্নয়নের আকাশ কুসুম স্বপ্ন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রন, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন, দলীয়করণ, গুম খুন এবং শেষ ধাপটি প্রকাশ্য নারীর সম্ভ্রম হানী!এর পর কে কথা কয়?

হে নাগরিক, কোন ধারাবাহিক ছাপ কি দেখিতে পাও?

কিসের বিচার চাও? নিজের নগ্নতার? যে বস্ত্র স্বেচ্ছায় খুলিয়া দিয়াছ তা হরণের? হায়! বুড়ী চাঁদ গেছে বেনোজলে ভেসে !!