ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ তার প্রাণ। সকল প্রাণীর প্রাণ থাকে। মানবদেহে প্রাণ হলো মন, আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনার এক মিথস্ক্রিয়া। অন‍্যান‍্য প্রাণীর সাথে মানুষের পাথর্ক‍্য হলো প্রাণে মনের উপস্থিতি। যদি মন না থাকতো তবে অন‍্য সকল প্রাণী থেকে মানুষকে কখনও আলাদা করা যেত না।

মানুষের মন তার চেতন-অর্ধচেতন-অবচেতন ভাবনা, যুক্তি ও জ্ঞানের সামষ্টিক প্রতিফলন। প্রাণী হিসেবে প্রাণের আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনা পূরণে মন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন‍্য প্রাণীদের মন থাকে না বলে তাদের প্রাণের আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনা নিবারণের কোনো নির্ধারিত নীতি নেই, জবাবদিহিতাও থাকে না। কিন্তু মানুষের আছে কারণ মানুষের মন থাকে।

ঝাঁঝরির মতো মানুষের ভাবনা, যুক্তি ও জ্ঞান প্রাণের আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনাগুলোকে ছাঁকতে থাকে। শিক্ষা থেকে, ধর্ম থেকে, পরিবেশ থেকে আহরিত এ জ্ঞানের পরিধি যতো বাড়তে থাকে ঝাঁঝরির নেট ততো শক্ত হয়, মানুষের ভাবনা, যুক্তির মাত্রাগুলো ক্রমান্বয়ে জোরালো হয়, ফলে পরিশোধন প্রক্রিয়া শুদ্ধ থেকে শুদ্ধতর হতে থাকে। জ্ঞান থেকে উদ্ভূত এই সব শুদ্ধ ভাবনা, যুক্তি ধীরে ধীরে মনকে বিবেক হিসেবে গড়ে তোলে।  আমরা বিবেকবান হয়ে উঠি।

জ্ঞান ঝাঁঝরির নেটকে মজবুত করে, মজবুত ঝাঁঝরি মনকে বিবেকে রূপান্তর করে, বিবেক প্রাণকে মহৎপ্রাণ করে, মহৎপ্রাণ মানুষ থেকে মহামানুষের জন্ম দেয়। প্রাণ থাকলে প্রাণী, মন থাকলেই মানুষ, তবে মহৎপ্রাণ না থাকলে মানুষ মহান হয় না।

মনের বস্তু ও অবস্তুগত বহিঃপ্রকাশ মানুষের কর্ম। মন কর্ম সৃষ্টি করে, কর্ম মনকে প্রচার করে, ফলে মন ও কর্ম প্রাণকে মহিমান্বিত করে। মহিমান্বিত প্রাণ মানুষকে মহামানবের পথে নিয়ে যায়।

প্রাণের পোষকদেহ প্রাণী, মনের পোষকদেহ প্রাণ। মন কর্ম দিয়ে প্রাণের চারিদিকে যে খোলস গড়ে তোলে সেটাই মানুষের সৃষ্টি।

সৃষ্টির খোলসে ঢাকা প্রাণ যখন তার পোষকদেহ ত‍্যাগ করে বাইরে আসে, সে প্রাণীদেহকে তখন আমরা শব বলি। এ শব মূল‍্যহীন, পচনশীল। সৃষ্টির খোলস কেটে এ প্রাণ যখন অন‍্যলোকে চলে যায়, তখন শবদেহের বাইরে কেবল সৃষ্টিটুকুই পড়ে থাকে। এ সৃষ্টি অমূল‍্য, এ সৃষ্টিই প্রাণকে অমরত্ব দান করে।

ফেসবুক- আলাউদ্দীন ভুঁইয়া