ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

শিশু শিক্ষা কার্যক্রমের টাকা লুটপাটের ঘটনাটি কয়েকদিন আগে দৈনিক পত্রিকার কল্যানে নজরে আসে। নাম সর্বস্ব এনজিওর অনেক লুটপাটের কাহিনী নিয়মিত দৃষ্টিগোচর হয়। সরকার যখনই কোনো প্রকল্প হাতে নেয় তখনই কিছু শিক্ষিত (!) কুসন্তান সুযোগের সদ্ধব্যবহার করে, সাইনবোর্ড সর্বস্ব এনজিওর মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নিয়ে প্রকল্পের পুরো টাকাটাই হজম করে ফেলে।

কমিউনিটি মেডিসিন ডিপার্টমেন্টে কাজ করার দরুন এইসব এনজিও আমার কাছে নতুন কিছু নয়। এতোদিন হয়তো এইসব লুটপাট সীমাবদ্ধ ছিলো জনসচেতনতা মূলক (এইচ,আই,ভি) সহ অন্যান্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রকল্পের মধ্যে। কিন্তু এইসব কুশিক্ষিত মানুষের বিবেক পুরোটাই আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ হয়েছে তাই এখন শিশুশিক্ষার মতো মৌলিক এবং অত্যান্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্পের টাকা লুটপাটে তাদের বাধছে না। কিছু এনজিও তাদের কার্যক্রম খুব সুন্দর ও প্রশংসার সাথে সম্পাদন করলেও এইসব নামকাওয়াস্তে এনজিওর জন্য পুরো সিষ্টেমটাই প্রশ্নের সম্মূখিন।

খবরে প্রকাশ বিদ্যালয়প্রতি ৫ লাখ টাকা করে নিয়ে উধাও হয়েছে ৪৬টি এনজিও। তাদের বিরুদ্ধে সরকার নামকাওয়াস্তে ব্যবস্থা নেওয়ার খবরটিও এসেছে ফলাও করে। শিশুশিক্ষার জন্য বরাদ্ধ অর্থ লুটপাট খুবই উদ্বেগজনক, তার চেয়েও উদ্ধেগজনক তাদের গুরুপাপে লঘুদণ্ড সরূপ নিবন্ধন বাতিল কিংবা লিখিত কারন দর্শানোর উদ্যোগ। আশ্চর্যের বিষয় এদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা হয়নি।
সরকারের শিশুশিক্ষা প্রসারে তৃনমূল পর্যায়ে এনজিওর মাধ্যমে বিদ্যালয় স্থাপন এবং পরিচালনা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল যদি তা সরকার রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে এনজিও নির্বাচন করা হতো। একটু নজর দিলেই লক্ষ্য করা যেতো শুধু ৫ লাখ টাকা গায়েব করে দেবার জন্যই কিছু এনজিও গজে উঠেছিলো।

পত্রিকায় পড়েছি, ব্যাপারটা তখনই গুরুত্বে আসে যখন দেখা যায় ২০৩টি ‘স্কুলে’র মধ্যে ১১৮টি বন্ধ। আমার ধারনা টাকা লুটপাটের ব্যাপারটা ঘটেছে আলোচনা সাপেক্ষে, কিছু সরকারী অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে। তাই দন্ডের বিধানও রাখতে হচ্ছে সহজ এবং সহনীয় তা না হলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। কারন এইসব ছোট এনজিওর হাত এনেক মন্ত্রী মিনিষ্টার থেকেও লম্বা, তাদের কেউ ঘাটাতে যান না। এক নামে বন্ধ হলে তারা অন্য নামে গজিয়ে উঠে নতুন উদ্যমে।

আমরা যারা সাধারন জনগন তারা চাই সরকার শিশুশিক্ষা সহ মৌলিক বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনার উর্ধ্বে থেকে কাজ করুক। এনজিও দের কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের অতীত রেকর্ড ঘেটে দেখা হোক, তাছাড়া এনজিও নিবন্ধনের সময় তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শিক্ষা দক্ষতা সর্বোপরি সততা ও বিবেচনায় রাখা হোক।
দোষী ব্যক্তিবর্গের শাস্তি না হলে এইসব এভাবেই চলতে থাকবে যেনো এই নিয়তি এই-ই নিয়ম।