ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

আফ্রো-আমেরিকান, ফিলিস্তিনি এবং বাংলাদেশী, তিন বন্ধু সমুদ্র তীরে হাওয়া খেতে গিয়ে পুরোনো একটি প্রদীপ পেয়ে গেলো। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, সেই আলাদীনের প্রদীপই, যার মধ্যে বন্ধী ইচ্ছা পূরণের জ্বীন।
তো যথারীতি দেয়া হলো ঘষা।
হু হা হা হা করে অট্টহাসি দিয়ে বেরিয়ে এলো জ্বীন, “হুকুম করুন মালিক, আপনাদের প্রত্যেকের একটি করে ইচ্ছে পালন করতে এই গোলাম হাজির”
বন্ধু তিনজন, ইচ্ছা প্রকাশ করা যাবে মোট তিনটা, প্রত্যেকের একটি করে।

প্রথমেই আফ্রো-আমেরিকান।
“আমেরিকাতে আফ্রিকান কালোরা নির্যাতিত, আমি চাই আফ্রিকা একটি সমৃদ্ধশালী মহাদেশ হোক, কোন অভাব থাকবে না, যাতে কালোরা নিজ নিজ দেশে ফিরত গিয়ে সুখে শান্তিতে বাস করতে পারে”

জ্বীন মুখ বিকৃত করে বললো… ফু…, “আপনার হুকুম তামিল জনাব”

আফ্রিকানের দেশপ্রেম দেখে ফিলিস্তিনি কম যায় না, সে বললো… “ফিলিস্তিনি নিজ ভূমে পরবাসী, আমি চাই ফিলিস্তিন একটি স্বাধীন, উন্নত, সমৃদ্ধশালী সুখি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাক, যাতে প্রত্যেকটি ফিলিস্তিনি শান্তিতে বাস করতে পারে।”

জ্বীন যথারীতি সেই ফিলিস্তিনির ইচ্ছাও পূরণ করলো।

এবার বাংলাদেশীর পালা।
বাংলাদেশী বললো, আমি চাই, রাজনীতিবিদ বাদে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ ইউরোপ আর আমেরিকার নাগরিকত্ব পাক, যেনো প্রবাসে সুখে শান্তিতে বাস করতে পারে।

জ্বিন ভ্রু কুচকে বললো, মালিক, বেয়াদবি না নিলে একটি প্রশ্ন ছিলো। সবাই নিজের দেশের সুখ সমৃদ্ধি চাইলো, আর আপনি নিজের দেশের জনগনকে পরদেশে পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছেন, ব্যাপারটা বুঝলাম না!!!

বাংলাদেশী তখন উত্তর দিলো, এই দেশের মানুষ নিজের দেশে সুখি থাকে না। তারা সব সময় প্রবাসে বাস করে সুখি হয়। দেশে যে খাওয়া শেষ করে নিজের প্লেটটি ধুয়ে রাখে না, বিদেশে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে, বিদেশীদের টয়লেট সাফ করতেও কার্পণ্য করে না। নিজের দেশে যে জীবনেও ট্যাক্স দেয়নি, বিদেশে গিয়ে সে সুনাগরিক হয়ে ট্যাক্স দেয়, দেশে যে কোনো দিন ট্রাফিক আইন মানে না, বিদেশে গিয়ে সব আইন কানুন মেনে চলে। এমন কি বিদেশে যে চকলেটের খোসাটা রাস্তায় ফেলে না, দেশে এসে পুরো দেশটাকেই ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের মানুষ প্রবাসেই ভালো থাকে, তাই আমি চাই তারা প্রবাসেই যাক।

জ্বীন আবার জিজ্ঞাস করে, বাংলাদেশের মানুষ মনে স্বাধীনতার অর্থ উপলব্ধি করতে পারেনি তাই এমন করছে!!!??

বাংলাদেশী উত্তর দেয়, কি যে বলো, এই দেশে রাস্তায় ময়লা ফেলার আনন্দই স্বাধীনতা। পাবলিক বাসে, ভিড়ে মেলায় মেয়েদের পাছা আর বুকে হাত দেয়ার উল্লাসই স্বাধীনতা, ট্যাক্স দিতে না পারার আনন্দই স্বাধীনতা, ট্রাফিক আইন না মানাই স্বাধীনতা, রাস্তায়-ফুটপাতে মানুষ পিষে মারারই স্বাধীনতা। চারিদিকে শুধু স্বাধীনতা আর স্বাধীনতা।

জ্বীনের কৌতূহল বেড়ে যায় “বেয়াদবি নেবেন না জনাব, তাহলে আপনি কেনো চাচ্ছেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা শুধু দেশে থেকে যাবেন??!!!”

বাংলাদেশী এখন রেগে যায়, কি জ্বীন তুমি কি জ্বীন নাকি ফেলু’দা?? নাকি শার্লক হোমস??!!! এতো প্রশ্ন করছো যে!!! যাও মিয়া তোমার আর ইচ্ছা পূরণ লাগবো না…।

জনাব ইচ্ছা পূরণের শর্ত মানেন আর নাই মানেন, শেষ প্রশ্নের জবাবটা দেন, রাজনীতিবিদরা কেনো দেশে থেকে যাবে!!!

“আরে বোকা এরাই প্রকৃত দেশ প্রেমিক, বিদেশে থাকার সকল সুযোগ থাকার পরও দেশে পড়ে আছে, দেশের উন্নয়নের চেষ্টা করছে। বিদেশের ব্যাংকে হাজার কোটি ডলার রেখেও দেশ সেবা করে যাচ্ছে। এই দেশে বাস করার অধিকার শুধু একজন রাজনীতিবিদেরই হতে পারে… আর কারো নয়।