ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, একদা বাম পতনে ও ত্যাগে – বাংলা সিনেমার প্রেম ও ঘৃণায় তোমাকে চাই- সুত্র মোতাবেক যার স্বাভাবিক গতি আওয়ামী লীগ, সেই মতে বাম হইতে কিছু ডাইনে চাপিয়া( মধ্যডান ) বর্তমান আওয়ামীলীগে বিপ্লবের তরীখানি সাইড করিয়াছেন, মাঝে কিছুটা নিঃসঙ্গ বোধ করিলেও বর্তমানে প্রাক্তন পতিত সাথীদের নিয়া আওয়ামী লীগে দোর্দণ্ড প্রতাপেই আছেন । তবে একবার যে বাম সে চিরকাল বাম আর পতিত বামেরা তো কেয়ামত তক বাম ( হইতে পারে কিঞ্ছিত শিক্ষা দীক্ষা বেশী বলিয়া বিবেকের তাড়নায় ভোগেন , তাই ভুলি নাই , ভুলবো না সুর খানি ধরিয়া রাখেন) , সেই সুত্র মানিয়া বাম সুলভ সজ্জন, সৎ, ভদ্র, মার্জিত ভাবমূর্তি বজায় রাখিতে নিঃসন্দেহে সফল আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী। তবে সেই সাথে দুষ্টু লোকেরা যে বলেন, ” বাম অথবা একদা বাম ! দিয়ে হয়না কোন কাম ! ” এই বাক্যটিও প্রাসঙ্গিক হইয়া পরে যখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য ভাবেই প্রায় প্রতিবছর উচ্চারিত হয় , যখন পাশের হার বৃদ্ধিতে পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়াইয়া দেয়ার কথা আলোচিত হয়, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের ঐতিহাসিক দুর্নীতি নব নব রুপে বিকশিত হয়, একটি কার্যকর যুগের সাথে মিল রাখিয়া শিক্ষানীতি উপহার দিতে অপারগ উনি কেবল আশ্বাস, আর তদন্ত কমিটি করেন। আবার মানিতেই হইবে বেগম জিয়ার আগুন সন্ত্রাস যখন বিভিন্ন পরীক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলিয়াছিল তখন কেউ মানুক আর না মানুক বেগম জিয়ার প্রতি উনার আকুল আবেদন জাতিকে এইটুকু আশ্বস্ত করিয়াছিল যে , আমাদের অন্তত একজন শিক্ষামন্ত্রী আছেন , আর কি চাই!!
-বেতন বৃদ্ধি কে কেন্দ্র করিয়া শিক্ষক সমাজের কিছু আপত্তি ইদানিং বেশ আলোচিত, বিশেষ করিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক গন বলিতেছেন বেতন নিয়া বা টাকা পয়সা নিয়া তাহাদের কিছু বলার নাই ( হইতে পারে আধপেট খাইয়া জীবন ধারনে অভ্যস্ত প্রাইমারী শিক্ষকগনের জীবন চর্চা তাহারা শুরু করিয়াছেন, অথবা দুষ্টুরা যে বলেন বাজীকরের যুগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষক খাতায় নাম উঠিলেই চলে ব্যাপক —- ,বেতনে কিছু যায় আসে না !),  সকল আপত্তি এই বেতন স্কেলে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী তাহাদের পদমর্যাদা কমিয়া গিয়াছে সরকারী আমলাদের তুলনায় যা কোন মতেই মানিয়া নেয়া যায় না। অতঃপর আন্দোলন, হুমকি এবং তাহাদের হাতে জিম্মি পরীক্ষা বর্জন, ক্লাস বর্জন ইত্যাদি। এর মধ্যাই আবার প্রবীণ অর্থমন্ত্রী এক বেফাঁস উক্তি উস্কানির কাজ করিল ( মাননীয় অর্থমন্ত্রী ঐসব না বলিয়া , যেহেতু অর্থ নয় পদমর্যাদাই তাহাদের দাবী, সেই বিবেচনায় বিনা বেতনে শিক্ষকতা করার শর্তে উনাদের জন্য মন্ত্রীর মর্যাদা দানের প্রস্তাব করিতে পারিতেন, সরকারের অর্থ বাঁচিত ) । সরকার উদ্বিগ্ন, শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের নির্ঘুম রাত পারি দিয়া ও দিনে যথারীতি কমিটি গঠন করিয়া, আলোচনা বহুল- সমাধানহীন বহিয়া যায় বেলা, বেলা শেষে আশ্বাস আর আশ্বাস।  শিক্ষকগনও আশ্বস্ত না হইয়া আপাতত হাতে থাকা অস্ত্র পরীক্ষা নিলাম কি নিলাম না খেলায় মাতেন।।

– অতঃপর গতকল্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী উৎকৃষ্ট সমাধান সুত্র দিয়াছেন বলিয়াই আমার বিশ্বাস , শিক্ষক গনের উদ্দেশ্য করিয়া উনি বলিয়াছেন, ” সারা জাতিই তো শিক্ষক গনকে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে রাখিয়াছেন, ঐসব সচিব , আমলা সবি তো তাদের( শিক্ষক) তৈরি কাজেই তাহাদের এই নিয়া ভাবনার কিছু নাই , পদমর্যাদায় শিক্ষকগন আমলাদের সাথে তুলনীয় নন, এছাড়াও বর্তমান সরকার শিক্ষকদের উচ্চ মর্যাদা ——( যে কোন মাননীয় মন্ত্রীর বক্তৃতার বাধ্যতামূলক অংশ) ইত্যাদি, ইত্যাদি ।
আমি মাননীয় শিক্মষান্ত্রী মহোদয়ের সাথে শতভাগ একমত। সাথে বলিতে চাই শিক্ষক গনের কাজ মস্তিস্ক সংক্রান্ত, পদ-মর্যাদা নিয়া তাহাদের এত হইচই করিবার কি আছে? শিক্ষক গন কি উসাইন বোলট না মেসি যে পায়ের ইনস্যুরেন্স করাইতে গেলে পদের মর্যাদা নির্ধারণ করিতে হইবে ? তাহাদের আয় রোজগার এর সাথেও তো পদের কোন সম্পর্ক নাই।আর পদ আঘাত করা কিংবা খাওয়ার বিষয় থাকায় আমলাগনের পদমর্যাদা নিয়া অতিরিক্ত উৎসাহ থাকিতেই পারে , শিক্ষক গনের তাতে কি ?মাননীয় জ্ঞানের বাতিঘর শিক্ষক গন কি জানিতেন না সেই ওয়া অব  প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন ভি, সি ইতিপূর্বেও অতিরিক্ত সচিব মর্যাদা ধারন করিতেন ?
-তাই ক্ষমাপ্রার্থনা পূর্বক প্রিয় শিক্ষক গনের নিকট বিনীত ভাবে বলিতে চাই , যে মস্তিস্ক চর্চা সংক্রান্ত কাজ আপনাদের সেই কাজটি ঠিকমত করুন, শিক্ষকের মর্যাদায় মস্তিস্ক খানি উচু রাখুন, পদের লোভে পেশার অপমান করিয়া ঐ মস্তিস্ক টি কারো পায়ে সমর্পণ করিয়েন না দেখিবেন পদমর্যাদা নির্ণয়ে কোন সচিবের সাথে তুলনায় যাইতে হইবে না আপনাদের , জাতি আপনাদের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করিয়া দিবে ।
আর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষকদের মর্যাদা সরকারী সিল মোহরে নির্ধারিত হয়না এটি যেমন সত্য, আবার কোন আমলার অম্ল বুদ্ধিতে তাহাদের মর্যাদাহানির কোন অধিকার ও সরকারের নাই , আমরা আমাদের শিক্ষকদের সন্মানহানী মানিয়া নিতে প্রস্তুত নই এবং এও মনে করি আপনার আশ্বাসে আস্থা রাখিবার বাস্তবতা ও নাই , অন্তত এই বিষয়ে কাজ দেখান আশ্বাস নয় , যেখানে সৃষ্ট সমস্যা সেখানে সমাধান কঠিন নয় ।

আর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনার ভদ্র এবং সজ্জন ইমেজের উপর আস্থা রাখিয়া ব্যাত্তিগত আগ্রহ হইতে একটি জিজ্ঞাসা রাখিতে সাহস করি, বলিতে পারেন কেন এবং কি কারনে ও কি ভাবে একজন প্রাক্তন বাম যুগের পর যুগ আওয়ামী লীগ করিলেও তাহাদের বাম চিহ্নটি ঠিক বজায় রাখেন, অর্থাৎ তাহাদের বেলায় নাম উচ্চারিত হইলেও পত্রিকা লিখে প্রাক্তন বাম ও বর্তমান আওয়ামী নেতা ? উহা কি আওয়ামী লীগের বাম কে আত্মস্থ করার অসামর্থ্য নাকি বাম কখনও আওয়ামী লীগ হয়না উক্তিটির প্রমান?