ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমাদের রাজনীতিতে আবার শুরু হয়েছে মাঠ দখলের প্রচেষ্টা । দেশের নেতা নেত্রীরা শুরু করেছেন তাদের চিরাচরিত গলাবাজী। বিরোধী দল ও সরকারী দলের নেতা নেত্রীরা একে অন্যকে উদ্দেশ্য করে উগ্র নির্লজ মন্তব্য আমাদের প্রেক্ষাপটে নতুন কিছু নয়। এই ধরনের অসৌজন্যমূলক বক্তব্য-মন্তব্য অতীতেও আমাদের মূল সমস্যা থেকে নিয়ে গেছে দূরে। জাতীয়-আন্তর্জাতিক এতো সমস্যা, এইসব নিয়ে কারো যেনো মাথা ব্যথা নেই, কেউ ব্যস্ত মসনদ রাখতে আর কেউ ব্যস্ত দখল করতে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জ্বালানী সমস্যা, শেয়ার বাজারে ধ্বস, অর্থনৈতিক দূরবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংশপ্রায়, সড়ক দূর্ঘটনা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দূরবস্থা সহ বর্ডারে বিএসএফ এর বাংলাদেশী হত্যার মতো আরও অনেক মৌলিক সমস্যা নিয়ে কেউই উদ্যোগী হচ্ছে না। না সরকারী না বিরোধী দল। যখন যে সমস্যা সামনে আসছে তাৎক্ষনাত এক অন্যকে দোষারোপের উপর দেয়েই চলে যাচ্ছে দিন।

বিরোধীদল তাদের ধ্যান জ্ঞান সীমাবদ্ধ রেখেছে তত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মধ্যে । তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আমাদের দেশে জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি মানতেই হবে, এই দেশে যেখানে ভাই ভাইকে বিশ্বাস করে না, সেখানে বিরোধীদল কোন দুঃখে সরকারের উপর আস্থা রাখবে!! তবে এই ব্যবস্থা যতই কার্যকর হোক তা পৃথিবী যে কোন দেশ এবং আমাদের দেশের জন্য কখনোই কাম্য নয়, ১/১১ থেকে আমরা এই শিক্ষা ভালো ভাবেই পেয়েছি। আমাদের রাজনীতি ও গণতন্ত্র কতটুকু দেউলিয়াত্বের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার কোনো বিকল্পই আমরা ভাবতে পারছি না।

স্ববিরোধী কাজ, কথা বার্তা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ অনেক আগে থেকেই। কোথায় যেনো শুনেছিলাম বিয়ে আর রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই ।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রথম দাবি এসেছিলো আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। প্রস্থাবটি ছিল সময়োপযোগী এবং যৌক্তিক। ১৯৯৬ সালের প্রতিটি ঘটনা আজো চোখে ভাসে। তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নের্তীত্ব মতান্তরে চরম গোয়ার্তুমী দেশকে একটি ভূয়া নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে কি পরিস্থিতে নিয়ে গিয়েছিলো তা কখনোই ভুলার নয়। নিরপেক্ষ তত্বাবধায়কের দাবির বিপরীতে উনার একটি বক্তব্য আজো আমার কানে বাজে, ‘শিশু আর পাগল ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ নয়’।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ ২০১২ সালে এসে আমাদের দুই নেত্রীই তাঁদের অবস্থানে ইউ (U) টার্ন নিয়েছেন। মেরু পরিবর্তন হয়ে আজ বেগম খালেদা জিয়া দাবী তোলছেন তত্বাবধায়কের আর শেখ হাসিনা আইনের ধোঁয়া তুলে নির্বাচন কমিশন তথা দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনের পক্ষে।

এত এতো সমস্যার ভীড়ে আমাদের সাধারন মানুষের প্রান যেখানে অষ্টাগত সেখানে বিরোধী এবং সরকারী দল পাল্টাপালটি কর্মসূচী দিয়ে জনগনের গলায় ছুরি দিচ্ছে যেনো কোরবানীর গরু।

আমরা তো সবই দেখলাম, দুইদলের শাসন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে এরশাদ চাচা, সবই তো দেখা হলো, সবইতো একই মুদ্রার এপিঠ আর ও পিঠ। আমরা তো মেনেই নিয়েছি এই দুই দলের হাতেই আমাদের নিয়তি, তাহলে আর এতো ঝামেলা কিসের। নির্বাচনের ই বা প্রশ্ন কেনো, ৫বছর – ৫বছর করে দুই দল দেশ চালালেই হয়। দেশের উন্নতি(!) দিয়ে কথা। একদল ৫বছর আরেক দল পরের ৫বছর দেশের উন্নতি(!) করবে ।

উন্নতি করেন আর লুটপাট করেন আমাদের নিয়তি অনুযায়ী ভাগবাটোয়ারা করে করবেন।আমরা দেশের সাধারন জনগন ক্লান্ত, খুব ক্লান্ত, আমাদের প্রান অষ্টাগত। আমাদের প্রতি দয়া করুন। আমাদের দিকে একটু নজর দেন।

তথাকথিত নেতাদের জানা উচিত দেশের তরুন সমাজ কিন্তু সুপ্ত আগ্বিয়গিরির মতো ফোসছে, যখন বিস্ফোরন হবে তখন ভেসে যাবেন, ভেসে যাবেন তপ্ত লাভায়। বাঁচানোর কেউই থাকবে না।