ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

L2
জীবনে একবারও প্রেমে পড়েননি এমন লোক এই দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া মুস্কিল।
প্রেমের অনুভূতি, সুখ… সবকিছুই অন্য রকম ব্যাপার, যার তুলনা পৃথিবীর আর কিছুর সাথেই চলে না।
প্রিয়জনের কাছে আসলেই দূরে কোথাও যেনো ভায়োলিন বাজে, হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়, হৃদয় উৎফুল্ল হয়ে উঠে, ভালো লাগা অনুভূতি ছড়িয়ে থাকে আশে পাশে, সে পাশে থাকলেই যেনো লু-হাওয়া বয়, তার কর্কশ কণ্ঠও মধুর লাগে, তার সাদামাটা চেহারাও বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সবচেয়ে সুশ্রী… সে পাশে না থাকলে জীবনটাই শূন্য লাগে, দুঃখবোধ ছেয়ে যায় অন্তরে, তার বিহনে প্রতিটি ক্ষণ অসহ্য লাগে!!!
আহ…!

এতো তো গেলো প্রেমের কাব্যিক দর্শন।

ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে সবাই “প্রেম” নিয়ে ব্যস্ত তখন প্রেমের রসায়নটা পড়ে নেয়া জরুরি বৈকি!!!

প্রেমে পড়লে আসলেই কি হয়? কেনো এমন অপার্থিব্য অনুভূতি জাগে? কেনো?

Dopamine, Norepinephrine এবং Phenylethylamine!
নামগুলো কঠিন হলেও মনে রাখুন। কারণ এগুলোই মূল আসামী।

L1

প্রেমে পড়লে চেম্বার অব কমান্ড ‘মস্তিষ্ক’ থেকে এইসব আসামীরা বেরিয়ে পড়ে সর্বশক্তি দিয়ে আমাদের পাগল করতে।
ডোপামিন, বলতে পারেন “pleasure chemical” বা আনন্দ অনুভূতির রাসায়নিক। আমাদের আনন্দ অনুভূতিকে ইচ্ছে শক্তির সাথে তীব্র করে উচ্ছ্বাস, আসক্তি, ভালো লাগা বহু গুনে বাড়িয়ে দেয়। প্রেমিকা বা প্রেমিকের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, তাকে ছাড়া কিছুই চিন্তা করতে দেয় না, সব চিন্তার কেন্দ্র বিন্দুতে নিয়ে আসে একজনকেই! ডোপামিন সঙ্গী হিসেবে তখন নরএপিনেফ্রিনকে (Norepinephrine) পেয়ে কার্যক্ষমতা দ্বিগুণ করে। যা এড্রিনালিনের মত কাজ করে হৃৎপিণ্ডকে স্পন্দিত করে, excitement বাড়িয়ে দেয়, আকর্ষণ করা বা আকর্ষিত হওয়ার ক্ষমতাকে প্রবল করে… ছোট ছোট ভালো লাগা অনুভূতিতে তীব্র করে, কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে আপনাকে হাইপার একটিভ করে তোলে, নেশা ধরানো অনুভূতির সাথে উদ্দেশ্য পূরণের ইচ্ছা বা goal-oriented behavior কে প্রভাবিত করে।

আর ফিনাইলইথ্যাইলামাইন (Phenylethylamine) এইসব অনুভূতকে চকোলেটের স্বাধের পর্যায়ে নিয়ে যায়। Psychoactive এবং Stimulant এফেক্ট তীব্র করে।

এখানেই শেষ নয়, নতুন অপরাধী হিসেবে সামান্য পরিমাণ সেরেটোনিনও (Serotonin) যোগ দেয় আপনাকে উন্মাদ করতে।

বুঝতে পারলেন, এরই নাম প্রেম!!
আর ইহাই হলো প্রেমের রসায়ন!!