ক্যাটেগরিঃ ব্লগ, মুক্তমঞ্চ

জন্মসুত্রে আমি বাংলাদেশের নাগরিক আর লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা ও তার উপহার পবিত্র সংবিধান অনুযায়ী নাগরিক মাত্রই দেশের মালিক( কেউ কেউ এই দাবীকারক কে পাগল বলিতেও পারে , সেটা আমার দোষ না ) এই মালিকানা পূর্ণতা পায় একটি নিদ্রিসট ধাপ পেরিয়ে বলেই ভাবি । অনেকটা বায়না সুত্রে মালিকানা ও রেজিস্ট্রি করনের মত । বলতে চাইছি বয়স ১৮ এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পূর্ণতা পায় বলে ভাবি । এই স্বীকৃতি রেজিস্টার্ড মালিকানা অর্জনের মতই অর্থাৎ আমার জমিন আমি কাকে চাষ করতে দেব তার অধিকার অর্জন, রাস্ত্রবিজ্ঞান একে বলে আমার জন্য সেবক বেছে নেয়ার অধিকার ও রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে সরকার গঠনে আমার ইচ্ছার প্রতিফলন ( শর্ত হল ; ভোট হলেই চলবে না প্রতিদ্বন্দ্বী ও আবশ্যক ! ) । যাই হোক , একটু চোখ বন্ধ করিয়া ভাবুন , কি বিশাল ক্ষমতা ১৮ বৎসর হওয়া মাত্র অর্জন করিলাম! সরকারের কর্ণধার হইতে মহা,মহান পূর্ণ, পাতি, সিকি মন্ত্রী , নির্ভুল লক্ষ্যভেদী শুটার এম,পি সব আমার ইচ্ছাধীন । আহ কি আনন্দ !

তবে সুখের স্থায়িত্ব এমনিতেও স্বল্প, অভাগার কপালে তা আরও অল্প ! সাম্প্রতিক সময়ে তুমুল আলোচিত এক সংবাদ দর্শনে আমার সকল আনন্দ উধাও হইয়া গিয়াছে, নিজের পুরুষ জন্মের জন্য লজ্জায় মুখ লুকানোর ঠাই সৌর জগতে আছে কিনা জানিনা। অতপর গভীর বেদনাহত হৃদয় লইয়া, নয়ন জলে ভাসিতে, ভাসিতে এই লিখা । হায়রে বাংলার পুরুষ সমাজ কি কুক্ষনে পুরুষ হইয়া জন্মাইল এই বাংলায় ? আপনারাই বলেন বয়স ১৮ হইলে দেশের মালিক হিসেবে পূর্ণতা পাইয়া , সরকার নিজের ইচ্ছা মত বানাইবার – নামাইবার মহা ক্ষমতার অধিকারী হইলেও কি লাভ আমার যদি বিবাহ করিবার অধিকার;ই না পাইলাম ! ভাইয়েরা কোন মঙ্গলের দোহাই দিয়া, সরকার গঠনের মত লায়েক হইবার পরও আইনি বাধায় আমি বিবাহ করিতে পারিব না !! হায় এ কেমন আইন ? মানব ইতিহাসে এমন অগনতান্ন্ত্রিক আইন প্রনীত হইয়াছে এমন তথ্য কি আপনাদের কারো কাছে আছে ? মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আপনার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খুজিয়া পান না বিধায়, না হয় এমনি এমনি সাংসদ হয়, সেটা তো আর আপনার দোষ নয় । কিন্তু আপনার আইনে আমি ভোট দিবার সরকার গঠনের মত জটিল অধিকার প্রয়োগের মেধা, যোগ্যতা অর্জন করিলাম। কেবল বিয়ে করাটা আমার জন্য ১৮’তে ভালো কি মন্দ হইবে তা বুঝিব না ! এতো আপনার মহান সাংবিধানিক সংস্থা ও পদের প্রতি , বিবেচনা বোধের প্রতি নিদারুন অবজ্ঞা আর তাচ্ছিল্য করা ।