ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

প্রথমেই ক্ষমা প্রার্থনা পূর্বক বলি এই, ” পশ্চাৎদেশ জ্ঞানী” শব্দটি আমি বাক্তিগত অনুভূতি ও উদ্ভাবন ধরে নিয়ে বংগ ভুমির কিছু জ্ঞানের বাতিঘর, দানবাধিকার দালাল , ভিন্ন রাষ্ট্রের কণ্ঠ হিসেবে বিবেক বেচা, আর বিশ্ব ধর্ষণালয়ে চাকুরী রত কুবুদ্ধি জীবী কিছু প্রাণী দের সম্পর্কে ব্যাবহার করি ।

আমারা সচরাচর মস্তিস্ককে জ্ঞানের ও বুদ্ধির মুল কেন্দ্র ধরে নিয়ে বলি জ্ঞান সেখানে জমা থাকে , অল্প কথায় বিজ্ঞান আমাদের আজ পর্যন্ত এইটুকু জানিয়েছে । সমস্যা হল আমাদের কিছু জ্ঞানের বাতিঘর দাবীকারী দের সব জ্ঞান , বুদ্ধি মস্তিস্কে জমা না হয়ে , তাদের পশ্চাৎদেশে জমা হয়েছে বলেই আমার ধারনা । এবং তা এত অধিক পরিমানে জমা হয়েছে যেঁ স্ফিত পশ্চাৎদেশ এর ভারে নিজেরা পেছন দিকে উল্টে পরছেন তো বটেই , সারা জাতিকেই পেছন দিকে উল্টে দিচ্ছেন ! এরা আবার ইস্যু ভিত্তিক বাতিঘর অর্থাৎ বিভিন্ন ইস্যু তে উনারা বিভিন্ন বানী দিয়ে নেতিয়ে পড়া চেতনা কে জাগিয়ে তোলার সুমহান দায়িত্ব পালন করেন ! এর দুঃখ জনক দিক টি এদের জ্ঞানের বাতিঘর মেনে আমার কিছু বন্ধুও এদের স্বার্থের সুরে সুর মেলাচ্ছেন বুঝে ও না বুঝেই ।

মুল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আরেকটি ভিন্ন তবে সম্পর্কিত বিষয় সংক্ষেপে বলি, স্বাধীনতার পর থেকে এই ৫৫,৫৯৮ বর্গ মাইলে একটি মাত্র জাতি বাস করবে বলেই ৩০ লক্ষ জীবন দিয়েছে। সেটি বাঙালি বা বাংলাদেশী যাই হোক এক জাতি , এক দেশ । স্বাধীনতার পর কিছু দেশীয়, কিছু আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ফলে ভিন্ন জাতি স্বত্বা নিয়ে নানান কথা তুলে বিভক্তি সৃষ্টির যেঁ চক্রান্ত শুরু হয় সেটি আজ মহিরুহ হয়েছে, এমন কি বুঝে বা না বুঝে চেতনার সোল এজেন্ট দাবিকারী সরকার সাহেব ও মঞ্ছ পর্যন্ত একি দেশে ভিন্ন জাতিসত্তার শ্লোগান দিয়েছে ! যাই হোক মূল্যবোধের , দেশপ্রেমের, নৈতিকতার চূড়ান্ত অবক্ষয়ের ফলে সেই চক্রান্ত টিকে মানবতার আড়ালে পরিবেশন করছেন , বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদের কর্মচারী, মানবাধিকারে রক্ষাকারী, এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী যার সাথে এন জি ও বাজি নানান ফন্দি ফিকির জড়িত । যেঁ চক্রান্তের মুল কথা হচ্ছে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত – এক দেশ – এক জাতি এই ধারনাটিকে ভেঙ্গে এই বংগ ভুমি তে ভিন্ন জাতিসত্তার স্বীকৃতি আদায় যার চূড়ান্ত পরিনতি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বহুল বিশাল একটি অঞ্চল কে বিচ্ছিন করে ভিন্ন জাতির নামে আলাদা রাষ্ট্র গঠন। এই চক্রান্ত টি সুক্ষ ভাবে সম্প্রতি একটি ধর্ষণে র ঘটনায় প্রবেশ করেছে সাথে যুক্ত হয়েছে মুসলিম বিরোধী সেন্টিমেনট। মুল প্রসঙ্গে আসি ঃ

কে বলে গারো তরুণী ধর্ষিত হয়েছে? যারা বলেন তারা রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধ করেন এবং গারো সমাজ কে অপমান করেন । পরিস্কার শুনুন একটি বাংলাদেশী তরুণী ধর্ষিত হয়েছে। একজন বাংলাদেশী নাগরিক অপরাধের স্বীকার হয়েছে, একজন বাংলাদেশী নারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে , অপদার্থ পুলিশের সামনে দিয়েই অপহরন করে ঘণ্টা বাপী প্রকাশ্য রাজপথে ধর্ষণের উল্লাস করেছে মাইক্রোবাসের ভিতর একদল মানুষ রুপি পশু , একজন নারী নাগরিক কে রাষ্ট্র নিরাপত্তা প্রদানে বার্থ হয়েছে যেঁ মেয়েটি গারো সমাজের অন্তর্ভুক্ত । আর গারো সমাজের অপমান হয় এজন্য যেঁ , গারো সমাজ বা তাদের সম্প্রদায়ের মানুষ গনকে কি আপনারা বাংলাদেশী নাগরিক মনে করেন না , না গারো সম্প্রদায়ের মানুষ জন নিজেদের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব অস্বীকার করেন ? দুটোই রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে যদি কেউ এমন ভাবেন । কেবল গারো সম্প্রদায় বলে বিষয়টি কে ভিন্ন মাত্রা দেয়ার উদ্দেশ্য কি ? দেশের ভেতর বিভাজন সৃষ্টি করা ? প্রশ্ন করি আর কোন বাংলাদেশী নারী কি এভাবে রাজপথ থেকে অপহৃত হয়ে ধর্ষণের স্বীকার হননি? এমন কি মৃত্যু বরন করেননি? পশ্চাৎদেশ ভারী জ্ঞানের বাতিঘরেরা কি তা জানেন না? সেই প্রতিটি ঘটনাই একি মাত্রার অপরাধ, একি প্রতিবাদ , প্রতিরোধ কাম্য । এখানে গারো , চাকমা, মারমা, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বিভক্তির কোন সুযোগ নেই , সে বাংলাদেশী নাগরিক হলে সেই পরিচয় টি বিবেচনাই কাম্য । অতীতেও বাংলাদেশী নারী ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে তখন ও এটি অপরাধ ছিল এবার যেটি হয়েছে সেটিও অপরাধ । প্রতিটি ঘটনার নিন্দা জানাই ও ন্যায় বিচার কামনা করি । একটি ধর্ষক রাষ্ট্রের পরিচিতি আমাদের কাম্য নয় । বিষয়টি আরও বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে আলোচনার অবকাশ আছে, ইচ্ছাও রইল ।

এবার আসি, ফেসবুকে মুসলমান ধর্ষক, মুসলমান ধর্ষক মুসলিমদের কাম ইচ্ছার বর্ণনা, এমন কি গরুর ব্যবহার পর্যন্ত উল্লেখ করে পোস্টে ছেয়ে গেছে ! প্রথমেই রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই তদন্ত সংস্থা যেহেতু এখন ও ধর্ষকের পরিচয় প্রকাশ করেনি উনারা কি করে জানলেন ধর্ষক সবাই মুসলমান? উনারা ঘটনায় ছিলেন কি , অথবা ঘটনায় জড়িত দের সাথে উনাদের যোগাযোগ থাকায় উনারা নিশ্চিত যেঁ সব ধর্ষক মুসলমান? অবিলম্বে এদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে তথ্য উদ্ঘাটন করা হোক । আর ধর্ষক কের পরিচয় কি তাঁর ধর্মে? এদেশে কোন গারো, চাকমা, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ নাগরিকের বিরুদ্ধে কি ধর্ষণের অভিযোগ আসেনি, অভিযুক্ত হননি তাদের কেউ? সেক্ষেত্রে তাঁর কি ব্যাখ্যা দেবেন ? গোটা সম্প্রদায় ধর্ষক? অপরাধীকে অপরাধকারি হিসেবে দেখুন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের পরিচয়ে নয়। এটাই সভ্যতা। আর নয়ত অপরাধিকে ধর্মীয় পরিচয়ে বিবেচনা করলে তাঁর অপরাধের বিপরীতে আরেকটি গভীর অপরাধ আপনি করলেন এবং এমন এক বীজ বপন করলেন যার বিস্তৃতি এই ধর্ষণ অপেক্ষা অনেক স্থায়ী ও গভীর । এমন কি হতে পারে না ঐ মাইক্রবাসে তাঁর নিজের সম্প্রদায়ের কোন যুবকও ছিল ?

আমি জানি, সমাজের সংখ্যা লঘু , অনগ্রসর অংশের দোহাই দিয়ে আপনারা বাংলাদেশি তরুণী না বলে গারো তরুণী উল্লেখের যৌক্তিকতা প্রমান করতে চাইবেন, কিন্তু মনে রাখবেন পশ্চাৎদেশে জমা হওয়া জ্ঞানের ভারে উল্টে যাওয়া জ্ঞানী গন ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতাকে বিপন্ন, প্রশ্নবিদ্ধ করবে এমন কোন অধিকার কাউকে দিতে আমরা রাজী নই , সেজন্য ২০/৫০ হাজার প্রানে কিছু যায় আসে না । নির্মম শোনালেও এটাই রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষা , যদি না শিখে থাকেন তবে মার্কিন দেশে রেড ইনডিয়ান, কি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী দাবীকারীদের প্রতি আচরন দেখতে অনুরোধ  করি ।

সবশেষে বলি, আমার যে বোনটি ধর্ষিতা হয়েছে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তাঁর দায়িত্ব নিতে হবে, এটি সহ প্রতিটি ধর্ষণের ন্যায় বিচার প্রার্থনা করি । বোন আমার, তুমি গারো সম্প্রদায়ের কিন্তু একজন বাংলাদেশি আর আমরা প্রতিটি বাংলাদেশি আজ তোমার পাশে আছি, তুমি ভয় পেও না, আলো আসবেই ।