ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ছোটবেলার গল্পগুলো এভাবে শুরু হতো- এক দেশে ছিল এক রাজা। তাঁর ছিল সাতটি, তিনটি বা ন্যূনতম দু’টি রাণী। রাজা-বাদশাদের যত কাহিনী শুনতাম সেগুলোর প্রায় প্রতিটাতেই একাধিক রাণী একটি কমন বিষয় ছিল । এভাবে আমরা প্যাভলভের অভ্যাসগত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়ার অধীন হয়ে গেছি। রাজা-বাদশার নাম শুনলেই গোটা কয়েক রাণীর কথা মনে পড়ে।

কোনো কাজ বারবার অনুশীলন করলে কিছুদিন পর মস্তিষ্কের সাহায্য ছাড়াই ওই কাজটি করা সম্ভব হয় । বিজ্ঞানী প্যাভলভ প্রতিদিন নির্দিষ্ট এক সময়ে ঘন্টাধ্বনি করে একটি কুকুরকে খাবার দিতেন । এইভাবে কয়েকদিন অনুশীলনের পর কুকুরটিকে খাবার না দিয়ে কেবল ঘন্টাধ্বনি করে দেখলেন যে, কুকুরটির লালা নিঃসরণ হয়েছে । এরকম প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে তিনি অভ্যাসগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা শর্তাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়ারূপে অভিহিত করেন ।

অভ্যাসগত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ফলে মুক্তমনা-ব্লগারের সাথে যেমন নাস্তিকতা তেমনি সাহসী পুলিশ, সৎ পুলিশের সাথে খুন, জীবন দানের একটি নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততার অপর পিঠে যেন হত্যা, খুন বিধিবদ্ধ হয়ে আছে! পত্রিকা থেকে সংগৃহীত কয়েকটি সংবাদ শিরোনামের উদাহরণ দিতে পারি- সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী খুন/ জঙ্গিত্রাস এসপি-র স্ত্রী খুন, কর্তব্যের টানে জীবন দিলেন কনস্টেবল পারভেজ, ছিনতাইকারী ধরতে জীবন দিলেন কনস্টেবল শামীম, চেকপোস্টে তল্লাশী করতে গিয়ে পুলিশ খুন, আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ খুন ইত্যাদি ইত্যাদি।

এভাবে যদি প্রতিবর্ত ক্রিয়া চলতে থাকে তবে অদূর ভবিষ্যতে কোনো পুলিশের নামের সাথে ‘সৎ’, ‘সাহসী’, ‘কর্তব্যপরায়ন’ বিশেষণগুলোর সংযুক্তির সাথে সাথে সেই সকল পুলিশ ও তাদের পরিবারবর্গের নামের সাথে ‘মরহুম’ জুড়ে দিতে হবে। এ যেন সাহসিকতা, সতাতার জন্য ‘মৃত্যু পদক’ লাভ! এমন ভাবনা পুলিশের সেবামূলক ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে কতখানি নেতিবাচক প্রভাব রাখার ক্ষমতা রাখে তা সত্যিই বিবেচনার দাবী রাখে।

কয়েক বছর বিদেশে গাড়ি চালিয়ে একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কোনো উপায় নেই, ট্রাফিক সিগন্যালের ক্যামেরা লঙ্ঘন করলেই জরিমানা। বিশ্বাসটা এতখানি জোরালো যে, চলন্ত অবস্থায় কেউ ‘ক্যামেরা’ বললে পা একসেলারেটর থেকে ব্রেকে চলে যায়, গাড়ি ব্রেক করে বসি। এর উল্টোটাও সঠিক। সিগন্যাল অমান্যের জরিমানা যদি অবশ্যম্ভাবী না হতো তবে ‘ক্যামেরা’ শুনলে হয়তো একসেলারেটরটা চেপে ধরে গাড়ির গতিটা আরেকটু বাড়িয়ে দিতাম।

প্রতিটি অপরাধ একেকটি ট্রাফিক ক্যামেরা লঙ্ঘনের মতো। প্রতিটি ক্যামেরা অমান্যের জন্য নিশ্চিত উপযুক্ত বিচার হতে হবে। প্রতিটি নিশ্চিত শাস্তি ভবিষ্যতে আর কোনো ক্যামেরা লঙ্ঘনের সব মনোবল ভেঙে দিতে পারে। পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে, এই ক্যামেরা লঙ্ঘনের বিচার, শাস্তি হতে হবে আরো নিশ্চিত, দ্রুত, আবশ্যিক ও অবশ্যম্ভাবী। নতুবা প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় অপরাধ ও বিচারহীনতার মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে বাধ্য।

অতীতের গুটিকতক উদাহরণ দেখে বুক ফুঁলিয়ে বলতে পারছি না, প্রতিটি ক্যামেরা লঙ্ঘনেই শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে। মাঝে মাঝে তো দেখি ক্যামেরাই উধাও হয়ে যায়। তাই বলে নিরাশাবাদী হওয়া মানায় না। নৈরাশ্যবাদ কখনোই সাফল্যের সূর্য এনে দিতে পারে না।

আমরা এ জাতীয় প্রতিটি অপরাধের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

=====০=====

ফেসবুক- মোঃ আলাউদ্দীন ভুঁইয়া