ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সভ্যতার মানদণ্ড আইন। সভ্যতার যে অগ্রগতি তার ভিত্তিও আইন। শুরু হইতেই আইনের ধারনার বিকাশ মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকার গুলির নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা প্রদান করে সভ্যতার অগ্রযাত্রা মসৃণ ও নিশ্চিত করেছে। এই আইনি ধারনার বিকাশও একদিনে হয়নি হাজার বছর ধরে নানাভাবে এটি বিকশিত হয়েছে। কালের গর্ভে বহু চমকপ্রদ, আলোড়ন তোলা ধারনা হারিয়ে গেছে কিন্তু আইন নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে স্বমহিমায় । এর মুল কারন অথবা একমাত্র কারন যদি বলতে হয় তাহলে দ্বিধাহীন বলা যায় তার সত্যনিষ্ঠা অর্থাৎ আইনের আনুগত্য কেবল সত্যে, তার পথ চলা শুধু সত্য উদঘাটনে তার অন্ধত্ব সত্যর প্রশ্নে। কোন সম্পর্ক তাকে প্রভাবিত করে না, কোন ক্ষমতার সামনে সে নত নয় , সত্যর পথে তার পথ চলা হয়ত ধীর কিন্তু নিশ্চিত, অপপ্রভাব কেবল তাকে সাময়িক বিভ্রান্ত কিংবা থামিয়ে দিতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তার পথ খুঁজে নেয় । তার শক্তির উৎস সত্য , নয়ায়, তার টিকে থাকার কারন সেই সাথে সত্যর প্রতি আনুগত্য। বহুরথি, মহারথি, ইতিহাস কাঁপানো নায়ক তাকে নিজের মত পরিচালিত করতে চেয়েছে যারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুরে কিন্তু আইনের মহিমা আরও উজ্জ্বল । দুঃখ জনক হলেও সত্য বহু আইনি পণ্ডিত, বিচারের হর্তাকর্তা গনও এই অপ প্রয়োগের সাথে জরিত ছিলেন এবং তাদের বিচার ও আইনের ইতিহাস নিজ নিয়মে করেছে বড় নির্মম ভাবে । আইন দ্বারা সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রাপ্ত মানুষটিও আইনের কাছে মূল্যহীন যদি আইনানুগ না হন , ইতিহাস তাই বলে, শত উদাহরন থাকার পরও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে অক্ষমের অভাব হয়না আর আইনই তাকে ক্ষমা করেনি কখনও । আইনের টিকিয়া থাকার মুল শক্তি যেমন সত্যর প্রতি তার আনুগত্য সাথে কিছু মৌলিক নীতি।

আজ আমার স্বদেশে কি সেই আনুগত্য ও মৌলিক নীতি প্রশ্নের মুখে? কেউ তার আচরন দ্বারা আচরন বিধি লঙ্ঘন করলে তার জন্য আইনি বিধান আছে, কিন্তু জানতে চাই এই আচরন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ যে বিষয় কে ঘিরে তা যদি সত্য হয় এবং বিচার বাবস্থার মৌলিক নিতিতে আঘাত হানে তাহলে সেই সত্য কোন অজুহাতে এড়িয়ে যাব? নিজ আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে অভিযুক্তের পক্ষের কেউ কি করে আদালত প্রধানের সাথে একি আদালতের অন্য বিচারকের বিষয়ে ব্যাত্তি পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ পায়, সাহস করে? অবশ্যই বিচারক বিষয়ে তাদের আপত্তি তারা জানাতে পারেন তার ও তো বিধান আছে আইনেই। সেই আইনি পথ এড়িয়ে এই কার্যক্রম! এর চেয়ে বেশি অবমাননা আর কী হতে পারে এবং এ ধরনের কোন আলোচনা করবার সুযোগ কি স্বয়ং বিচার বিভাগীয় প্রধানেরও আছে? একজন মানুষ যত বড় আইনজীবী হন না কেন আইনের কাছে তার কোন মূল্য কি আছে যখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ/ জমি গ্রাসের অভিযোগ বিচারাধীন? এবং যে আদালতে সেই আদালত এর প্রধানের সাথে সহযোগী বিচারক বিষয়ে আলোচনা করবার কোন সুযোগ কি তিনি রাখেন? বরং তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন এটি শাস্তি যোগ্য কিনা? আর এই আলোচনা শ্রবনের সুযোগ কি সেই বিচারক রাখেন ? আজ ঘটনা প্রকাশ এর অভিযোগে অবমাননায় অভিযুক্ত হবেন কেউ বেশ ভালো কথা কিন্তু বিষয় গুলি সত্য হলে এর চেয়ে ভয়াবহ আর কি হতে পারে আইনের জন্য? এটি তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এর দাবি কি আদালত অবমাননা?  প্রধান বিচারপতি কিংবা কোন মহারথী আইনজীবী কেউ কি আইনের আওতার বাইরে? যে সত্যর পথ আইনের সেই পথে অন্য কোন বিবেচনা দাবির সুযোগ রাখেন? সবচেয়ে নির্মম সত্য কথাটি কি তারা ভুলে যান যে, আইনের এই সুমহান মর্যাদার মুল কারন আইন বহু বার মর্যাদার প্রশ্নে নিজেকে রক্তাক্ত করেছে কিন্তু কিছুর বিনিময়ে সত্য বিকিয়ে দেয়নি। কোন ব্যাকতির অবমাননা কর কার্যক্রম আইনের বা আইন বলে প্রতিষ্ঠিত আদালতের অবমাননা হতে পারে না যদি সেই বাক্তি সত্যি আইনের কোন মৌলিক নীতি ভংগ করে থাকেন তা সেই বাক্তি যত বড় উচ্চতার মানুষ হন না কেন। আইনের আরেকটি মহৎ দিক সে নিজের বিচারেও অগ্রগামী অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে আনীত যে কোন উচ্চারিত অভিযোগ সবচেয়ে কঠোর নিক্তিতে মাপবে সে , যে কোন তদন্তে অংশ নেবে সত্য উদ্ঘাটনে এবং সত্যতা প্রমানিত হলে নিজ বিধান অনুসরন করবে । সেটি না করলেই বরং তার অবমাননা হয় । কোন মানুষ কখনই আইনের সামনে বিশেষ মর্যাদা পায়নি, কেউ অপরিহার্য ছিলেন না, এবং আস্তাকুরে নিক্ষেপের যোগ্য হলে আইন তা নির্দ্বিধায় করেছে, করবেও। আর সত্য এই যে বিচারকগণের মর্যাদা রক্ষায় আইন যেমন কঠোর তেমনি তাদের কোন আইনি বিচ্চুতি তে আইন আরও কঠোর।

শেষ কথা এই, অবমাননার অজুহাতে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্থ হতে পারে না, সত্য প্রকাশ অবমাননা হতে পারে না, এবং সেই অভিযোগ টি তদন্ত করে ফলাফল না আসা পর্যন্ত আইন থামবে না যদি থামে সেটি তার অবমাননা আর যে বা যাদের জন্য এটি ঘটবে আইন তার নিয়মেই তাদের বিচার ও করবে কেবল সময়ের অপেক্ষা। আইন প্রতিশোধ নয় সত্য দাবি করে এবং তার ভিত্তিতে শাস্তি দেয় আবার এও ঠিক প্রতিশোধ দাবি না করলেও সত্যর পথে বাধা সৃষ্টি কারী কারো বিষয়ে সে কতটা ক্ষমাহীন ও নির্দয় আইনের সাধারন ছাত্র ও আশাকরি তা জানেন ।