ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়াবে বা বাড়ানো হবে এটা নিতান্তই স্বাভাবিক ব্যাপার। এই নিয়ম সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি বিবেচনায় আনা হয়েছে মাত্র আট বার । দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে যেখানে প্রতি দুই বছর অন্তর বেতন ভাতা পর্যালোচনা করা দরকার সেখানে তা হয় ৫ থেকে ৭ বছর পর পর। ৫ থেকে ৭ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতার বৃদ্ধিতে আদৌ সুফল আসে না। বর্তমান বাজার দর বিবেচনা করে বেতন বাড়ানো হলেও তা কখনোই বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য থাকে না। তাছাড়া নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার আগেই জিনিসপত্রের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বেতন ভাতা বছর – দুই বছর সময় নিয়ে পর্যায় ক্রমে বাড়ানো হয়। এতে শুধু চাকরিজীবীরা নন, সঙ্গে সাধারণ জনগণ ও ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেশে কোনো “স্থায়ী বেতন ও চাকরি কমিশন” নেই। বেতন বৃদ্ধি ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জীবনযাত্রার মান সমন্বয় করতে ‘একটি স্থায়ী বেতন ও চাকরি কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তা করা সম্ভব হলে দুই বা এক বছর অন্তর দ্রব্যমূল্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি বিচার বিশ্লেষণ করে এ কমিশন বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করবেন। এটা একটি ভালো প্রস্তাব। তবে তা বাস্তবায়নের মুখ দেখবে কবে কিংবা আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না তা হয়তো স্বয়ং অর্থ মন্ত্রণালয়ও জানে না।

প্রায় সবগুলো পত্রিকার হেডলাইন বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে। সরকার ও মিডিয়াওয়ালাদের ঢাকঢোল পেটানো দেখে মনে হচ্ছে তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের মাইকিং করে বলছেন দ্রব্যমূল্য বাড়াও। ভোটের বাজারে সরকারের জন্য বেতন বৃদ্ধির মত স্বাভাবিক ব্যাপারও হয়তো জাতীয় ইস্যু হয়ে গেছে। অবিবেচকের মত মিডিয়াবাজির কারণে এই সপ্তাহেই জিনিষ পত্রের দাম বেড়ে যাবে নিশ্চিত (ইতিমধ্যে অনেক পণ্যের দাম বেড়েও গেছে) অথচ তথাকথিত দ্বিগুণ বেতন আগস্টের আগে হাতে আসছে না!!!

কমিশন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার মাঝে মধ্যে মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনা করে মহার্ঘ ভাতা দিয়ে চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা হালনাগাদ করে থাকে। পাশাপাশি প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছরের ব্যবধানে সরকার কমিশন গঠন করে মূল্যস্ফীতিকে হিসাব করে বেতন-ভাতা প্রণয়ন করে থাকে। কমিশন প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের আকস্মিক বড় ধরনের পরিবর্তন চাকরিজীবীদের জন্য প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনে না। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীও বাধ্য হন তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে। এতে ব্যয় বেড়ে ও লাভ কমে যাওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ড্রাইভারের বেতন যেখানে ১৮-২০হাজার টাকা, সেখানে সরকারি “প্রথম শ্রেণী”র গেজেটেড অফিসারের মূল বেতন ১১হাজার টাকা!!! ৫০% বাসা ভাড়া এবং ৭০০টাকা মেডিকেল ভাতা যোগ করলে তা বহু কষ্টে ১৬হাজারে পৌছায়। মা-বাবা, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সন্তানদের নিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে এই অর্থে কিভাবে তারা জীবনধারণ করছেন তা একমাত্র তারাই বলতে পারবেন।
সেখানে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা ৫ থেকে ৭ হাজার বেতনে কিভাবে জীবন নির্বাহ করেন তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন?

মিডিয়া, সরকার সবার জন্য বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বিষয়কে মিডিয়া ইস্যু বানাচ্ছেন না ততক্ষণ পর্যন্ত জনগণও তা গলাধঃকরণ করে না। ইস্যু তৈরি হচ্ছে জনগণ খাচ্ছে, বাড়ছে মিডিয়ার কাটতি।