ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

পত্রিকা মারফত জানিতে পারিলাম, ঢাকা দক্ষিনের নব নির্বাচিত মেয়র সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ী চড়িয়া , প্রথম কর্ম দিবসে মেয়র ভবনে গমন করিয়াছেন ।

তাহার অনুসারিগন তো বটেই, সম্ভবত তাহার নিজের ও ধারনা জন্মসুত্রেই উনি ঢাকা বাসীর নয়ন মনি ও ঢাকার নবাবদের একজন!

এই ধারনা উনি করিতেই পারেন, কারন পিতার নাম মোঃ হানিফ বা মেয়র হানিফ , আত্মীয় কুলে ঢাকার বিখ্যাত লাঠিধারী ও সর্দার পূর্ব পুরুষ গন আছেন কাজেই ঐ ধারনা না করিলেই বরং তাহাকে বোকা বলা হইবে ।

জী , জনাব মোঃ সাইদ খোকন সম্প্রতি পাঁচ লক্ষাধিক ছাপ মারা ব্যালট অনুযায়ী ঢাকার নুতুন নবাব / মেয়র নির্বাচিত হইয়াছেন , আসলে ঢাকা বলিতে দক্ষিন ঢাকা । অভি্নন্দন হে ঢাকা দক্ষিনের নূতন মেয়র ।

তবে আরেকটি অভিনন্দন অপ্রীতিকর হইলেও জানাইতে হয়, নবাবী মনোবৃত্তি, চিন্তার দৈন্যতা, পশ্চাৎপদ শিক্ষা, বাস্তবতা উপলব্ধির অক্ষমতা , নিজের দায়িত্ব ও আগামী কর্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞানতা ইত্যাদি বিষয় প্রকাশত , প্রথম দিনেই উনি মেয়র ভবনে উপস্থিত হইয়াছেন পত্রিকার শিরোনাম অনুযায়ী- ঘোড়ার গাড়ীতে চড়িয়া ! আমার প্রথমেই মনে হইল কর্ম সুত্রে প্রতিদিন কোর্ট কাচারি যাওয়ার পথে মাঝে মধ্যেই ঘোড়ার গাড়ী আতঙ্কে ভুগিতে হয়, পেছন হইতে কোন কারন ছাড়াই দৌড়, কোন লেন না মানিয়া পথ বন্ধ এবং কখনও রিকশা টি ঘোড়ার পাশে দাঁড়াইলে সৃষ্টি কর্তার যত নাম আমি জানি সব একযোগে ডাকি অন্তত লাথি যেন না খাই ! তো ভাবিলাম পাঁচ লক্ষ ভোটে কি এমন কাউকে পাইলাম যিনি ঐ আচরনের বার্তা দিলেন ! যাক উহা অলস কল্পনা বাস্তবে আসি ।

জনাব খোকন , আপনি জানেন নগর পরিকল্পনায় মানুষ ও পশু চালিত বাহন আধুনিক বিশ্বে হারাম বলিয়া পরিগনিত, গতি ধীর কর‍িয়া যানজট এর মুল কারন এটি? এছাড়া ট্রাফিক বাবস্থাপনা সহ অন্যান্য সমস্যা উপলব্ধি আপনার জন্য দুরুহ হইবে ভাবিয়া উল্লেখ নাই করিলাম ! একথা সত্যি আপনি যানজট মুক্ত দক্ষিন ঢাকার প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন আর নগর ভবনে প্রবেশ করিলেন যানজটের প্রতীক কে সঙ্গি করিয়া ! আমরা উহা হইতে কি বার্তা পাইব ?

বাকী কথা বলিবার আগে আপনার তাড়িয়া মারিতে আসার মত অনুসারী দের , আপনার পক্ষে দেখানোর মত কেবল একটি যুক্তি ই থাকিতে পারে তার উত্তর দিয়ে নেই । ঐতিহ্য !! বড় মধুর স্মৃতি জাগানিয়া শব্দ! ঢাকার ঘোড়ার গাড়ী আর গাড়োয়ান ঐতিহ্য বটে ! তা জনাব , দুই চারটি উন্নত দেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা থাকায় আপনি নিশ্চয়ই জানেন আজকাল ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হয় যাদুঘরে , রাজপথে নয় ! তো আপনাকে বলি আমাদের একটি চমৎকার যাদুঘর আছে। আর অনুসারী গনকে বলিতে চাই ভুল জায়গায় ঐতিহ্য চর্চা নির্বাচিত দাবিকারি আপনাদের নেতা কে নির্বাসনে পাঠাইতে বেশী সময় নিবে না ! জনগন অনেক কিছুতেই চুপ আছে, কিন্তু যখন জাগে তখন নির্বাচন আর নির্বাসন খুব কাছাকাছি , অর্থাৎ নির্বাচিত কে নির্বাসিত করিতে সময় নেয় না ! সাধু সাবধান ,সময়ে সতর্ক হও ।

এবার আসি কি বার্তা দিলেন আর কি বার্তা দিতে পারিতেন ঃ

আপনি যুগের ও আধুনিক নগর পরিকল্পনার অনুপযোগী সেই সাথে পশু প্রেমীরা যেঁ অভিযোগ টি করিতে পারিতেন তা বাদ দিলেও আধুনিক ও যানজট মুক্ত ঢাকা গড়ার ধারনাটি কে প্রবল ধাক্কা দিয়াছেন এবং নিজের সামন্ত চিন্তার যে ছবিটি উপস্থিত করিয়াছেন , তাতে আধুনিক ঢাকা, যানজট মুক্ত দক্ষিন কল্পনা করা দুরহ বরং বলা যায় স্থবির ও পুরনো নেতৃত্বর ছবি, আধুনিক তরুন নেতৃত্ব সম্পর্কে যার কোন ধারনা নাই । আপনি বরং এই ঘোড়ার গাড়ী চালকদের ডাকিয়া বলিতে পারিতেন আমি যেহেতু যানজট মুক্ত শহরের প্রতিশ্রুতি দিয়াছি , তোমরা তৈরি হও আমি মেয়রের দায়িত্ব নিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে তোমাদের বিকল্প কর্ম সংস্থান করিব এবং ঘোড়ার গাড়ী উঠাইয়া দিব । এটি অনেক ভাল হইত না কি ?

আসি মুল করনীয় তে, আপনি প্রথম দিনটি পুরনো ঢাকার বাস ভবন হইতে , মেয়র ভবন খুব দূরে নয় বিধায়, পায়ে হাঁটিয়া নগর ভবনে উপস্থিত হইয়া, নগর বাসীকে আহ্বান করিতে পারিতেন , যেহেতু নগরে লোক সংখ্যা বেশী অনুপাতে রাস্তা কম আপনারা কম দূরত্বে গাড়ী বা পরিবহন না চড়িয়া পায়ে হাঁটুন , যানজট কমাইতে অবদান রাখুন। আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে উদাহরন স্থাপন করিলাম এবং নিরাপত্তা সমস্যা না হইলে ভবিষ্যৎ এও পায়ে হাঁটিয়া চলিব। সেটি হইত দৃষ্টান্ত । আধুনিক জন মানুষের নেতার উদাহরন।

আমি অত্যন্ত শঙ্কিত যে, নগর ভবনে উপস্থিতির প্রথম দিন আপনি , ভবনের কর্মকর্তা , ইউনিয়ন নেতা ও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী নেতা কর্মীদের সাথে সভা করিয়া কর্ম শুরু করিয়াছেন – পত্রিকায় জানিলাম । ইঙ্গিত টি কি পরিষ্কার নয় ? এটি না করিয়া ঐ দিনটি কে ঢাকা দক্ষিনের নাগরিক দিবস ঘোষণা করিয়া আপনি যাহাদের ভোটে নির্বাচিত বলিয়া দাবী করেন তাহাদের ডাকিয়া, তাহাদের সাথে সময় কাটাইলে , অভাব , অভিযোগ , প্রত্যাশা শ্রবন করিয়া বাকী সভা গুলি পরে করিলে আপনার জন্য কি ভাল হইত না । আপনি নিজেও জনগনের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে ধারনা নিয়া নির্দেশনা দিতে পারিতেন । আমরাও বলিতে পারিতাম আমাদের মেয়র ! অথচ সেই পুরনো আমলা নির্ভর, দলীয় ও ইউনিয়নের বৃত্তে নিজেকে বন্দী করিলেন প্রথম দিন ।

জনাব খোকন, ভালো মন্দ মিলিয়া আপনার পিতার সাথে ঢাকাবাসীর আবেগ জড়িত, জনগনের সামনে তার সেই কান্না আমাদের এখনও আন্দোলিত করে। আপনি তার সন্তান । কেবল তুলনা নয় প্রত্যাশা অনেক বেশী, শুরু যেমনেই হোক সময় আছে, আধুনিক ঢাকা গড়িতে যে আধুনিক ধারনা প্রয়োজন তা ধারন করুন। আরও একটি কথা , যে পরিস্থিতি তে আপনি নির্বাচিত হইয়া আসিয়াছেন দল যে ভুমিকা নিয়াছে সেই ঋণ শোধের দায় ও আপনার। সমালোচনার ক্ষত মুছিয়া দিয়া আপনাকেই প্রমান করিতে হইবে নেত্রী যে আস্থা রাখিয়াছেন , দল যে ঝুকি নিয়াছে তা ঠিক ছিল । এবং সেটি কেবল তখনি সম্ভব যদি আধুনিক , যানজট মুক্ত ঢাকা দক্ষিন উপহার দিয়া নাগরিক প্রত্যাশা পুরন করিতে পারেন ।

আশাকরি বিবেচনা করিবেন , জনাব সাইদ খোকন এবং আমাদের ও আর বলিতে হইবে না – ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল ।