ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

জ্ঞান হওয়ার পর হতে শুনে আসছি, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। আমাদের এই ভুমিতে সমন্বিত ভাবে বিকশিত না হলেও অতীতে অনেকেই নিজ মেধায় জাতীয় প্রয়োজনে অনন্য ভুমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতা পূর্বকালে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠায়, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাদের ভুমিকা জাতিকে যেমন ঋণী করেছে তেমনি পেশাগত মর্যাদা বাড়িয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই । স্বাধীনতা পরবর্তী কালেও জাতি যে কোন দুর্যোগে তাদের দিকে তাকিয়েছে আস্থা নিয়ে, তারাও তাদের মেধা, সততা দিয়ে জাতীয় প্রয়োজনে ভুমিকা রেখেছেন। কথাগুলি এজন্য বলা যে, সাংবাদিকতা কোন ধরাবাধা পেশা নয়, বৃহত্তর অর্থে জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই কাজ করতে হয় এই পেশায় নিয়োজিত কর্মী কে । অনেক অপ্রাপ্তি, অভিযোগ, ঝুঁকি ইত্যাদি নিয়েও সাংবাদিক সমাজ জাতির আশা আকংখার ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। আরও উল্লেখ্য যে মুলত প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীগনই সাংবাদিক বলে গণ্য হতেন একটা সময় পর্যন্ত । স্যাটেলাইট টি,ভি যখন সংবাদের সাথে চলমান ছবি ও ভাষ্য নিয়ে এলো সাথে নুতন ও পুরনো মিলিয়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বা সংবাদ কর্মী পরিচয়ে আমরা নুতুন একঝাক সাংবাদিক পেলাম । সংবাদ পরিবেশন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার উদ্দেশ্য এক হলেও বিভিন্ন কারনে ভিসুয়াল মিডিয়া এগিয়ে গিয়েছে, মুখ প্রদর্শনের সুযোগে খুব সহজেই একজন নবীন সংবাদ কর্মী সেলিব্রেটি স্ট্যাটাস পেয়ে যান । মজার বিষয় হল তাদের পূর্বসূরিরা দীর্ঘপরিশ্রমে সাংবাদিকের যে মর্যাদা ও মেধা ভিত্তিক সন্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছেন সেই অবস্থান টিও উপভোগ করেন মেধা বা যোগ্যতা যাই হোক। আজ ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মধ্যকার সংকট নিয়ে অনেকেই ভাবছেন, সেদিকে না গিয়ে আমাদের দেশে মানুষ যা ভাবছেন তা একটু বলি ঃ

আমাকে প্রায়ই টেলিফোনে নানান বিষয়ে মূল্যবান মতামত জানাতেন এক বান্ধবী, প্রসঙ্গক্রমে একদিন সংবাদ নিয়ে কথা উঠায় আমি বলেছিলাম ,” সাংবাদিক হিসেবে কে, জি, মুস্তফা বা রাহাত খান কে অল্প হলেও জানতাম, উনাদের সাথে বর্তমান দের পার্থক্য আমাকে অবাক করে ! “। ভদ্রমহিলা সাথে সাথে বললেন , “কোন চ্যানেল , কোন চ্যানেল ? বলেন তো রিপোর্ট দেখতে হবে , আমি তো সব চ্যানেল দেখি উনাদের রিপোর্ট তো দেখা হয় নাই !” অনেকটা হতভম্ব আমি উনাদের কর্ম ক্ষেত্রটি বলিলে , তার উত্তর, ” ধুর ঐসব কে পরে এত সময় কই?”

একথা সত্য একজন মিশুক মনির বা সাইফুল আমিন যোগ্য ২/৩ সঙ্গী পেলে যে কোন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ পরিবেশন সচল রাখতে পারেন বাকী কর্মীদের মেধা বা সাংবাদিকতার মান যাই হোক বা নাই থাকুক। কেবল ফুটেজ আনলেও চলবে। চ্যানেল মালিকের শ্যালক যে আঞ্চলিক বাংলায় কথা বলুক খুব খুব স্বল্প সময়ে অন্যতম সেলিব্রেটি সাংবাদিক বনে যাবেন গুরুত্বপূর্ণ বিট পেয়ে ও পেছনের দুএকজনের মেধায় যা অপ্রকাশিত রয়ে যায়। এভাবেই নুন্নতম মানবিহীন অনেকে হয়ত সাংবাদিক সমাজের দিকপাল বনে যাবেন , আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া কর্মীরাই বুম ( মাইক্রোফোন যুক্ত দণ্ড ) হাতে সাংবাদিক পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াবেন । মানুষ নিজের চেহারা দেখতে ভালোবাসে সেই অর্থে হোমরা- চোমরা ক্ষমতাবানেরাও এদের প্রাধান্য দেবে, চেহারা দেখানোর আশায়। আর লজ্জার কথা এই অবস্থা উত্তরনে প্রিন্ট মিডিয়ায় যে মেধাবী নুতন রক্তের সঞ্চালন দরকার ছিল, যে সাহসী নির্ভীক কর্মী প্রয়োজন ছিল তার কিছুই কি আমরা দেখছি? দু চার জন বাদে বাকী সবাই চাকুরী করেন, দুষ্টু লোকেরা বলেন চাকুরীও করেন না ঠিকমত ওটা আবরন, ধান্দাবাজি করেন।  অথচ সত্য এই যে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকতার সত্যি কারের বিকাশ কতটুক সম্ভব? তারা সংবাদ পরিবেশন করেন কিন্তু সময় বিবেচনায় ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, মতামত গঠন সহ গণমাধ্যমের মুল দায়িত্ব গুলো কতটা পালন সম্ভব ? এই সুযোগ টি প্রিন্ট মিডিয়ার অনেক বেশী। আবার নাগরিক জীবনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এটাও বলতে হয় ,যেখানে ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংক্ষেপে সংবাদ জানিয়ে দিচ্ছে সেখানে প্রিন্ট মিডিয়া সময়ের অপচয় বলেই আমার সেই বান্ধবীর মত অনেকেই ভাবতে পারেন,যদি তারা পাঠক ধরে রাখার মত কিছু না দেয়। আশংকার বিষয় সেই মেধা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম করবার মানসিকতা কি তাদের আছে? প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত রা কি পড়াশোনার সেই উচ্চ মান বজায় রাখেন যা কিছু পূর্বসূরির ছিল, তারা কি যে বিষয় নিয়ে কাজ করেন সে বিষয়ে যথেষ্ট জানেন? সামাজিক বাস্তবতা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা সততার সাথে প্রয়োগ করেন পেশার ক্ষেত্রে? যদি না করেন তবে দুর্ভাগ্য হলেও এটাই সত্যি প্রিন্ট মিডিয়ার কলমধারীরা কেরানী রূপ বিবেচিত হবেন আর হুট করে দেশ বরেণ্য গায়িকার মত ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ফুটেজ সংগ্রহকারী গন হবেন দেশ বরেণ্য সাংবাদিক! একটি জায়গাতে তারা এমনিতেই এগিয়ে আছেন, কোথায় জানেন ?

প্রবেশ পথের সংকীর্ণতা বলে কলমের চেয়ে বুমের ব্যাথা দেবার ক্ষমতা এমনিতেই বেশী! বিজ্ঞান ও এটি সমর্থন করবে! সেই অর্থে বুমধারীদের বড় সাংবাদিক বলতেই হয়! কী বলেন?