ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

395019

২০০৯ সাল থেকে গ্রিস অর্থনৈতিক মন্দায় ধুকছে। এ মন্দা থেকে উত্তরণের জন্য ২০১০ ও ২০১১ সালে ইউরোপিয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইএমএফ গ্রিসকে দুই দফায় কঠোর ব্যয় সংকোচনের শর্তে (পেনশন, বেতন ও সরকারি সেবায় কাটছাঁট, কর বৃদ্ধি প্রভৃতি) দুটি বেইল আউটে (আর্থিক পুনরুদ্ধারে প্রদত্ত সহায়তা) ২৪০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ প্রদান করে। তবুও গ্রিসের অর্থনীতি নিজের পায়ে তো দাঁড়াতে পারেনি। প্রথম উন্নত দেশ হিসেবে ঋণখেলাপি থেকে রাষ্ট্রীয় দেউলিয়াত্ত্বের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। আইএমএফের তথ্য মতে, গ্রিসের বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে আগামী তিন বছরে গ্রিসের আরো ৫৫ বিলিয়ন ইউরোর বৈদেশিক ঋণ প্রয়োজন। তাই নতুন করে সহায়তার জন্য তৃতীয় বেইল আউট প্রোগ্রামে গ্রিসকে অধিকতর কঠোর ব্যয় সঙ্কোচনের কঠিন শর্তে আর্থিক পুনর্গঠনের জন্য ঋণের প্রস্তাব দেয় ইউরোজোন।

কিন্তু সেই প্রস্তাব পাশ হবার আগেই গ্রিক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস এককভাবে এক গণভোটের ঘোষণা দিয়ে বলেন যে গ্রিস ঋণদাতাদের কৃচ্ছতাসাধণের পক্ষ নেবে নাকি তা প্রত্যাখ্যান করবে সেটা ঠিক করবে দেশটির জনগণ। পক্ষ-বিপক্ষ যাচাইয়ে গত রোববার গ্রিসে যে গণভোট হলো তার ফলাফলে ৬১.৩১ শতাংশ ভোটে ‘না’ জয়ী হয়েছে। এ জয়ে ইউরোজোনের সরকার প্রধানরা বিষ্মিত ও বিচলিত এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা গ্রিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

গ্রিসে পেনশন শেষ বেতনের ৯২ শতাংশ। ২০০৩ সালে গ্রিসে পেনশনভোগী ছিল ১৭.৭% যা ২০১৪ সালে বৃদ্ধি পেয়ে মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশে (২০.৫%) এসে দাঁড়ায়। এ পেনশনভোগীদের পিছনে সরকারের ব্যয় (২০১২ সালে) মোট জিডিপির ১৭.৫% (২০১৪ সালে ২% কমানো হয়)। আবার পেনশন গ্রহণের বয়সও কম- পুরুষেরা গড়ে ৬৩ বছরে (২০১২ সালে ছিল ৬১.৯) ও মহিলারা ৫৯ বছরে পেনশনে যায় (সরকারি তথ্য মতে এখন উভয়ের পেনশনের গড় বয়স ৬৭ বছর), পুলিশ ও সামরিক বাহিনীতে এ বয়স আরো কম । সরকারি ব্যাংকে কর্মরত কোন মহিলার বয়স ৪৩ হলে এবং তার ১৮ বছরের নীচে কোন সন্তান থাকলে সে স্বেচ্ছায় পেনশনে যেতে পারে। তার উপরে রয়েছে পেনশনে দুর্নীতি- ২০১১ সালে ১৪৭৩ জন মৃত ব্যক্তি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পেনশন তুলে নিয়েছে। পেনশন বিধিমালা পরিবর্তন করে পেনশন গ্রহণের বয়স ও পরিমাণ কমানো বেলআউট প্রোগ্রামের অন্যতম একটি শর্ত যার বিরুদ্ধে সকল পেনশানভোগীরা একাট্টা হয়ে ‘না’ ভোট দিয়েছে।

বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ে গ্রিসের বাজেটে রাজস্ব আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অত্যধিক বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাদির কারণে বর্তমানে গ্রিসের রাজস্ব ব্যয় (মোট জিডিপির ৫০ শতাংশ) ও আয়ের পার্থক্য মোট জিডিপির ১৩.৬%। এর মূল কারণ হলো ট্যাক্স ফাঁকির প্রবণতা। ২০০৭ সালে গ্রিসের লোকজনের মাথাপিছু আয় ছিল ২২,৫০০ ইউরো যা ২৪% কমে ২০১৪ সালে এসে ১৭০০০ ইউরোতে দাঁড়ায়। তারপরেও এ আয় থেকে যে পরিমাণ ট্যাক্স পাবার কথা যা পায় না গ্রিস। এ সমীক্ষায় দেখা যায় ২০১০ সালে গ্রিসবাসী ১০ বি. ইউরো ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে আর ২০১২ সালে ট্যাক্স ফাঁকির কারণে মোট রাজস্ব আয়ের অর্ধেক লক্ষমাত্রায়ও পূরণ হয়নি। ফলে কমে গেছে দেশের জিডিপি- ২০০৪ সালে যে জিডিপি ছিল ২৪২ বি. ইউরো তা ২৬% কমে ২০১৪ সালে ১৭৯ বি. ইউরো হয়ে গেছে। বেলআউট প্রোগামের শর্তানুযায়ি গ্রিসকে একদিকে যেমন রাজস্ব ব্যয় কমাতে হবে তেমনি অন্যদিকে জনগণের প্রদেয় ট্যাক্স বৃদ্ধি ও তা আদায়ে তৎপরতা বাড়াতে হবে। জনগণের অনেকের পক্ষেই এ শর্ত মেনে নেয়া কঠিন হবে বলে তারা গণভোটে ‘না’কে বিজয়ী করেছে।

গ্রিসে বেকারত্বের হার ২৫.৬০ শতাংশ হলেও যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে এ হার ক্রমবর্ধমান, ২০০৮ সালে যা ছিল ২০.১০ শতাংশ সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৫ সালে ৪৯.৭ শতাংশ হয়েছে। এ সকল যুবকদের একটি বড় অংশ ক্রমে ক্রমে ইউরোপিয় ইউনিয়নের আওতায় চাকুরির উদ্দেশ্যে ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাড়ি জমায়। এরা স্বাভাবিকভাবেই গ্রিসকে ইউরোজোনের বহির্ভূত হিসেবে দেখতে চায় না, তাই এরা মূলত ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু, গ্রিসের বামপন্থী সিরিজা সরকারের প্ররোচনা এমন ছিল যে ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হলেও তারা ইউরোজোনে থাকবে এবং ঋণদাতাদের সাথে বেলআউট ইস্যুতেও যথোপযুক্ত সমঝোতা আলোচনার সুযোগ পাবে।

আইএমএফ বিরুদ্ধে তরুণদের নব্যউনিবেশবাদের ভীতিও ‘না’ ভোটকে জয়ী হতে সহায়তা করেছে। তাদের বিশ্বাস, আইএমএফের ঋণ সহায়তার পরেও যেহেতু এতদিনে কিছু বদলায়নি, তাই ভবিষ্যতে আর কিছু হবে না। আইএমএফকে প্রত্যাখানের পাঁচ বছরের মধ্যে আইসল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, তাই গ্রিসও সেই পথে হাঁটতে পারে। এই দেশাত্ববোধও গ্রিসবাসীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরুদ্ধে জাগ্রত করেছে এবং তারা বেলআউট প্রোগ্রামের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সিরিজা সরকারের অন্যতম আরও একটি প্রচারণা ছিল যে, যদি গ্রিসবাসীরা ‘না’কে জয়ী করে তবে জার্মানি, ফ্রান্স, আইএমএফ প্রভৃতি ঋণপ্রদানকারীগণ তাদের বেলআউট প্রোগ্রামের শর্তাবলীতে শিথিলতা আনতে নমনীয় হবে এবং বৈদেশিক ঋণের সুদের হারও কম হবে। বন্ধ ব্যাংকগুলো পুনরায় চালু হবে এবং অর্থনীতি পুনরায় চাঙ্গা হবে।

গ্রিস সরকারের এ সকল প্রচারণার পেছনে রহস্য হলো ক্ষমতায় টিকে থাকা কারণ ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে গ্রিসের বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ছিলো অনিবার্য পরিণতি। এমনকি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। দ্য ইকোনোমিস্টের মতে, এ জয়ে ঘরোয়া রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারে তাঁর অবস্থান বেশ পাকাপোক্ত হয়েছে, তবে সেটি কতদিন, কীভাবে টিকে থাকে এখন সেটাই মূখ্য বিবেচ্য।

greek-crisis-6595084-3x2-940x627

গ্রিসের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় উপনীত হয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক অবস্থানে রয়েছে (-৩.৯ শতাংশ)। দেশটির মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৪২০ বি. ইউরো (মে, ২০১৫)। বেকারত্বের হার ২৫.৬ শতাংশ (বা ২৭.৯) যাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ যুব সম্প্রদায় রয়েছে। ইউরোজোনে যোগদানকালে গ্রিসের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল জিডিপির ৫% যা ২০০৮-২০০৯ সালে এসে দাড়ায় ১৫%। এখন দেশটির আমদানি ব্যয় ৩.৮ বি. ইউরো ও রপ্তানি আয় ২.১ বি. ইউরো, অর্থাৎ, বাণিজ্য ঘাটতি ১.৭ বি. ইউরো (এপ্রিল, ২০১৫)। সরকারি খাতে অত্যধিক ব্যয় ও দুর্নীতি গ্রিসে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগেও অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। আর্থিক সংকটের কারণে এখনও গ্রিসের ব্যাংকগুলো বন্ধ আছে।

ঋণদাতাদের দেওয়া কৃচ্ছ্রসাধনের প্রস্তাবের উপর গণভোটে ‘না’ বিজয়ের পরে নড়েচড়ে বসে ইউরোপ, গ্রিসের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শুরু হয়। বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ব্রাসেলসে ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে দাতারা গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসের কাছ থেকে পুনরায় কার্যকর, বাস্তবসম্মত বা সন্তোষজনক প্রস্তাব চেয়েছে। গ্রিস আশা করে যে গণভোটের ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক লাভের একটি সমঝোতা হবে। এ প্রস্তাবের উপর আলোচনা ইতিবাচক হলে সমাপনান্তে সংযোজিত, বিয়োজিত, সংশোধিত বা পুনঃবিবেচিত শর্তাবলীর আলোকে দাতাদের সঙ্গে গ্রিসের নতুন বেইলআউট চুক্তি হতে পারে। যদি তারা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তবে ইউরোজোন থেকে গ্রিসের বিদায় ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে; ফলে ব্যাংক ব্যবস্থার পতনের মধ্য দিয়ে পুরনো ড্রাকমা মুদ্রায় ফিরে যেতে হবে যা গ্রিসকে আরো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে। যদিও অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর ওয়েরনার ফেম্যান সতর্ক করেছেন যে, আগামী রোববার কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইউরোজোনের সরকারগুলোর ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে এগোতে হবে যাতে গ্রিস ইউরো ব্যবহারের সুযোগ হারাবে এবং ইউরোজোন ছিটকে পড়বে, তবে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাসের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে, কৌশলগত গুরুত্বের কারণে গ্রিসকে বের করে দেয়ার মতো সাহস কখনোই হবে না ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)। আর সে কারণেই খাদের কিনারা পর্যন্ত যেতেও তিনি দুঃসাহস দেখাচ্ছেন। তাছাড়া, গ্রিসকে ইইউতে রাখার পেছনে পেছনে ভূ-রাজনীতিরও প্রভাব রয়েছে। “প্রথমত, ইউরোপের সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে গ্রিসের সম্পর্ক খুব দুর্বল। জোটের নিয়মানুযায়ী, সদস্য দেশগুলোকে জিডিপির কমপক্ষে ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে হয়। গ্রিস অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ন্যাটোর বহুজাতিক মিশনে তার অংশগ্রহণ থাকবে না বললেই চলে। আর ইউরোজোন থেকে ছিটকে পড়লে সুযোগ নিতে এগিয়ে আসবে রাশিয়া। এমনিতেই গত এপ্রিলে অ্যালেক্সিস সিপরাসের মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মেলামেশা ইউরোপে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছিল। ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে রাশিয়া। এমতাবস্থায় দূর ইউরোপেই একজন বন্ধু পেতে উৎসুক হয়ে আছেন পুতিন। সিরিয়া যুদ্ধের কারণে তারতুসের নৌঘাটিঁ ব্যবহারে রাশিয়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে আসছে। এ অবস্থায় গ্রিক বন্দর ব্যবহারের নিশ্চয়তা পেলে এথেন্সকে অর্থ সাহায্য দিতে মস্কো প্রস্তুত। গ্রিসের ক্রিটে অবস্থিত সুদা সৈকতে নৌবিমান- ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়াশিংটনের জন্য এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সিপরাসের বামপন্থী সিরজিয়া পার্টি ও ডানপন্থী জাতীয়তাবাদীর সরকার হয়তো একদিন সেটা চ্যালেঞ্জ করে বসতে পারে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিস সংকটে সহযোগিতামূলক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিস ইউরোজোন থেকে বের হলে রাগটা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইউরোপের ওপর বেশি পড়বে। ল্যাটিন আমেরিকায় ঋণখেলাপি প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র যেসব ভুল করেছে, তার পুনরাবৃত্তি করতে চায় না গ্রিস। সেজন্যই গ্রিসকে ইউরোজোনে রাখার পক্ষে তারা। তবে ইইউ চায় গ্রিসকে যতটা সম্ভব চাপে রেখে স্বার্থ আদায় করতে “ (দৈনিক যুগান্তর)। 

সুতরাং, আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত আমাদেরকে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

============

০৯ জুলাই ২০১৫ আপডেটঃ আর্থিক সংকট কাটাতে সহায়তার আশায় বৃহস্পতিবার গ্রিস সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইউরো জোন দাতাদের কাছে। ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের বিশেষজ্ঞগণ ও ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীরা সিপ্রাসের এ প্রস্তাব আলোচনা করবেন।গ্রিসের গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, এ সংস্কার প্রস্তাবে শিপিং কোম্পানির ওপর কর বৃদ্ধি, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসসহ সবকিছুর ওপর ভ্যাটের হার সমান করে ২৩ শতাংশ করা ও ২০১৬ সাল নাগাদ প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩০ শতাংশ কাটছাঁট করার অভিপ্রায় রয়েছে। মোটামুটিভাবে, ব্যয় সংকোচন ১২ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি। রোববার ব্রাসেলসে ইইউ নেতৃবৃন্দের এক সভায়ও বিষয়টি তোলা হবে। গ্রিক সরকার তাদের পার্লামেন্টেও এ সংস্কার প্যাকেজের অনুমোদন চাইবে।  

১১ জুলাই ২০১৫ আপডেটঃ গ্রিসের তৃতীয় আর্থিক পুনরুদ্ধার (বেইলআউট) কর্মসূচিতে ইউরোপীয় দাতা সংস্থাকে দেওয়া গ্রিক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাসের দেওয়া নতুন সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট (২৫১ জন এমপি প্রস্তাবের পক্ষে ও ৩২ জন ‘না’ ভোট দেন এবং ৮ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। ক্ষমতাসীন বামপন্থী সিরজা পার্টির ২ জন মন্ত্রীসহ ১৭ জন এমপি ও পার্লামেন্টের স্পিকার প্রস্তাবে অনাস্থা প্রকাশ করেন )। ব্রাসেলসে রোববার অনুষ্ঠিতব্য ইউরোজোনের নেতাদের সম্মেলনে প্রস্তাবনাটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইউরোপের অন্তত ৮টি দেশের পার্লামেন্টেও পাস হতে হবে গ্রিস চুক্তি।  দেশগুলো হচ্ছে- গ্রিস, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও স্লোভাকিয়া। এমনকি জার্মানির পার্লামেন্টে দু’বার ভোট হতে পারে। এএফপি জানায়, ইইউভুক্ত অধিকাংশ দেশেই চুক্তি অনায়াসেই পাস হয়ে যাবে। কিন্তু স্লোভাকিয়া, লাটভিয়ার মতো দেশগুলোতে কঠিন সমস্যায় পড়তে হবে। 

১৪ জুলাই ২০১৫ আপডেটঃ ১৭ ঘণ্টার ঝোড়ো আলোচনার পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে (বেইল আউট) গ্রিসকে তৃতীয় মেয়াদে সহায়তা দিতে রাজি হলেন ইউরোজোনের নেতারা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক অনিশ্চয়তার অবসান হলো। আর্থিক সংকট কাটাতে ২০১০ সালের পর থেকে এ নিয়ে তৃতীয় দফায় ঋণ দেওয়া হলো গ্রিসকে। নতুন চুক্তির ফলে গ্রিস ঋণদাতাদের কাছ থেকে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো পাবে। চুক্তিতে যা আছে করতে হবে যা- আর্থিক খাতে সংস্কারের জন্য গ্রিসের পার্লামেন্টকে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে আইন প্রণয়ন করতে হবে। পেনশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো, শ্রম বাজার উদারীকরণ, বিদ্যুৎ খাত বেসরকারীকরণ করতে হবে। গ্রিসের নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচ হাজার কোটি ইউরোর একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হবে। ইউরো জোনের ঋণ ফেরতের এটি একটি ব্যবস্থা। এই তহবিলের অর্ধেকটাই গ্রিসের ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে ব্যয় হবে। অর্ধেকটা বিপুল পরিমাণ ঋণ শোধে কাজে লাগানো হবে। দেউলিয়াত্ব কাটাতে জরুরি সহায়তা হিসেবে ইউরো জোনের ঋণের বাইরে আগামী সোমবারের মধ্যে গ্রিস ৭০০ কোটি ইউরো পাবে। আরও ৫০০ কোটি ইউরো পাবে আগামী আগস্ট মাসে। নতুন চুক্তির শর্ত পালন কর হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীরা। ফিনল্যান্ড, জার্মানি এবং গ্রিসের পার্লামেন্টে অনুমোদনের পরই ইউরো জোনের ঋণের ছাড় হবে। (প্রথম আলো)

দাতাদের কঠোর ব্যয় সঙ্কোচনের শর্তে বেইল আউট চুক্তিতে সম্মতি জানিয়ে দেশে ফিরেই বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন গ্রিসের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। পাঁচ বছর ধরে চলা কঠোর ব্যয় সঙ্কোচন থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচমাস আগে নির্বাচিত হয়েছিলেন সিপ্রাস।ফলে বুধবারের মধ্যে নতুন বেইল আউট চুক্তির বিষয়ে পার্লামেন্টের সমর্থন পেতে তাকে ইউরোপপন্থী বিরোধীদলগুলোর উপরই নির্ভর করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে তার সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যার ফলাফলে গ্রিসে হঠাৎই নতুন জাতীয় নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। (বিডিনিউজ২৪.কম)

============

আন্তর্জাতিক বিষয়ের উপর অন্য একটি ব্লগ- বর্তমান ইয়েমেন ভবিষ্যতে কি অতীতে ফিরে যাবে?

 

ফেসবুক পেজ- মোঃ আলাউদ্দীন ভুঁইয়া