ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

যদি শত্রু পক্ষের লোক খামখেয়ালী করে কোন গোষ্ঠীর নারী পুরুষ নির্বিশেষে কচুকাটা করে রক্তভাসা আঙ্গিনায় উল্লাসে ফেটে পরে এবং ঐ গোষ্ঠীর একদল ছেলেমেয়ে যদি বাড়িতে এসে উল্লাসিত শত্রুদের সাথে মাতা পিতার রক্তের মাঝে নেমে আনন্দ উল্লাসে মদপান করতে পারে তাহলে হয়তো তাদের সাথে তুলনা করা যেত যারা মুসলমান হয়েও আজ এপ্রিল ফুল পালন করে। এই বাঙ্গালী মুসলিম তরুণ-তরুণীরা জানেনা যে এপ্রিল ফুল পালনে বন্ধু বান্ধবকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে আনন্দ করা মানে ঈমান আকিদার কলিজায় মুসলিম জাতি সত্ত্বার পবিত্র দেহে লাথি মেরে আনন্দ পাওয়ার মতই একটি জঘন্য উল্লাস।

৭১২ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা : যখন ইসলামের পতাকা মুসলমানদের হাতে বিশ্বের আনাচে কানাচে পত পত করে উড়তে লাগল সেই বিজয় লগ্নে সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদের মাধ্যমে স্পেনে প্রথম ইসলামী পতাকা উড্ডীন হয়। মাত্র বার হাজার সৈন্য নিয়ে সাগর পার হয়ে স্পেনের মাটিতে তারিক বিন যিয়াদ সকল সৈন্যকে বললেন, তোমরা যে জাহাজগুলো নিয়ে ভূমধ্য সাগর পার হয়ে এসেছ সেই সকল জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দাও। জাহাজগুলো নিঃশ্চিহ্ন হবার পর এই লৌহবীর বললেন এখন হয়তো তোমরা এই খ্রীষ্টানদের জমীনে পবিত্র ইসলাম ধর্ম কায়েম কর না হয় শাহাদাত বরণ কর। আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ তোমাদের নেই। সেই থেকে প্রায় আটশত বৎসর পর্যন্ত্ম স্পেন ভূমি মুসলমানদের হাতে শাসিত হয়েছিল। কিন্তু কালের দীর্ঘ আবর্তনে শাসকরা দুনিয়ামুখী হয়ে পড়ে। এমনকি তারা মদ, নারী ও গান নিয়ে মত্ত থাকলে নেমে আসে তাদের উপর আসমানী গজব। ফলে পুনঃরায় খৃষ্টান শক্তি আস্ত্মে আস্ত্মে স্পেনের বিভিন্ন এলাকা দখল করতে থাকে। মুসলমানরা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। অবশেষে ইবনুল আহমার মুসলমানদের নিরাপদ আশ্রয় স্বরূপ গ্রানাডা নামক প্রদেশে একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। কিন্তু খ্রিষ্টানদের ষড়যন্ত্র আরো মজবুত করার জন্য খ্রীষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড পুর্তুগীজ রাণী ইসাবেলাকে বিবাহ করে। উভয় রাজ্য শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলমানদের শেষ আশ্রয় গ্রানাডা দখল করতে সক্ষম হয়। লাখ লাখ মুসলমান সেদিন কোথায়ও লুকানোর জায়গাটুকুও পায়নি। এই সুযোগে ফন্দিবাজ, মিথ্যাচারী, মুনাফেক ফার্ডিন্যান্ড সকল মুসলমানকে একত্র করে হত্যা করার একটি কৌশল অবলম্বন করে। খ্রিষ্টান সম্রাট ফার্ডিন্যান্ড ঘোষণা দিল, যে সব মুসলমান দেশের মসজিদ গুলোতে এবং খ্রিষ্টানদের সামুদ্রিক জাহাজে আরোহন করবে তাদেরকে হত্যা করা হবে না। এই ঘোষণা মতে লাখ লাখ মুসলমান সরল মনে বিশ্বাস করে দলে দলে মসজিদগুলোতে এবং জাহাজগুলোতে আত্মরক্ষার জন্য ঢুকে পড়ে। সেই সুযোগেই তাদের চক্রান্তের নীল নকশা অনুযায়ী তা সমস্ত্ম মসজিদ গুলোতে তালাবদ্ধ করে ফেলে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আর জাহাজগুলো ভূমধ্য সাগরে ডুবিয়ে দেয়। স্পেনের মসজিদগুলো সেদিন লক্ষ লক্ষ নর-নারীর আর্ত চিৎকারের ধ্বনি উঠেছিল। সাগর তলে ডুবে গলা জড়িয়ে নিঃশেষ হয়েছিল মা, বাবা, শিশু। দিনটি ছিল ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ১লা এপ্রিল। গোটা স্পেনে খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের রক্ত ভাসতে দেখে আনন্দে ফেটে পড়েছিল। ফার্ডিন্যান্ড ইসাবেলাকে বুকে জড়িয়ে বলতে লাগল Oh! Muslim how fool, you are. এই বাক্যটি হতেই আসে এপ্রিল ফুল। অর্থাৎ এপ্রিলের বোকা। সেইদিন থেকে খ্রীষ্টান বিশ্বের নির্বোধেরা ১লা এপ্রিলকে বোকা বানানোর দিন হিসেবে পালন করে। যা মুসলমানদের জন্য নিতান্তই লজ্জাস্কর। কিন্তু আফসোস! আমাদের মুসলিম সমাজেও খ্রিষ্টানদের মত এক বন্ধুকে অন্য বন্ধু বোকা বানিয়ে এই উৎসবটি পালন করে থাকে। বিশ্বের মুসলমানদের তাতে উৎফুল্লা হবার কী কারণ হতে পারে? সুতরাং এদিন আমাদের কর্তব্য হবে ঐ সাগর পানিতে সমাধিত আর আগুণে পুড়ে নিঃশেষ হওয়া ভাইবোনদের জন্য আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করা। এপ্রিল ফুলের ব্যাধী যেন আর কোন মুসলমান সন্তানকে আক্রান্ত করতে না পারে। এটাই আমার কামনা। সবাই জানুন এপ্রিল ফুলের অস্তিত্ব তাহলেই অনুমান করতে পারবেন এপ্রিল ফুল হর্ষের নাকি বিষাদের।