ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জাতিসংঘের প্রদত্ত মানদণ্ডের তিনটি ধাপে উন্নত হওয়ায় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে একধাপ এগিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসোবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, এটা আমাদের জন্য অবশ্যই গর্বের, নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ উন্নয়নশীল তালিকায় উন্নত হয়েছে সেটা একটি অর্জন।

এই অর্জন ধরে রাখতে আমাদের আরো ৬টি বছর উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে হবে তবেই স্থায়ী রূপে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নেবে। এই উন্নয়নশীল তালিকায় থাকা আমাদের জন্য কতটা গৌরবের হবে তা নির্ণয়ের জন্য অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন নানান সূচকের পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা চলছে। যে আলোচনাটি দানা বাধছে, তাহলে আমাদের রাজনীতি কি উন্নয়নশীল?

কেন এই প্রশ্ন সামনে আসলো তার আদ্যোপান্ত দেখলে বোঝা যাবে যে আমাদের রাজনীতি দিনে দিনে পিছিয়েছে। বিশেষ করে রাজনীতি দলগুলোর ভিতরে গণতন্ত্রের চর্চা যেন সোনার হরিণ। দলগুলো বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো (গোষ্ঠী বলা শ্রেয়) ব্যক্তিকেন্দ্রিক, পরিবারকেন্দ্রিক, স্বার্থকেন্দ্রিক দেশ পরিচালনার জন্য ক্ষমতার পালাবদলে সীমাবদ্ধ। যার ফলশ্রুতিতে একটি গোষ্ঠি আরেকটি গোষ্ঠিকে দমন করতে রাষ্ট্রে সর্বশক্তি ব্যয় করে থাকে, বিচারবিভাগ, নির্বাহী বিভাগ আর নিরাপত্তা বিভাগ কোনো বিভাগই ব্যবহারিত হয় থেকে বাদ থাকে না। বিগত সময় বিএনপি জোট ও তাই করেছে বর্তমান আওয়ামী জোটও তাই করছে। দু’পক্ষই একে অন্যকে দমনে নানান উপায়ে দমনের কৌশল সুচারুরূপে ব্যবহার করেছে।

মাঝে তত্বাবধায়ক সরকার নামে একটি বিকৃত সরকার দুই পক্ষকে শায়েস্তা করার কাজে নানান কৌশলে নানান ফরমূলা চালিয়েছে, দুই পক্ষই নানান মুচলেকা দিয়ে, দেন দরবার করে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য এক ধরণের সমঝোতা করে নিজেদের বিলীন হতে রক্ষা করেছে।এই দমনে যা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা হচ্ছে রাজনীতি।

আর কোনদিনও এই রাজনীতিকে সঠিক ট্রাকে তুলবার কেউ চেষ্টা করেনি, যার দরুন দলের প্রতি দল দমনের কাজেই নিয়োজিত, কোনো ধরণের রাজনৈতিক সহমর্মিতা দেখা যায়, একপক্ষ যতই কল্যাণকর কাজ করুক না কেন বিপক্ষ তার বিরোধিতা করবেই।  যেহেতু রাজনৈতিক চর্চা নেই সেহেতু পেশি শক্তির উপর নির্ভরতা বেড়েছে, আজ দেশে সংসদ থাকলেও তা যে কার্যকর নয় এটা পাগলও মানবে। রাজনীতির উন্নয়ন না হওয়া দরুন এলাকায় এলাকায়, পাড়া-মহল্লায় পেশি শক্তি নির্ভর গোষ্ঠী সক্রিয়, আর যারা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী তারা কোনঠাসা হয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে উষ্মার কথা লেখেন।

গঠনমূলক উন্নয়নের কোন ছোঁয়া নেই, গঠনমূলক আলোচনা না হওয়া , সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া, দেশের শিক্ষাকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নেয়া, আদালত থেকে প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অরাজকতা, শৃংখলাহীন সামাজিক ব্যবস্থা – এই সবই তৈরি হয়েছে রাজনীতিতে ভাল মানুষের পিছিয়ে পড়ার কারণে।

যতদিন আমরা রাজনীতিকে সমান তালে উন্নয়নের সাথে না তুলতে পারবো ততদিন, পেশী, দুনীর্তি, দুর্বল জনগোষ্ঠী হিসেবে বেড়ে উঠবো যা থেকে আর যাই হোক রাষ্ট্রের কল্যাণ আসবে না, আর রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধিত না হলে যতই উন্নয়নের কথা বলিনা কেন জনগণের কল্যাণ হবে না, তখন ঝকঝকে রাস্তায় দামি গাড়ির ভিড়ে ভিখারির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে যা মোটেও উন্নয়নশীল চরিত্র হতে পারে না।