ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজ আগস্ট ১৪ , মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঠাঁই করে নেয়া একটি শোকাবহ ঘটনার দিনটি আর কয়েক ঘণ্টা দূরে এই মুহূর্ত টি সামনে রেখে , উপরে উল্লেখিত দুই পক্ষের কাছে বিনয় সহকারে বলি, আপনাদের সামান্য শুভ মানবিক বোধ এবং ত্যাগ এই জাতির ইতিহাস ও রাজনীতি কে এক নুতুন আলোর পথে নিয়ে যেতে পারে, সেই শোকাবহ দিনের কলঙ্ক মুক্ত হয়ে জাতি মাথা উঁচু করে আগামীর পথে হাঁটতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি আপনাদের রাজনীতি মানুষের জন্য, মানবিক বোধ কে ধারন করে কাজেই সেই বোধের প্রতি সন্মান দেখিয়ে আশা করি আবেদন টি বিবেচনা করবেন।

বেগম খালেদা জিয়া, আপনি এই বাংলাদেশে জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রধান মন্ত্রী ছিলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী জাতীয় সংসদে। কাজেই বর্তমানে জাতীয় নেত্রী হিসেবে আপনার সন্মান, মর্যাদা নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠতে পারে না, নেই ও। অন্তত শুভ বোধ সম্পন্ন মানুষের মনে, নীতিগত বিবেচনায় না গিয়েই বাংলাদেশের নাগরিকগনের প্রদত্ত ভোট এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এর যে মর্যাদা আপনি পেয়াছেন তাতে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় । এবং আমরা বিশ্বাস করি সেই মর্যাদার অবস্থানে দাঁড়িয়ে জন্ম দিনের মত বিষয়ে মিথ্যাচার করার কোন কারন আপনার নেই , আমরা তা কল্পনাও করি না । তাই আপনি যদি বলেন ১৫ ই আগস্ট আপনার জন্ম দিন আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু জাতীয় নেতার যে সন্মানের আসনে আপনি আসীন তার মর্যাদা রক্ষার্থেই আপনার কাছে আবেদব করব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতীয় নেতার মর্যাদা নিয়ে নিশ্চয়ই আপনার মনে কোন দ্বিধা নেই তাই তার সমগ্র পরিবারের উপর যে নির্মম মৃত্যু ঘাতকেরা ঢেলে দিয়েছে এবং ওই মুহূর্তে তিনিও সাংবিধানিক জাতীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ,এই অনুভূতি ধারন করে তার সন্মানারথে হলেও সেই শোক ধারন করে আপনার সত্যি কারের জন্মদিনেও আজ ১৪ ই আগস্ট দিবাগত রাত ১২ টার পূর্বে কি আপোষহীন কণ্ঠে একটি ঘোষণা দেবেন — অতীতে যাই হোক এই ১৫ ই আগস্ট এর হত্যার স্বীকার অপর একজন জাতীয় নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সন্মান রেখে আমার জন্ম দিন পালনের উৎসব সহ সব রকম কর্মসূচী নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম , এবং দল ও অংগ সংগঠনের কেউ যদি এই জাতীয় কোন কর্মসুচী পালন করেন ওই মুহূর্তে সে দল হতে বহিষ্কৃত বলে গণ্য হবেন, নিতান্তই কেউ যদি কিছু করতে চান আমার জন্ম দিনে, তবে তা ১৫ই আগস্ট নিহতদের স্মরণে , মাগফেরাত কামনায় মিলাদ , কোরান খতম ও দোয়ার আয়জন করবে এবং সেক্ষেত্রে আমার জন্য ও করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা কবেন ইচ্ছে হলে । বেগম খালেদা জিয়া যে বড় তাকে কর্মেও এর প্রমান দিতে হয় আপনি কি এটুকু করবেন ? বিশ্বাস করুন আপনার সন্মান বাড়বে ছাড়া কমবে না।

এবার এই জন্ম দিন পালনের প্রেক্ষিতে কিংবা রাজনৈতিক উসকানিতে অতি চেতনা ধারীরা, সাথে পিতার মৃত্যু তে ট্যাংকের উপর নাচা, কিংবা জনকের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চাওয়া কতিপয় বামেরা ১৯৭১ এ বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব কে নিয়ে চূড়ান্ত অশ্লীলতার বন্যা বইয়ে দেন ! আপনাদের আনা নির্যাতিতা হবার অভিযোগ টি সত্য হলে দেশের জন্য তার এই ত্যাগ তো তাকে আরও মহিয়সী করে, ৭১ এর প্রতীকে পরিনত করে! সেই ক্ষেত্রে চেতনার প্রতি আপনাদের প্রেম প্রশ্নবিদ্ধ হয় না কি? মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতা একজন নারী যেখানে সর্বোচ্চ সন্মান পাবার কথা সেখানে এই কটাক্ষ? হায় সোল এজেন্ট গন চেতনার বাণিজ্য আর কত ? দয়া করে আপনারাও বিরত ও সংযত হন, অতীতের কুৎসার জন্য ক্ষমা প্রাথনা করুন বেগম জিয়ার কাছে আর জাতির কাছে ক্ষমা চান মুক্তি যুদ্ধ কেন্দ্রিক আটক কারো ত্যাগ মূল্যায়ন না করে প্রকারান্তরে চেতনাকেই অসন্মান করেছেন । মনে রাখবেন কেবল বন্দিত্ব ই একটি নির্যাতন এবং এই আটক স্বেচ্ছায় বলে ,” জাঞ্জুয়া, জাঞ্জুয়া ” নামের উচ্চারনে জাতীয় সংসদে এক পতিত বাম নেত্রীর যে অশ্লীল উল্লাস প্রকাশ দেখলাম তা মানবিক বোধের বিকৃতি বলেই আমরা মনে করি, সেই সাথে এও বলি অন্য কোন আটক কে বিতর্কিত করবার জন্য এটি বাম দের চক্রান্তের ই অংশ এটাও ভাবা যায় যা আসলে মহান মুক্তিজুদ্ধ কেই বিতর্কিত করবে ।

এবার আমাদের প্রজন্মের পক্ষে বলি, বন্ধ করুন এই উলংগ হবার প্রতিযোগিতা । আপনাদের শরম হয়ত বিসর্জন দিয়েছেন – কিন্তু আমরা লজ্জা পাই । এই কেক কাঁটা উল্লাস আমাদের কাছে অমানবিকতার চূড়ান্ত প্রকাশ মনে হয়, ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন জন্মদিন মেনে নিয়েই বলছি । আর ’৭১ এ বন্দি অবস্থায় নির্যাতন যদি সত্যি হয় তাকে মা ছাড়া অন্য কিছু কি বলা যায় ? এখানে তার ইচ্ছের উদাহরন দেবেন না দয়া করে , তাহলে অনেক ইচ্ছাই প্রশ্ন বিদ্ধ হবে। যদি ৭১ এ বিশ্বাস করেন আটক যে কোন নারী মা এর সন্মান দাবী করেন । দয়া করে বিরত হন , আগামী প্রজন্ম আপনাদের কি ভাবে মূল্যায়ন করবে , কি উদাহরন সৃষ্টি করছেন ভাবুন , ইতিহাসের বিচার বড় নির্মম ।

সেই সাথে অতি চালাক , কলম বাজ উস্কানি দাতা, নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে হায়দারি হাক প্রদান কারীগন শুধু বলি -চুপ । পতিতার ও কিছু নীতি শরম, সম্ভ্রম বোধ থাকে – আপনাদের তাও নেই।যদিও বুদ্ধিজীবী নামে পরিচয় দিতে বেশ পছন্দ করেন আপনারা।