ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

আধুনিক বিশ্বরাজনীতির সুতিকাগার মধ্যপ্রাচ্য; সঙ্কটেই যেন সৌন্দর্য। এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে আরব উপদ্বীপে এডেন উপসাগরের কোল ঘেঁষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ। নাম ইয়েমেন- সরকারি ভাষায় আজকের দিনটি পর্যন্ত ‘রিপাবলিক অব ইয়েমেন’, কালকে কী হবে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কেন?

ইয়েমেনের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দু’টি দেশের সীমান্ত রয়েছে- উত্তরে সুন্নি রাজতন্ত্রের সৌদিআরব আর পূর্বে ওমান। ইয়েমেন নামে এখন পর্যন্ত একটি দেশ বোঝালেও ১৯৯০ সালের পূর্ব পর্যন্ত দুটি ইয়েমেন ছিল- উত্তর ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইয়েমেন। তবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম (১৯৭৬ সাল থেকে ভিয়েতনাম) বা পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির (১৯৯০ সাল থেকে জার্মানি) মতো এদেশটি কোন গৃহযুদ্ধ বা বিদেশি দখলদারিত্বে দ্বিখণ্ডিত হয়নি- এরা জন্মই নিয়েছিল আলাদা দু’টি রাষ্ট্র হিসেবে। ১৯১৮ সালে অটোম্যান বা তুরস্ক সাম্রাজ্যের অবসানে স্বাধীনতা পায় উত্তর ইয়েমেন; অন্যদিকে, সমাজতন্ত্রী আন্দোলনের মুখে ১৯৬৭ সালে বৃটিশরা এঅঞ্চল ছেড়ে গেলে পৃথিবীর মানচিত্রে দক্ষিণ ইয়েমেন নামে এক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেকালে দুটি ইয়েমেনের দু’টি রাজধানী ছিল- উত্তর ইয়েমেনের রাজধানী ছিল সানায় আর সমাজতন্ত্রী দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজধানী এডনে। ১৯৯০ সালে দুই ইয়েমেন একীভূত হয়; ২০১৪সাল পর্যন্ত সেই ইয়েমেনের একটি রাজধানী ছিল সানা, কিন্তু ২০১৫ সালে এসে এক ইয়েমেনের দুই রাজধানী হয়ে গেল- বিধিসম্মত (de jure) রাজধানী সানা ও কার্যত (de facto) রাজধানী এডেন। এ কেবল অতীতেই প্রত্যাবর্তন নয়, বরং ভবিষ্যতের ঘোর অনিশ্চয়তার ঘূর্ণাবর্তকেও আলিঙ্গন। এমনটা ঘটলো কীভাবে?

’৯০ সালের আগে ইয়েমেন

 

প্রতিটি ইতিহাসের একটি প্রেক্ষিত থাকে। ইয়েমেনেরও আছে- সুদীর্ঘ সামরিক একনায়কতন্ত্র, ইরাকে মার্কিনি আগ্রাসন ও সবিরাম জাতি-গোষ্ঠীগত দাঙ্গা। ২০১০ সালে আরব বসন্ত নামে গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদ আন্তর্জাতিকীকরণের যে জোয়ার তিউনিনেশিয়ায় শুরু হয়ে ছিলো তার ঢেউ অচিরেই পৌঁছে যায় ইয়েমেনের উপকূলে। আঘাত হানে ২২ (বা ৩৩) বছরের জায়েদি শিয়ামতালম্বী অতিস্বল্পশিক্ষিত সামরিক রাষ্ট্রপতি আলি আব্দুল্লাহ সালেহের পারিবারিক সরকারে। ’১১ সালে সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সমাজতন্ত্রী ‘সাউদার্ন মুভমেন্ট’ (বা ‘আল-হারাক”) ও সাবেক উত্তর ইয়েমেনের সর্ব-উত্তরে সৌদিআরবের সীমান্তঘেঁষা সাদা প্রদেশের জায়েদি শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী ‘আনসারুল্লাহ’ (গোষ্ঠিগতভাবে ‘হৌথি’ নামে সমধিক জনপ্রিয়) একযোগে সালেহ সরকারের পতনের আন্দোলন শুরু করে। সালেহ সরকারের পতন উভয় বিদ্রোহীদের একই লক্ষ্য হলেও তাঁর বিরুদ্ধে এদের ভিন্ন ভিন্ন রোষ ছিল। সেটা কী?

এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য আবার একটু ইতিহাসে চোখ ফেরাতে হবে। ’৯০ সালে যখন দুই ইয়েমেন এক হয় তখন উত্তর ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি (১৯৭৮-১৯৯০) ছিল সালেহ্ আর দক্ষিণ ইয়েমেনে ক্ষমতাসীন সমাজবাদীদলের (ইয়েমেনি সোশালিস্ট পার্টি) জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন আলি সালিম আল বেইধ। একঘরে দুই পীর মিলে গঠিত হলো ইয়েমেনি প্রজাতন্ত্র- রাষ্ট্রপতি সালেহ্ (১৯৯০- জানুয়ারি ২০১২) এবং সরকার প্রধানের দায়িত্বে উপ-রাষ্ট্রপতি হলেন বেইধ। এক হলো দুই ঘরানার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতাদর্শও- তাঁদের দু’জনার দুটি পথ সেদিন একসাথে গিয়েছিল মিশে। না, এভাবে বেশিদিন তাঁরা এগুতে পারেনি। চার বছরের মাথায় তাঁদের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়- দু’জনের সমর্থক সাবেক দুই ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মধ্যদিয়ে সেটি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে (মে-জুলাই ১৯৯৪) রূপ নেয়। তবে, স্বল্প সময়ে সালেহ্ বাহিনী তাদেরকে কোনঠাসা করে ফেলে। বেইধ ওমানে নিবার্সিত হয়। ১৫ বছর পরে সে ইয়েমেনে ফিরে আসে এবং ২০০৭ সালে তাঁর দক্ষিণ ইয়েমেনের পুনঃস্বাধীনতাকামী ‘আল-হারাক’ আত্মপ্রকাশ করে। তারপর ঐতিহাসিক সেলুলয়েড কাহিনী- অন্যায়ের প্রতিশোধস্পৃহা; আরব বসন্তের হাওয়া পালে লাগিয়ে সালেহের পতনের আন্দোলনে যোগ দিল বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘আল-হারাক’। কিন্তু, শিয়ামতালম্বী ‘হৌথি’রা কেন সালেহ্ পতনের আন্দোলনে এল?

দু’চারটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের ইতিহাসে জাতিগত মিলবন্ধনে সৌহার্দ্য আর অমিলে দ্বন্দ্বের ভুরিভুরি দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন, শিয়াধর্মালম্বী ইরান, বর্তমান ইরাক, ইয়েমেন (বা ইয়েমেনে অভ্যুত্থানকারী ‘হৌথি’ মিলিশিয়া বাহিনী) ও লেবানন সরকারের মধ্যে যেমন পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে, তেমনিভাবে সুন্নিমতালম্বী সৌদি, কাতার ও জর্ডানের সরকারগুলোর সাথে শিয়াদের মতানৈক্যের অভাব নেই। তাহলে এ প্রশ্নটা খুবই স্বাভাবিক যে একই শিয়াসম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ‘হৌথি’রা কেন সালেহের বিরুদ্ধাচারণ করলো। সহজ কথায় কারণ একটা- সালেহ্ সরকারে একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরাচার ও ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিনি আগ্রাসন। প্রচণ্ড রকমের সাম্রাজ্যবাদ-বিরুদ্ধ মতাদর্শের ‘আনসারুল্লাহ’ মূলত ছিল ধর্মীয় সংগঠন। সেজন্য সাদ্দাম হোসেনের সুন্নিসরকারের বিরুদ্ধে মার্কিনি আক্রমণকে তাঁরা জাতি-দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে পাশ্চাত্য আগ্রাসন হিসেবে বেশী প্রাধান্য দিয়েছিল। এ যুদ্ধে শিয়া হিসেবে সালেহের মদদদান স্বাভাবিক ছিল এবং সে তাতে কোন কমতি করেনি। ২০০৪ সালে সালেহের মার্কিনি তাবেদারী ও অপরাপর অন্যান্য বঞ্চনা-গঞ্জনার প্রতিবাদে তাঁরা রাজপথে সশস্ত্র বিদ্রোহে নামল । মসনদ ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়ে সালেহ্ও কঠোর হস্তে এ বিদ্রোহ দমন করেন- হত্যা করেন ‘আনসারুল্লাহ’র প্রতিষ্ঠাতা হোসাইন বদরেদ্দিন আল- হৌথিকে। আবারও সেলুলয়েড- ‘হত্যার বদলে হত্যা’র রাজনীতি শুরু হল। সালেহ্ ছাড়বার পাত্র নয়, সামরিক শাসক বলে কথা। ২০১১ সালে আরব বসন্তের জাগরণ উন্মেষ ঘটলে ‘হৌথি’রাও তাই বসে থাকেনি; পুঞ্জিভূত ক্ষোভ রূপ নিয়েছে সরকার পতনের আন্দোলনে। ইয়েমেনে এই দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ছাড়াও সালেহর আরও একটি বিরোধী গোষ্ঠী ছিল। এরা কারা?

সবার এজমালি শত্রু- আল-কায়েদা। আল-কায়েদার ইয়ামেনি শাখার নাম ‘আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা’ (বা ‘আনসার আল-শরিয়া’)। সৌদি রাজতন্ত্রবিরোধী এ জঙ্গিসংগঠন সৌদিআরবেও সক্রিয় ছিল, তবে সেখানে সুবিধা না হওয়ায় ধীরে ধীরে এরা ইয়েমেনে সরে আসে। সালাফি জিহাদিবাদে (ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ) বিশ্বাসী এ সুন্নি সংগঠন ইয়েমেনের কোন প্রদেশ আজ পর্যন্ত পুরোপরি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও দক্ষিণের আবয়ান, শাবা, লাহিজ এবং উত্তরের আল-বৈদ ও মারিব প্রদেশের কিছু কিছু শহরে তাঁদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। কাঁঠাল ভাঙলে যেমন মাছি আসে, তেমনিভাবে সন্ত্রাসবাদের গন্ধে ২০১০ সালে মার্কিনিরা এসে গেল ইয়েমেনে। এদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে তাঁরা সবিরাম ড্রোনহামলাও চালিয়েছে- হতাহাত করেছে, নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। কোথায় পেরেছে সেটা অবশ্য বিতর্কের বিষয়। ইয়েমেন থেকে মার্কিনিরা সরে গেছে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে; এমনকি নিরাপত্তার অজুহাতে মার্কিনিরা সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ সেখানে তাঁদের দূতাবাসও বন্ধ করে দিয়েছে। অর্থাৎ, ইয়েমেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন খুবই নাজুক। কীভাবে এমন হলো?

মার্চ, ২০১১ এ ইয়েমেনে সরকার বিরোধী আন্দোলন চরমে ওঠে। সরকার শক্ত হাতে বিদ্রোহীদের দমনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সালেহ্ সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ্য সেনাবাহিনী কর্মকর্তাও তাতে যোগদান করে। গৃহযুদ্ধভাবাপন্ন অবস্থায় জারী হয় জরুরী অবস্থা, তবে তেমন কোন লাভ হয়নি। জুন মাসে বিদ্রোহীদের রকেট হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হন সালেহ্। তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি সুন্নিমতালম্বী মানসৌর হাদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি করে সালেহ্ সৌদিআরব চলে যান। নভেম্বরে সালেহ্ ফিরে আসেন এবং ‘উপসাগরিয় সহযোগিতা সংস্থা’ (জিসিসি) ও জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় তিনি নিঃশর্ত দায়মুক্তির শর্তে উপ-রাষ্ট্রপতি হাদির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর ও বিদ্রোহীদেরকে নিয়ে ‘ইয়েমেনি রেজুলেশন’ এর আওতায় ‘ঐক্য সরকার’ (unity government) গঠনে সম্মত হন। ফেব্রুয়ারি, ২০১২ নির্বাচনে হাদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে আশঙ্কার বিষয়টা থেকেই গেল কারণ ‘হৌথি’ ও ‘সাউদার্ন মুভমেন্ট’ উভয়ই ঐ নির্বাচন বয়কট করেছিল। তারপর?

 

২০১১ সালের ইয়েমেন

 

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাদের ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে যখন ইয়েমেনের পুনর্গঠন চলতে থাকে, তখন উত্তরে ‘হৌথি’ মিলিশিয়া, দক্ষিণে ‘সাউদার্ন মুভমেন্ট’ এবং বিচ্ছিন্নভাবে ইয়েমেনি আল-কায়দার তৎপরতাও বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে ইয়েমেনের নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য মার্চ ২০১৩ এ সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘জাতিয় আলোচনা সভা’ (national dialogue conference) শুরু যা পরবর্তী বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়। সমস্যা সমাধানে এরা মূলত উত্তর ও দক্ষিণের সমতার ভিত্তিতে ইয়েমেনের পার্লামেন্ট ও শুরা (Shura) কাউন্সিল এবং ৬ রাজ্যের যুক্তরাষ্টীয় সরকার গঠনের বিষয় প্রস্তাবনায় আনেন যার মধ্যে ৪ টি রাজ্য হবে উত্তরাঞ্চলে (আজাল, সাবা, যানাদ ও তিহামা) এবং ২টি হবে দক্ষিণাঞ্চলে (এডেন, হাড্রামায়ত); রাজধানী সানা ও পূর্বে দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজধানী এডেন কোন রাজ্যভূক্ত না হয়ে বিশেষ মর্যাদায় থাকবে। কিন্তু, বিধি বাম- সভা শেষ না হতেই আলোচনা হতে সরে আসে ‘হৌথি’ ও ‘সাউদার্ন মুভমেন্ট’। পরিস্থিতি আবারো ঘোলাটে হয়ে যায়। ২০১৪ এর জুলাই মাসে একদিকে মার্কিনিরা ইয়েমেনি আলা-কায়েদাদের ঘাঁটিতে ড্রোন আক্রমণ করতে থাকে আর অন্যদিকে, ‘হৌথি’ মিলিশিয়ারা একে একে উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলো করায়ত্ত্ব করতে করতে সানার দিকে এগুতে থাকে। আঞ্চলিকতা ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নাটকীয়ভাবে ‘হৌথি’র দলে ভীড়ে যায় ক্ষমতাচ্যুত শিয়াধর্মীয় সালেহ্ আর ওদের সাথে মিলে সুন্নি ধর্মালম্বী হাদি সরকার উৎখাতের উৎসবে যোগদান করে। সেপ্টেম্বরে সানা দখল করে ‘হৌথি’রা। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে হাদি ও ‘হৌথি’রা একমাসের মধ্যে একটি ‘ঐক্য সরকার’ গঠনে সম্মত হন। নাটকীয়তার পর নাটকীয়তা- ৮ নভেম্বরে ‘হৌথি’ ও সালেহের ‘জেনারেল পিপল’স কংগ্রেস’ ঐক্য সরকারে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানায়। এ বয়কটের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আমেরিকা সালেহ্ ও ‘হৌথি’র উপর অবরোধ আরোপ করে। এ বছরের জানুয়ারিতে ‘হৌথি’রা হাদিকে অবরুদ্ধ করে সানা পুরোপুরিভাবে দখল করে নেয় এবং ৫ সদস্যবিশিষ্ট রাষ্টপতি কাউন্সিল গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে। অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে যায় যখন হাদি পালিয়ে এডেনে চলে আসে এবং ‘হৌথি’র ক্ষমতা দখলকে ‘হৌথি ক্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ বিষয়ে বিশ্বকর্তাদের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেন। ২১ মার্চ তিনি এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ঘোষণাও করেন। অন্যদিকে, ‘হৌথি’ মিলিশিয়ারা দক্ষিণের তাইয প্রদেশ দখল করে ধীরে ধীরে দক্ষিণের এডেন প্রায় দখল করে ফেলে। এমতাবস্থায় সুন্নি রক্ষার্থে সৌদিআরব ও এর মিত্র আমেরিকা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। হাদি আত্মগোপন করেন এবং সৌদিআরব দেশটির সীমান্তের কাছে কামান, ট্যাংক এবং অন্যান্য ভারী সমরাস্ত্রসহ সেনা মোতায়েন করা ছাড়াও সেখানে এখন বিমান হামলা করছে। এমতাবস্থায় কী হতে পারে ইয়েমেনের ভবিষ্যত?

ইয়েমেনে ‘হৌথি’ দখলদারিত্ব (মার্চ ২০১৫)

যদি স্বল্পতম সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ ও সৌদির নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক হস্তক্ষেপে ‘হৌথি’ মিলিশিয়ারা পরাস্ত হয় বা এডেন থেকে সরে আসে, তবে (এক) সেই ‘জাতিয় আলোচনা সভা’ আবার শুরু হতে পারে। সেইসাথে ‘ঐক্য সরকার’ গঠন করে কোন এক পর্যায়ে প্রস্তাবিত ৬ রাজ্যের যুক্তরাষ্টীয় ইয়েমেন গঠিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে, ইয়ামেনি আল-কায়েদা নিমূর্লে সেখানে পুনরায় মার্কিনি সৈন্য মোতায়ন করার সম্ভাবনা রয়েছে। (দুই) যদি ‘হৌথি’রা এডেন ছেড়ে আসতে বাধ্য হয় এবং সানাসহ উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে তবে যুদ্ধবিরতি কোন চুক্তির মাধ্যমে ১৯৯০ সালের আগেকার মতো উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন জন্ম নিতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে ইয়ামেনি আল-কায়েদা তাদের নিজেদের দখলিকৃত কিছু অংশের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করবে অথবা তারা দুই ইয়েমেনের যে কোন একটির সরকারের সাথে সমঝোতায় সরকারে অংশগ্রহণ করতে পারে।

যদি স্বল্পতম সময়ে এ সঙ্কটের সমাধান সম্ভবপর না হয় এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হতে থাকে তবে প্রথমত, ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ যুদ্ধে জড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে এবং ইয়েমেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নিদের সমর্থন পেয়ে তাঁরা আল-কায়েদা শাখার সাথে যুক্ত হয়ে বা না হয়ে ইয়েমেনে তৃতীয় আরেকটি শক্তির উত্থান ঘটাতে পারে। ফলে ইয়েমেন দীর্ঘ সময়ের জন্য গৃহযুদ্ধের মুখে পড়তে পারে-ইয়েমেনেও হতে পারে ইরাক-সিরিয়া ও আইএস এর মতো শিঙ্কু অবস্থা। দ্বিতীয়ত, সুন্নি হাদিকে রক্ষার্থে সৌদিআরবের হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে ‘হৌথি’ শিয়া মিলিশিয়াদের সাহায্যে অভিযুক্ত ইরান সরাসরি এগিয়ে আসলে ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে ইরান-সৌদিআরব প্রক্সিযুদ্ধের সম্ভাবনাও একবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।