ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

সুরেলা কন্ঠে উকরা চিং গাইছে……
উত্তন পেগে মেগে মেগে, মেগলা দেবাত তলে
ম পরাণান যেদ মাগে তারা লগে লগে

অনুষ্ঠানের আয়োজক সুরেশ ত্রিপুরাকে জিগ্ঞেস করলাম গানের অর্থ
-উড়ছে পাখি মেঘে মঘে, মেঘলা আকাশের নিচে।
আমার মনও চাইছে যেতে তাদের সাথে সাথে…..

বাহ কী চমৎকার!এই মুহূর্তে মন যা চাইছে ঠিক সে কথারই প্রতিধ্বনি যেন এই গান জুড়ে।

সত্যিই অপুর্ব কম্পোজিশন। হৃদয়ে টান মারে। গানের তালে তালে জুম নাচের মুদ্রায় একদল উপজাতীয় তরুণী কাঁপিয়ে তুলছে ট্যুরিস্টদের সৌন্দর্য পিয়াসী মন। অনুষ্ঠান এগিয়ে যায় পাহাড়িয়া গানের ছন্দে ছন্দে। আমাদের ক্রুজ বোট ও এগিয়ে যায় কাপ্তাই হ্রদের নীলাভ জল রাশি কেটে কেটে শুভলংয়ের পথে। উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (রাংগামাটি) বৈচিত্রপূর্ণ পরিবেশনায় আমাদের ক্রুজ বোটের ডেক মুহূর্তেই পরিণত হল একটুকরো পাহাড়ি গ্রামে। মন্ত্রমুগ্ধ আমরা সবাই।

হঠাৎ চন্ঞল হয়ে উঠে মুগ্ধ চোখের দৃষ্টি। অবারিত সে দৃষ্টি মেলে দেখি লেকের দুই তীর ধরে সবুজ পাহাড়ের সারি ধীরলয়ে উর্ধ্বমুখী হয়ে আছে আকাশের মিতালীতে। বিস্তৃত হৃদের জলে ভাসা ছোট ছোট আইল্যান্ড গুলো মনে হচ্ছে কাপ্তাই লেকের টোল পড়া গালে সুন্দরের তিলক চিহ্ন। নীল জলের দর্পণে বিম্বিত সোনার সূর্য সেসব ক্ষুদ্র দ্বীপে লুটোপুটি খাচ্ছে প্রতিক্ষণ। স্রোতের অনুকুলে ভেসে আসা শত শত বাঁশের ভেলা মনে করিয়ে দেয় সভ্যতার সবচে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কাগজ আবিস্কারের আদিকথা। জীবনের লেনদেনে ব্যস্ত মাছ ধরার সারি সারি ডিংগি নৌকা, মেলে ধরেছে বাঁচতে শেখার ইশতেহার, সংগ্রামের প্রেরনা। এ এক অপূর্ব মায়া, ইন্দ্রজাল। হৃদয় ভেংগে বেরিয়ে আসে নি:শব্দ কাব্যের পদাবলি “প্রভু তোমার লীলায় সুন্দরের বেদনা জাগে হৃদয়তন্ত্রীতে”।

আবেগে আতিশায্যে টনটন করে উঠে বুক। অস্পষ্ট গোঙানিতে উচ্চারিত হয় “বাংলার রুপ আমি দেখিয়াছি বিশ্বের রুপ আমি দেখিতে চাইনা আর।

মাঝে মঝে দুএকটা গাংচিল উড়ে উড়ে স্বর্গের বারতা ছড়ায় আমাদের পথে পথে। কালো পানকৌড়িরাও জলের উপরে উকি দিয়ে আশীর্বাদ জানায় আমাদের অভিযাত্রাকে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা পাথরের পাহাড় ইতিমধ্যে স্বাগতম জানালো বরকল উপজেলার প্রবেশদ্বারে। একএক করে সবকিছুকে পিছনে রেখে চেংগি চ্যানেল ধরে সাতার কাটে সাইঁ সাইঁ আমাদের বোট। অবশেষে পৌছে গেলাম কাংখিত গন্তব্য শুভলং ঝরনার পাদদেশে।

বোট থেকে নেমেই হোঁচট খেলাম…….অগোছালো, অপরিষ্কার, আর অব্যবস্থাপনা দেখে।….নেই কোন ভ্রমন বান্ধব অতি প্রয়োজনীয় আবকাঠামো। যাহোক দু:খ গুলোকে সযত্নে দুহাতে ঠেলে সামনে এগিয়ে গেলাম।

৭০০/৮০০ ফুট উপর থেকে অবিরাম ঝর্ণার শুভ্র জল, পাথর ভাংগার গান হয়ে ছুটে চলে অহর্নিশ স্বচ্ছ হৃদের নিমন্ত্রণে। প্রবেশ পথে না পাওয়ার যে বেদনা ছিল, প্রত্যাশার যে অনুপস্থিতি ছিল…..সে সব ধুয়ে মুছে হৃদের জলে ভাসিয়ে দিল নিঝরির্র্ণীর অমিয় কলকাকলী। এ কি সূধা এ, কি মায়া? অন্তর আত্মায় তোলে সম্মোহনের ক্রন্দন।

উর্বশী এ পাহাড়ী কন্যার চোখের ইশারা অগ্রাহ্য করে সাধ্য কার! মূহুর্তেই সান্নিধ্য ভোগের কামনা জাগায় অন্তরের গোপন কুঠুরিতে। কান পেতে শুনতে পাই নির্মল আনন্দের আমন্ত্রণ। ধরে রাখা গেল না আর! সবাই মিলে দাড়িয়ে গেলাম ঝর্নার নীচে। শুভ্র জলের প্রবাহে আত্ম সমর্পন করে শীতল হলাম, মুগ্ধ হলাম। মানুষ আর প্রকৃতির সম্মিলিত অবগাহনে একাকার হলো স্রষ্টার অপার মহিমা।

শুভলং জলপ্রপাতের সাথে মুহূর্তেই গড়ে উঠা মেলবন্ধন, আমাদের অগোচরে অনুরাগের রক্তিম আভায় রাঙিয়ে দিল গোধূলির পড়ন্ত বেলা। আহা কি চমৎকার! চমৎকৃত হৃদয় আর চমৎকৃত মন অবচেতনেই গেয়ে উঠে “ এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবো নাকো তুমি সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি”

ধীরে ধীরে পাহাড়ের আড়ালে চলে যাচ্ছে পড়ন্ত সূর্য। সময় ফুরিয়ে আসছে। সুন্দরের ব্যাথা বুকে চেপে বোটে উঠে পড়লাম। ঝর্ণামুখী হয়ে বসলাম। তাকিয়ে রইলাম অপলক ঝর্ণার চোখে চোখে। কখন জানি চুপিসারে সন্ধ্যার আধার নিয়ে আসলো নীরবতা……নীরবতা ভেংগে পাহাড়ি শৈলীর ক্রন্দন বিরহী অন্তরে না পাওয়ার বেদনাকে আরো মর্মন্তুদ করে তুললো। অভিমানে ক্ষুব্ধ, নিস্তব্ধ পরস্পর। শেষ পর্যন্ত আলাদা হয়ে গেলাম, একটু একটু করে দূরে চলে আসলাম………শুধু অনিন্দ্য সুন্দর মূহুর্তের স্পর্শটকু থাকল পরানের পড়শী হয়ে…………

ধীরে ধীরে আরেো গাঢ হয়ে এল সন্ধ্যা। চারপাশ ঘিরে আছে নির্জনতা। কোন শব্দ নেই। শধু ইন্জিন আর জলের তরংগ ভেংগে চলার শব্দ।
স্বপ্নে বিভোর অন্তরে আছড়ে পড়ছে উপুর্যপরি কাপ্তাই লেককে ঘিরে সহস্র রংগিন কল্পনা।

যদি আরেকটু পরিচর্যা করা যেত,
যদি আরেকটু সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা যেত
সঠিক পরিকল্পনা করা যেত…… তাহলে হয়ত

Dal lake, Kashmir, Kenyir Lake, Malaysia আথবা Lake geneve, Switzerland এর মতো ভ্রমন পিপাসু মানুষের আরেকটি তীর্থ স্থান হতে পারতো এই হ্রদের শহর রাংগামাটি….

ইস যদি এমন হতো! মাহাথির মোহাম্মদের মত কেউ এসে পাল্টে দিত সব? অথবা ডালিম কুমারের মত কেউ এসে উদ্ধার করতো আমাদের রক্তাক্ত স্বপ্নগুলোকে রাক্ষসপুরী থেকে!
যাক এসব হয়তো প্রিয় স্বদেশ নিয়ে কল্পনার ফানুস নয়তো অর্থহীন চিন্তার বিলাসিতা…এলোমেলো চিন্তা করতে করতে বোট এসে ভীড়ল পর্যটনের ঘাটে।
একটু রেস্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম কেনা-কাটার জন্য। বনরুপা, তবলছড়ি ঘুরে বিভিন্ন হাতের তৈরি দ্রব্য আর উপজাতীয় পেষাক কিনে হোটেলে ফিরলাম।

….ডিনার শেষ।
ঘুমোতে পারছিনা। ভরা পূর্ণিমার চাঁদ টা এসে ঘূমোতে দিচ্ছে না। উঠে গিয়ে ব্যালকনিতে বসলাম। দেখি চাঁদের জোছনায় সয়লাব হয়ে গেছে চারপাশ।মনে পড়ছে

উকরা চিং মারমার গান।
‘উত্তন পেগে মেগে মেগে, মেগলা দেবাত তলে
ম পরাণান যেদ মাগে তারা লগে লগে’

….বুকের মধ্যে স্নায়ুবিক উত্তেজনা মোচড় দিচ্ছে। কালকে কাপ্তাই হয়ে বান্দরবান, চিম্বুক, নীলগিরির উদ্দেশ্যে পা ফেলব।

সকাল সাতটায় গাড়ী ছুটল। আধ ঘন্টা যেতেই আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবার উপক্রম। সর্পিল গতিতে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যাচ্ছে গাড়ী …আবার সাঁই সাঁই করে নীচে নেমে যাচ্ছে। তার মধ্যে কত যে ভয়ংকর সার্প টার্ন। শীতল হয়ে আসে রক্ত চলাচল। ভাবাই যায়না। যখন গাড়ী পর্বতের চূড়ায়, শাহরিয়ার ভাই কে বললাম Slow Drive করতে…দেখতে দেখতে যাই।
পাহড়ের ঢালে জুমিয়াদের চাষাবাদের শৈল্পিক কারুকলায় আটকে যায় চোখের দৃষ্টি। দক্ষিনা হাওয়ায় নেচে উঠা থরে থরে আবাদ করা সবুজ ধানের ডালি আপনার নয়ন জুড়িয়ে দেবে। দুর হয়ে যাবে ভ্রমনের ক্লান্তি।

রাংগামাটি-কাপ্তাই Lakeshore সড়কটি অনেক আঁকা-বাঁকা আর উঁচু-নীচু Ridgeline ধরে নির্মিত। অনন্য বৈশিষ্টের এই সড়ক বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। একদিকে সবুজ পাহড়ের সারি অন্যদিকে স্বচ্ছ নীলজলের হ্রদ। এ দুয়ের ঐকতানে আমাদর অবিরাম ছুটে চলা…

একটু এদিক ওদিক হলেই হারিয়ে যাব চিরদিনের মত গভীর অন্ধকার পার্বত্য খাদে ।তবুও বুক ভরে অবলোকন করি প্রিয় বাংলাদেশের রুপ। এ যেন অন্য এক বাংলার মুখ। আহা কি সুন্দর মরি! মরি!

ভয়ংকর সুন্দর-শিহরন জাগানো এই পথ পেরিয়ে একসময় আমরা এসে গেলাম জলবিদ্যুতের শহর কাপ্তাইয়ে। হাইড়্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্ট, নি:সর্গ-পার্ক প্যানোরমা এবং পেপার মিল দেখে আবার গাড়ী ছুটে চলে

লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা কর্ণফূলি পার হয়ে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। বান্দরবানে ঢোকার আগেই পেয়ে গেলাম বিখ্যাত স্বর্ণমন্দির। সিড়ি ভেংগে উঠে গেলাম উপরে। পূর্ণ্যার্থী আর অসংখ্য
দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখর মন্দির প্রাংগন। ভান্তের আশীর্বাদে সিক্ত ভক্তবৃন্দ তৃপ্ত অন্তরে ফিরে যাচ্ছে যে যার মতো।

এরপর নীলাচল, মেঘলা, বার্মিজ মার্কেটে কেটে গেল কিছুটা ব্যস্ত সময়…tribal restaurant, এ Bamboo Chiken, Fish Gudia, Fish Kebang দিয়ে তৈরী ঐতিহ্যবাহী Lunch এর কথা না বললে অকৃতজ্ঞতা হবে। খুবই Different এবং Unique এর Preparation। স্বাদের কথা নাইবা বললাম একবার খেলে নাতি-পুতি পর্যন্ত গল্প করবেন চোখ বন্ধ করে। অনেক দিন পর রসনা বিলাস হল পরিপূর্ণ উপায়ে।

একটু পরেই বান্দরবান শহর থেকে সবচেয়ে উত্তেজনাময় যাত্রা শুরু হল নীলগিরির উদ্দেশ্যে। অনেক কষ্টে বন্ধু ক্যাপ্টেন ফারুকের চেষ্টায় নীলগিরি হিল রিসোর্টে একদিনের বুকিং পেলাম।
অনেক গল্প শুনেছি নীলগিরির। জীবন্ত রুপ কথার মত নাকি। আজ তাকে কাছে পাব মনের মত করে।

অকস্মাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে পাহাড়ের শরীর ধূয়ে দিল। প্রকৃতির মুখখানি আরো উজ্জল হয়ে উঠল। রাস্তাটা খুবই খারাপ। মাঝখানে বড় বড় গর্ত পানিতে ডুবে আছে। বারংবার নেমে যেতে হচ্ছে। সত্যি এ সড়কে না আসলে একজন পর্যটক কতটা ভ্রমন পিয়াসী সে পরীক্ষাটা অসম্পূর্ন থেকে যাবে বোধহয়। নীলগিরিতে রাত কাটাবো ভাবে বেমালুম ভুলে গেলাম সব।
চলতে চলতে হঠাৎ করে একেবারে শুন্যে উঠে আসলাম।একপাশে দৃষ্টি গিয়ে পড়লো বঙ্গোপসাগরে আর অন্যদিকে পাহাড়ের সারি একের পর এক মিশে আছে দূর আকাশের গায়ে। এ সুন্দর আপনাকে বোবা করে দিবে, নিথর করে দিবে। নির্বাক হয়ে যাবেন আপনি মুহূর্তেই। ঘোর কাটতে সময় লগবে।

যেতে যেতে চোখে পড়লো Peak 69, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতায় নির্মিত সড়ক। ধীর হয়ে আসছে গাড়ীর গতি। হঠাৎ ঝাপসা কুয়াশায় গাড়ী দাড়িয়ে গেল। ডানে বামে কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।

কী হল?
হ্যাঁ দলছুট একঝাঁক মেঘ এসে পথ আগলে ধরেছে। আচমকা খেয়ালী মেঘেদের এই আদিখ্যেতায় আমারা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। বুঝে উঠতে কিছুটা সময় নিলাম। নেমে পড়লাম আমি। অমনি দুষ্টু মেঘবালিকারা এসে আদরে সিক্ত করে দিল শরীর, মন সবই। একে একে সবাই নেমে পড়ল। শুরু হল চিৎকার, উল্লাস আর মেঘেদের সাথে লুটোপুটি। ইচ্ছে হল আমিও ডানা মেলি দূর অজনায়….কিন্তু বাঁধ সাধলো নীলগিরির সাথে আজকে গোপন অভিসারের আয়োজন।

শেষ বিকেলে এসে গাড়ি উঠে গেল বাংলাদেশের সবোর্চ্চ উচ্চতায় নির্মিত রিসোর্ট নীলগিরিতে।
অবিশ্বাস্য! আকাশ এত কাছে! ইস আরেকটু হলেই বুঝি ছোঁয়া যেত! আকাশের সাথে মিলেমিশে আমরাও যেন হয়ে গেলাম আকাশেরই অংশ একটুকরো নীল। দূর পাহাড়ের খাজে দেখা গেল জমাট বেঁধে আছে শুভ্র বরফের চাই। বন্ধু ক্যাপ্টেন ফারুক বলল বরফ নয় মেঘ। আমরা কি তাহলে মেঘেদেরও উপরে?

আবারো পথহারা মেঘেদের দল এসে ঘিরে ধরল আমাদের। আমরা মেঘের ভিতরে। মেঘ আর মেঘ….অসংখ্য মেঘের মিছিল স্নাত করে দিল, স্নিগ্ধ করে দিল, মুগ্ধ করে দিল সবর্সাকূল্যে। আকাশের নীল আর মেঘেদের ছোঁয়ায় অস্তিত্বের অন্তর্ধান আমি টের পাচ্ছি শিরায় শিরায়। বুঝতে পারছি সৃষ্টি সুখের উল্লাসে আজ বাঁধন হারা সব। আমি যেন আমাতে নেই। যত দেখছি তত মুগ্ধ হচ্ছি আর বিপুল সম্ভাবনার এ অপার দিগন্ত এতদিন অনাবিষ্কৃত থাকার দু:খে অশ্রুপাত করছি।

রাত নেমে এল। আমরা চলে গেলাম থাকার ঘর ‘মারমারেইসায়’। উপজাতীয় Tradition আর Contemporary Architecture এর সম্মিলনে নির্মিত ‘মারমারেইসার’ আভিজাত্যে সম্মোহিত না হয়ে পারবেননা আপনি। নির্মান শৈলীতে খুজে পাবেন অনন্য নান্দিনকতা।

সবকিছুই ভীষন চমৎকৃত করবে আপনাকে। রাতের নির্জনে ভেসে আসা কামাতুর মেঘ গোপনে ‘মারমারেইসার’ জানলা খুলে অভিসারের আবেদন নিয়ে লেপটে দিবে আপনার খোলা বুক। লোভাতুর পূর্ণিমার জোছনা তখন না পাওয়ার ব্যথাতে আত্মাহূতি দিবে আপনার নরম বিছানায়। মেঘ আর জোছনার এই লুকোচুরিতে আপনার জলজ প্রেম তখন টালমাটাল। স্বর্গ থেকে একদল পরী এসে ঘুমপাড়ানী গান হয়ে স্নেহের পরশ বুলাবে চোখে মুখে। অজান্তেই হারিয়ে যাবেন নিদ্রা দেবীর কোলে। সত্যিই রুপকথার মহাকাব্য মনে হবে নীলগিরির চূড়ায় আতিবাহিত আপনার একান্ত মুহূর্তগুলো।

পরেরদিন সকাল। চলে যেতে হবে।

নীলগিরির উত্তর কোনে দাঁড়ানো একলা এক Rain Tree,

মাথার উপরে নেমে আসা আকশের নীল, আর বুনো মেঘেদের দল একদিনেই এত আপন যে কখন হল বুঝতে পারিনি।
যেই না ‘মারমারেইসার’ দরজা ব্নধ করে পা বাড়ালাম……আচমকা এক টুকরো মেঘ এসে আগলে দাঁড়ালো পথ। মেঘেদের নরম গালে চুমু খেয়ে বলি ‘আবার আসিব ফিরে’
-কে শোনে কার কথা।
-অঝোরে কাঁদতে শরু করলো আকাশ
-আনন্দ বিষাদের এই মিশ্র আবহে
আবার শুরু হল আমাদের পথচলা…।

***
হামিদ ফয়সল