ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

বেশ কয়েক বছর আগে কোনো এক পত্রিকায় পড়েছিলাম আমাজন জঙ্গলের এক যোগাযোগবিহীন জাতির সম্পর্কে। পড়ে অবাক হয়ে ছিলাম একবিংশ শতাব্দীতেও এমন জাতি আছে যাদের আধুনিক সভ্যতার ছোয়া লাগেনি বিন্দুমাত্র!!!

গতরাতে লিংক ধরে খুঁজতে গিয়ে বিস্মিত হই, এমন জাতি এই পৃথিবীতে শতেরও উপর!!! যাদের সাথে আধুনিক মানুষ এখনও যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! খুঁজতে গিয়ে দেখি এমন জাতি আছে আমাদের কাছেই, একদম কাছে, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে!!! একদম বঙ্গোপসাগরে!!!
তাও একাধিক সম্প্রদায়!!!

একটি সম্প্রদায় তো শত চেষ্টারও পরও মানুষের সাথে যোগাযোগ করতেই নারাজ!!!

আজ জানার চেষ্টা করি আধুনিক যুগের সেই আদি বসতির !!!! একেবারে সত্যিকারের আদি-বাসী!!

নামঃ সেনতিনেলিজ (Sentinelese) সম্প্রদায়/জনগোষ্টি/আদিবাসী

অবস্থানকারী দ্বীপঃ উত্তর সেনতিনেল দ্বীপ (North Sentinel Island, 11°33′N 92°14′E )

ভূখন্ডঃ ৭২কিমি2 (72km2)

দ্বীপপুঞ্জঃ আন্দামান-নিকোবর, বঙ্গোপসাগর

ভূখন্ডের দাবীদারঃ ভারত

ভাষাঃ সেনতিনেলিজ (অজানা)

ধর্মঃ অজানা

আদিবাসঃ +/-৬০০০বছরেরও অধিক সময় যাবৎ (অনুমান)

জনসংখ্যাঃ ২৫০-৩০০জন (অনুমান)

উচ্চতাঃ ৫ফুট ২-৪ইঞ্চি

চেহারাঃ ছোটখাটো, গোলাকার মুখমন্ডল, কালো, কোকড়ানো চুল।

জীবনযাপনঃ শিকার নির্ভর (মাছ-পশুপাখি), নিজস্ব উদ্ভাবিত আগুন ব্যবহারের কোনো চিহ্ন এবং কৃষিকাজের
কোনো তথ্য এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বছরের অর্ধেক সময় প্রাপ্ত বয়স্ক অর্ধেক মহিলা জনসংখ্যা গর্ভবতী লক্ষ্য করা গেছে। পুরুষ কর্মঠ এবং শিকারী। একটি মজার তথ্য হলো স্থানীয় অধিবাসী অধিকাংশই বাম-হাতি (left handed)। উপরে ছাউনি এবং চারিপ্বার্শ দেয়াল বিহিন একধরনের ঘরে তারা ব্যবহার করে, যাতে ৩-৪জনের ছোট ছোট পরিবার বাস করে।

অস্ত্রঃ তীঁর-ধনুক, বর্শা, পাথর।

প্রথম সন্ধানঃ (দ্বীপ) সার্ভেয়ার জন রিচি (surveyor John Ritchie), ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, ১৭৭১সাল

প্রথম দ্বীপ-ভ্রমনঃ এডমনিস্ট্রাটর হোমফ্রাই (Homfray), মার্চ ১৮৬৭। একই বছর একটি বানিজ্য জাহাজ ১০৬জন যাত্রীসহ ঐ দ্বীপে আটকা পড়লে স্থানীয় আদিবাসী দ্বারা আক্রান্ত হয়, এবং পরবর্তীতে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় নৌ-নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

প্রথম সাক্ষাতঃ ১৮৮০সালে ভিডাল পোর্টম্যান (Maurice Vidal Portman) ৬জন আদিবাসীকে ঐ এলাকা থেকে প্রথম আন্দামান জেলার পোর্ট-ব্লেয়ার (Port Blair) এ নিয়ে আসেন এবং তাদের ভাষা ও জীবনযাত্রা বুঝার চেষ্টা করেন। খুব শীঘ্রই এই আদিবাসীরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এবং ২জন মারা যায় এবং পরবর্তীতে বাকি৪জনকে সেনতিনেল দ্বীপে ফিরিয়ে ইয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে পোর্টম্যান ১৮৮৩, ১৮৮৫, ১৮৮৭সালে বহুবার ঐদ্বীপে গমন করেন (অবশ্যই নিরাপত্তাসহ)

ভারতীয় উদ্যোগঃ ভারত অফিসিয়ালী সেনতিনেল দ্বীপের জনবসতির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে ১৯৬৭সালে। ১৯৯১সাল পর্যন্ত বহুবার উপহার সামগ্রীসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেনতিনেলেজ আদিবাসীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। স্থানীয় অধিবাসী উপহারের প্রতি আগ্রহ দেখালেও সংযোগ স্থাপনের প্রতি ছিলো চরম অনাগ্রহি।

প্রথম শান্তিপূর্ণ সংযোগঃ ডাইরেকটর, সার্ভেয়ার, ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ ত্রিলোকিনাথ পন্ডিত (Trilokinath Pandit), জানুয়ারী ৪,১৯৯১সালে। ভারতীয়রা পরবর্তীতে এখানে ১৯৯৭সালে পূনরায় আসে।

সুনামী পরবর্তী পর্যবেক্ষনঃ ২০০৪সালে সুনামী পরবর্তী পর্যবেক্ষনে গেলে স্থানীয় অধিবাসী বর্শা এবং তীর নিক্ষেপ করে সাহায্যকারী টিমকে বিতাড়িত করে।

সদ্য ঘটনাঃ ২০০৬সালের ২৬শে জানুয়ারী সমুদ্রে পথভ্রষ্ট হয়ে ২জন মৎসশিকারী ঐ দ্বীপে আটকা পড়লে স্থানীয় আধিবাসী তাদের হত্যা করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপবাসী ঘোষনা করেছে সেনতিনেলিজদের সাথে তারা আর কোনো ধরনের যোগাযোগে যাবে না।

স্থানীয় অধিবাসীর কিছু ছবিঃ


(সেনতিনেলিজ আদিবাসীদের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক রচনা, যারা সভ্যতার বিষাক্ত ছোয়া থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করে, এবং কোনো ধরনের সাহায্য ছাড়াই টিকে আছে নিজস্ব স্বত্তায় ৬হাজারেরও বেশি সময় ধরে)

(তথ্যসূত্রঃ গোগল সার্চ, উইকিপেডিয়া এবং ভারতীয় বিভিন্ন আন্তঃলিংক। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ব্যক্তিগত বার্তায়)