ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

দেশে নানান ফরমেটে পরিবারতন্ত্র, ধনীতন্ত্র, সবলতন্ত্র, গুণতন্ত্র, বিচারকতন্ত্র, দলতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র বা এক নায়কতন্ত্র, খণ্ডিত সামন্তবাদ, উদার গণতন্ত্রের নামে হরেক রকম শাসন ব্যবস্থায় চলে এসেছে। যার বেশির ভাগ নামই গণতন্ত্র! যা আছে তাই আবার খুঁজেছে? একদল গণতন্ত্রী তো আরেক দল বহুগণতন্ত্রী, এমন গণতন্ত্র এক গোষ্ঠি আরেক গোষ্ঠিকে দমন করতে ধার করছে গণতন্ত্রের আবার গণতন্ত্রের মান ধরেই এক পক্ষকে দমন করা হচ্ছে।

মূলত কথা দাঁড়ালো রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মত প্রকাশের জন্য শাসনব্যবস্থায় নিজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও একটি বড় বিষয়, ভোটাধিকার একটি বড় ইস্যু আইন প্রনয়নের ক্ষেত্রে জনগণের প্রতিনিধি জনগণের আশা-আকাঙ্খার গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র ও শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন।

পরিবারতন্ত্র, ধনীতন্ত্র, সবলতন্ত্র, গুণতন্ত্র, বিচারকতন্ত্র, দলতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র বা এক নায়কতন্ত্র। নানান উপায়ে দেশ চলছে যার মূলে উল্লেখিত তন্ত্র কাজ করছে উপনিবিশ থেকে সামন্ত সবই আমাদের শরীরে মজ্জাগত, আমরা স্বাধীনতা অর্জনের সাথে মানুষের হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলনের নানান উপায়ে স্বপ্ন ভঙ্গই ঘটেছে বার বার।

গণতন্ত্রের দেখা অধরা যদিও গণতন্ত্রের কথিত উপস্থিতি চারিদিকে, মানুষের মত প্রকাশে বাধা, স্বাধীনচেতা মানুষকে নানান উপায়ে কোনঠাসা করে একটা তন্ত্র কার্যকর উপায়ে বিদ্যমান, সেটা গণতন্ত্রের নাম ধারণ করে চলছে।

কেন গণতন্ত্র প্রয়োজন? এ প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে বার বার, গণতন্ত্র উদ্ধারে জনগনের প্রাণ হরণ হয় বার বার। তবুও মানুষ গণতন্ত্রের প্রয়োজনিয়তা অনুভব করে বিশাল চাকচক্যে ভরা শাসন ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও। আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে বলে মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে, যুদ্ধ শেষে মানুষের মাঝে যে শাসন ব্যবস্থা হাজির হলো মানুষ তার গতি প্রকৃতি দেখে উপলব্ধি করলো এটা সে কাঙ্খিত গণতন্ত্র এটা নয়, শাসক ভাবলো গণতন্ত্র গ্রহণ করার মত সক্ষমতা দেশের মানুষের মাঝে দক্ষতা তৈয়ার হয়নি, মানুষ পেলো একদলীয় গণতন্ত্র, অল্পতেই মানুষের ধ্যান ফিরলো, মানুষ অন্তর জ্বালায় বুঝলো শাসক যে গণতন্ত্র দিয়েছে তা আমার চাহিদার গণতন্ত্র না।

মানুষের নিরাশার মধ্যে আশা জাগানোর ষড়যন্ত্রে সামারিক শাসক গণতন্ত্র দেওয়ার ওয়াদা করে একটি বিকৃত গনতন্ত্র উপস্থাপন করলো যা মানুষের মাঝে একটা চঞ্চলতা দেখা দিলো, শাসক দেশকে উদ্ধারের মন্ত্র হাজির করলো, গ্রাম থেকে শহরে উন্নয়নের একটি মহড়া হাজির করলো, মানুষের ভেতরের ক্ষিতাকে উপক্ষিত করে শাসক হত্যা, শাসক পালাবদল হয়ে আবার নতুন গণতন্ত্রের নমুনা হাজির হলো।

মানুষ ধৈর্য হারিয়ে শাসকের বিদায়ই বড় গণতন্ত্র ভেবে নতুন আন্দোলনে সায় দিলো, সামরিক শাসক উন্নয়নের প্রতি বিশ্বাস রেখে পদত্যাগ করে নতুন গণতন্ত্রে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ মনে করে পদত্যাগ করলো। মানুষ অতিমাত্রায় আবেগী হয়ে নতুন কেতান উড়াতে লাগলো, অথচ মানুষ খুঁজে দেখলো না তার গণতন্ত্রের সংকটটা কোথায়?

আমাদের সংবিধান, আমাদের আবেগ, আমাদের চাহিদা, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের পথচলা সব যে, কোথায় সমস্যায় তা না দেখে শুধু শাসক বদলে সীমাবদ্ধ থেকে মানুষ নতুন শাসকের দ্বারা পুরাতন স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের স্বপ্ন বিভোর হয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো কিন্তু বাস্তব গণতন্ত্র অধরা থেকে গেলো, শাসক আর মানুষের মধ্যে এক ধরণের লুডু খেলা চলতে থাকলো। বাস্তব অর্থে গণতন্ত্র নানান নামে নানান পোশাকে হাজির হলেও মানুষ মুক্তি পায়নি।

মানুষ এখন প্রশ্ন করে নিজেকে গণতন্ত্র কী? কোনটা গণতন্ত্র? উন্নয়নের নানান মডেলে মানুষের জীবনমান নানান সূচকে উর্ধ্বগতি, তাতেও মানুষ গণতন্ত্র খোঁজে, পালাবদল দেখেছে অনেক কিন্তু তারপরও মানুষ গণতন্ত্র খুঁজে যদিও শাসকের গণতন্ত্র বিদ্যমান। তারপরও গণতন্ত্রের খোঁজে এখনও।