ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশসস্থ, বাংলাদেশী , বালক ,বালিকা বৃন্দের জ্ঞানের( জ্ঞান অর্থে কুবুদ্ধি পড়ুন) উদয় হইয়া, অস্তে উপনীত নির্বোধে রুপান্তরের পূর্ব পর্যন্ত , সর্বাধিক বার পরম পুলকে, পুলকিত হইয়া , চরম আনন্দে উচ্চারিত এবং হৃদয়ের দরজা, জানালা  বন্ধ করিয়া ভালোবাসিত, এই “ব” অদ্যাক্ষরে ‘ল’ শব্দটিকে আমি ব অদ্যাক্ষরে ল এর প্যাঁচাল বলিয়া অভিহিত করি- সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে যে কোন আলোচনায় । তবে শিরোনাম খানি কিঞ্চিত ব্যাখ্যা দাবী করে।

সামাজিক যোগাযোগ সহ আকাশ সংস্কৃতির যেঁ কোন ক্ষেত্রে সবার জন্য উমুক্ত পেজে কেউ যখন কোন লিখা প্রকাশের জন্য জমা দিন লক্ষ্য রাখবেন সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ন্যূনতম মাপকাঠি বা মানদণ্ড যেন বজায় থাকে ভাষা ও শব্দের ব্যাপারে । অশ্লীল শব্দ , গালি এসব লিখায় প্রকাশ করে আপনি কত লাভবান জানিনা কিন্তু এটা জানি হয়ত কোন কিশোর তার জীবনের প্রথম অশ্লীল উচ্চারিত বা লিখিত শব্দটির সাথে পরিচিত হইল, অশ্লীলতার পথ চলা শুরু হইল তার ! এই দায় কিছু তো আপনারও । খুব দুঃখজনক হলেও সত্য প্রগতিশীলতার ও চেতনা ধারীদের  অন্যতম প্রধান পুরুষ তাহার উম্মুক্ত দেখার জন্য অনুমোদিত পেজে একটি লিখা প্রকাশ করেন , ব তো দুধ ভাত !প, চ,ল আর খ বর্গীয় শব্দের উদার বাবহারে আমি বমিত প্রায় আমি , উনাকে লিখিয়া ছিলাম এবং লোক মারফত অবহিত করিয়াছিলাম- উনি যদি উনার ১০ বছর বয়সী কন্যাকে লিখাটা পরাতেন তাহা হইলে আমিও অভিযোগ তুলিয়া নিতাম ! অন্যথায় যা বলিয়াছি ঠিক বলিয়াছি। এবং ফেস বুক আই ডি তে  আলাদা আহবান পাতা  খুলি , যার বক্তব্য ছিল , — সবার দেখার জন্য উম্মুক্ত পেজে যিনি অশ্লীল গালি দিবেন ঐ পেজে যেয়ে কমেন্ট হবে , ————- জনাব, আপনি উল্লেখিত শব্দ গুলি আপনার জননীর প্রতি ব্যাবহার করিয়াছেন ! আমরা কি এইটুক ভাবি যে কিশোর বা কিশোরী বা শিশু আজ আপনার লিখাটি পড়ায় অশ্লীলতার প্রথম পাঠ নিল, এই দায় জীবন বাপি আপনার ও তো ! আমিই আবার ‘ব’ অদ্যা ক্ষরে সাথে ‘ল’ এর প্যাঁচাল শুরু করিলাম – মুলত অশ্লীল শব্দ বাবহারে আপত্তির কারনে , এবং যে বিষয়ে এই শব্দের ব্যাবহার, তাহা প্রকাশ করিতে এই শব্দ টি ব্যাবহার এর বিকল্প নাই । তাই আমি ‘ব’ অদ্যাক্ষরে ‘ল’এর সাথে সম্পর্কিত অতি উত্তম শব্দ টি উচ্চারন করি। শিরোনাম টি এভাবে পড়ুন , —- ‘র প্যাঁচাল । আর এত ব্যাখ্যার পরেও যদি না বুঝেন শব্দ টি , তবে না পড়েন লিখা । আমি অবশ্য ভাবিয়া আনন্দিত , জুলফিকার জুবায়ের ভাই বুঝিতেই পারিবেন’ না যে এবারের শিরোনামে আমি মাত্র দুইটি শব্দ ব্যাবহার করিয়াছি !!

‘ব’ অদ্যাক্ষরে ‘ল’ যুক্ত শব্দ এর প্যাঁচাল বলিতে আমি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সংক্রান্ত যেঁ কোন আলোচনা কে বুঝিতাম ২৮-৪-১৫ ইং সকাল ৮ টার পূর্বে আর ঐ সময় পরবর্তীতে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবী দাওয়া, ঘটনাবলী আলোচনাকেও আমি এই সম্বোধনে  ভূষিত করি । আসলে এই দুই শব্দে বোঝায় গুরুত্ব হীন বিষয় লইয়া আলোচনা , অথবা নিয়তির মত নিশ্চিত বিষয় কে অন্য দিকে চালানোর চেষ্টা । কেন বলি ? সিটি কর্পোরেশন এর জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের আহবান ! শুরুতেই আপত্তি সংজ্ঞা নিয়া ! জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয় নির্ধারণ । তবে গনতন্ত্রের শাড়ীর সুবিধা বেশী যেহেতু ,– লজ্জা নিবারন করিতে ও লজ্জা দানের ক্ষেত্রে খুলিতে! তাই গোলেমালে যত গোলমাল হোক না কেন তাহার আগে ঘটনাস্থল ঐ শাড়ি খুলিয়া ঘিরিয়া লইতে হবে যাহাতে দেখা না যায় । যাহার ফাইনাল রিহারসেল হইল পহেলা বৈশাখ বিশ্ব বিদ্যালয় এলাকায় নারীর, শাড়ি বিষয়ক। এখন এই নির্ধারিত তালিকার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ তো নাই কারো তাই কি নির্বাচন করিবেন ? অতপর ভোট দেয়া না দেয়ার আলোচনা মানে ‘ব’ অদ্যাক্ষর যুক্ত ‘ল’ এর প্যাঁচাল !

এই বার পরবর্তী ঘটনাবলী ( নির্বাচনে ভোট দানের নাটক এর শুরু )বিষয়ে বলার  কি আসলেই কিছু আছে ? পেট্রোল বোমা কে বানাইয়াছে , কে মারিয়াছে নিশ্চিত না করিয়া বা যথাযথ  প্রমান ছাড়াই , দাস মিডিয়ার কল্লানে একক ভাবে বিরোধী দলের উপরদায় চাপাইয়া , গোলাপি কে নির্বাচনের নামে রাস্তায় নামাইয়া, ধোলাই দ্বারা ধোলাইয়া ধোলিত করা যায় তাহা হইলে  মন্দ কি ? এবং টিমটিম করে জ্বলা  আন্দোলনের বাতি টিং টিং করিয়া দেয়া যায় ক্ষতি নাই । এই প্যাঁচাল বলার আরও কারন ইলিয়াস ইলপ, সালাউদ্দিন ইলপ – দাবী আর কান্নায় দেশ ভাসিয়া গেল কিন্তু সরকার কেবল শুনিতে পাইলেন না , সেই সরকারের কাছে বিনিত দাবী করিয়া কি অর্জন করিতে চান ? হরি লুটের স্বীকৃত রাজ্যে , ভোট লুট কি এমন বিষয় ? যেখানে ভোট হইল সরকারী মাল দয়ার দাণ ! যতই চিৎকার করি সংবিধান নামের মহাগ্রন্থ সরকারকে যেঁ ক্ষমতা দিয়াছে , সেই গ্রন্থই আমাকে ভোট এর অধিকার দিয়াছে, নিশ্চয়তা দিয়াছে! আপনি কি প্যাঁচাল পারেন ? ঐ গ্রন্থের যতখানি আমার পক্ষে ততখানি মহাপবিত্র আর যতখানি আমার বিরুদ্ধ অধিকার এর নিশ্চয়াতা দিতে চায় ততখানি নাপাকিস্থানের দালাল মোল্লা কাদের ও কামারু রেজাকারের মরনোত্তর চক্রান্ত । কাজেই ঐসব অধিকার নামীয় ‘ব; অদ্যাক্ষর এ যুক্ত ‘ল’ এর প্যাঁচাল বাদ দিন ।

কথা অল্প, গণতন্ত্র, সংবিধান , মানবাধিকার , মৌলিক অধিকার সব মানব ও নাগরিকের জন্য । আর মানব ও নাগরিক তাকেই বলে যিনি মানবিক ও নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন , মানবতা ও নাগরিকের অধিকার রক্ষাতেও মানব জীবন বিসর্জন দেন দ্বিধাহীন আগামী মানবতা ও প্রজন্মের অধিকার রক্ষায়। তো তুমি ইতর প্রজ, কোথাকার মানব ও নাগরিক হে , ভোট দিতে চাও   ? নির্বাচন করিতে চাও ?

আগে মানব ধর্ম পালন কর , নাগরিক কর্তব্য পালন কর । না করিয়া কেবল চিৎকার করিলে উহা ‘ব’ অদ্যাক্ষর এ ‘ল’ যুক্ত প্যাঁচাল !