ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

উন্নয়নের উড়াল সড়কে উড়ে চলেছে রাষ্ট্র। সাত সমুদ্র জুড়ে আসা জোয়ারের অধিক উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ!

অথচ কেন যে এই মানুষ গুলো উন্নতির শত্রু হয়ে, স্বাধীনতার চেতনা কে বিপন্ন করে, নিশ্চিত ভাবেই সরকার বিরোধীদের উস্কানিতে প্রান হাতে করে সমুদ্রে ভাসান দিল। কেন কী ছিল তাদের মনে? আমাদের  গর্বের পুলিশ বাহিনী তদন্ত করে দেখার মত একটি জটিল বিষয় পেল কি? এ কথা বলছি না দিনের পর দিন, শত শত মানুষ উপুকুলে জড়ো হল, একজন দুজন করে করে মিলিত হল শহরের হোটেলে, বাড়িতে তারপর ভেসে পরল সাগরে তাদের দেখার বিষয় । তাদের দেখার বিষয় নয় কি করে শহরের কিছু ঝুপড়ি ঘর আলিশান অট্টালিকা হয়ে গেল রাতা রাতি ! তবে কি তাদের ঝুপড়িও আলিশান অট্টালিকায় পরিনত হয়েছে? না এ প্রশ্ন করব না ! জানি উত্তর তৈরি আছে ! চমৎকার শব্দে ভাষায় তারা প্রমান করে দেবেন যে সুমহান দায়িত্ব রত তারা, সে তুলনায় কতিপয় দুষ্কৃতি কারী সমুদ্র ডুবে মরলে তাদের কি যায় আসে?

আজ জাতিসংঘ মহাসচিব তার উদ্বেগ জানিয়েছেন । এই ভুখা , নাঙ্গা ভাসমান মানুষ গুলো কে সাহায্যের জন্য বন্দর, সিমান্ত খুলে দেবার আহবান জানিয়েছেন । এই মানুষ গুলো কে ফিরিয়ে দেয়ার রিফাউলমেনট প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন । মানবিক বিবেচনার দাবী জানিয়েছেন ।

জাতিসংঘ উদবাস্ত বিষয়ক হাই কমিশন ও তাদের প্রতিনিধি স্পষ্ট বলেছেন , এই মানুষ গুলোর প্রতি তিনটি রাষ্ট্রের আচরনে তারা হতবাক। দাবী করেছেন মানবিক বিবেচনা ।

মার্কিন সরকার আজ তার কংগ্রেস সদস্য দের চাপের মুখে মুখ খুলেছে, তারা আঞ্চলিক সমাধানের পক্ষে বললেও জোর দিয়েই বলেছে এই অমানবিক পরিস্থিতির অবসান হতে হবে । থাইল্যান্ড যে আঞ্চলিক সম্মেলন আহবান করেছে তারা স্বাগত জানিয়েছে সেই উদ্যোগকে ।সারা পৃথিবী আজ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে । কিন্তু ওদের স্বদেশ ?

প্রশ্ন করি যে প্রবাসী আয়ের নির্ভরতায় উন্নয়নের জোয়ার, এই অসহায় ভুখা মানুষ গুলো যদি গন্তব্যে পৌঁছে যেত রাষ্ট্র কি তার প্রেরিত অর্থ অস্বীকার করত? প্রবাসী আয় বৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রীদের আস্ফালন কি কমে যেত? না, এই রাষ্ট্র এদের কথা বলবে না সহজ পথে । কিন্তু আমরা?

একটু ভাবুন, আপনার, আমার ভাই মৃত্যু মুখে সাগরে ভাসছে, পানি নেই, খাদ্য নেই, শীত বস্ত্র নেই, নেই কোন আলো আজ সরকার ওদের স্বীকার করে না। অথচ ওদের অবদানে তিল তিল সংগ্রামে ভালো আছি আপনি, আমি। কী অপরাধ ওদের? একটু ভালোভাবে বাঁচতে চাওয়া, স্বজনের মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে তোলা, রাষ্ট্রে সামান্য অবদান রাখা এই অপরাধে আজ মৃত্যু মুখে সহস্র মানুষ, ওরা আমাদের ভাই, আমাদের স্বজন, আমাদের সেই সাহসী স্বপ্ন দেখা পুরুষ যে কোন জাতি গর্ব করত ওদের নিয়ে ।

যে মানুষগুলো হতো যে কোন জাতির গর্ব আজ কেবল বাংলাদেশি হবার অপরাধে সারা পৃথিবী তাদের পাশে দাঁড়ালেও স্বদেশ তাদের পাশে নেই ! আপনি কি লজ্জিত হবেন না?

আসুন অন্তত আমরা একবার করে বলি, তোমার এই জাতির গর্বিত সন্তান জীবন সংগ্রামে মৃত্যু কে জয় করেছ, জীবন হাতে নিয়ে স্বদেশের মুখ বুকে নিয়ে ঝাপিয়েছ জীবন সংগ্রামে – তোমাদের সালাম। তোমরা সমুদ্রে একা নও – আজ বাংলাদেশের প্রান তোমাদের সাথে। বলবেন কি?