ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

কি লিখব ঠিক বুঝে পাচ্ছিনা । ফজলু ভাই যার সম্পর্কে লিখব কিন্তু আমি লিখতে পারছিনা আমার চোখে পানি চলে আসছে। যিনি ঢাকা ৪১ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওনার বাবা (মোঃ সিরাজুল হক) এই ওয়ার্ডের ২২ বছর সভাপতি ছিলেন এবং আগারগাঁও আওয়ামী লীগের এর প্রতিষ্ঠাতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুব নিকটের একজন মানুষ ছিলেন। উনি অতি সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। উনার ৩৫ বছরের রাজনীতি করা কালীন কেহ বলতে পারবেন উনি অসত ছিলেন। সাধারন মানুষ উনাকে অনেক শ্রদ্দা করতেন। গত ১৪ই জানুয়ারী উনার মৃত্যু বার্ষিকী ছিল। কি নির্মম পরিহাস ওই ১৪ তারিখে ফজলু ভাই যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান সন্ত্রানীদের গুলিতে মারা যান। না আমি তার রাজনীতিক ইতিহাস লিখতে বসি নাই। তার বর্তমান অবস্থান বুঝানোর জন্য আর আমার কিছু সুন্দর স্মৃতি লিখার জন্য ও আপনাদের বুঝতে সহজ হয় তাই এই ভুমিকা। ফজলু ভাই যিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন আমি কখন ওনাকে দেখিনি এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা করতে যত কাজই থাকত নামাজের সময় ঠিক মসজিদে গিয়া নামাজ পড়তেন। কোনো মানুষ বলতে পারবেন কিনা আমার জানামতে কখন কারো সাথে দুরব্যবহার করেছেন। গত ২ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এবং এই ২ বছর উনি ৪১ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উক্ত এলাকায় কমপক্ষে ১৫/২০ টা সরকারী অফিস আছে ও মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে। ওখানে ক্ষমতাসীন দলের অনেক রাজনীতিবিদ আসে যারা মাদক ব্যবসা ও টেন্ডারবাজী করে কোটি কোটি টাকা বানিয়ে নিয়েছে। অথচ ওই ওয়ার্ডের গুরুত্বপুর্ন একটি আসনে অধিষ্ঠ থাকা অবস্থায়ও উনি তার পরিবারের জন্য কিছু রেখে যেতে পারেননি কারন উনি একজন নীতিবান মানুষ ছিলেন।

Fazlu

আমি অনেক মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছি কিন্তু ফজলু ভাইয়ের জানাজায় দুই একটা বিষয় খুব নাড়া দিয়েছে। এক, জানাজার আগে মৃত ব্যাক্তির কোন ঋণ আসে কিনা সে বিষয়টা তার আত্তীয়রা জেনে জিজ্ঞাসা করেন নেন থাকলে তাদের কাছে পরে জানালে তা শোধ করে দিবেন বলে কথা দিয়ে থাকেন। সেদিন এই বিষয়ে ঊনার বড়ভাই বললেন ” যদি কেহ ফজলুর কাছে দেনা থাকেন তাহলে আমাদের জানাবেন আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশোধ করার চেষ্টা করব” এখানে দুটো বিষয় পরিস্কার এক তাদের আর্থিক অবস্থান ও দুই স্পষ্ঠবাদিতা যা একজন সত্যবাদী মানুষ এর পক্ষে ওই অবস্থায় বলা সম্ভব। উনাদের পরিবারের প্রতিটি মানুষই অতি সাধারন ও ভালো মানুষ। জানাজায় অন্য আর যে বিষয়টি আমাকে নাড়া দিয়েছে সেটি হল যখন জিজ্ঞাসা করা হল ফজলু কেমন মানুষ ছিলেন প্রতিটি মানুষ উচ্চস্বরে বলে উঠলেন ভালো মানুষ ছিলেন জানিয়ে রাখি জানাজায় অনেক লোকের সমাগম হয়েছে এবং আমি নিজে অনেক রাজনীতিবিদের জানাজায় গিয়েছি কখনো এ ভাবে সতস্ফুর্তভাবে মানুষকে এভাবে বলতে শুনিনি।

মৃত্যুর সংবাদে সন্তানকে জড়িয়ে স্ত্রীর কান্না

এবার ফজলু ভাইয়ের ব্যাক্তিগত কিছু কথা বলি। তারা ৬ ভাই ও ৬ বোন উনি পিতামাতার চতুর্থ সন্তান। ছাত্রজীবনে একজন ভাল এথলেট ছিলেন। তাসের চমৎকার কিছু জাদু জানতেন। পরিবারের সকল কাজের দায়িত্ব নিজ দায়িত্তে অতি নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন। পরিবারের সকলের সবচেয়ে প্রিয় মানূষ ছিলেন। আমার ছেলেবেলায় ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশে যত দর্শনীয় স্থান ছিল তা আমাকে নিয়ে অনেক ঘুরে বেড়িয়েছেন। ফজলু ভাইয়ের একটা দারুন হবি ছিল সিনেমা হলে গিয়ে প্রচুর ছবি দেখতেন। আমিও বহুবার তার সাথে ছবি দেখিছি। উনি সিনেমা হলে একা যেতেননা কেহো না কেহো তার সাথে থাকতো কখনো কখনো হয়ত ১৫/২০ জন নিয়েও ছবি দেখতেন। তার ছোট ভাই-বোন , ভাগিনা-ভাগ্নী, ভাতিজা-ভাস্তীদের লালণ-পালণ করা তাদের চাওয়া-পাওয়া অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালণ করছেন নিজ সন্তানের মত করে। অথচ আজ তার নিজ সন্তান মাত্র আট মাস এতিম হয়ে গেল, যে বুঝলইনা তার বাবার আদর। অন্যের সন্তানদের যে নিজ সন্তান এর মত আদর তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেছে, কে দিবে তার সন্তানকে তার বাবার ভালমতো ভালবাসা, কে পূরণ করবে তার চাওয়া-পাওয়া।

পরিশেষে বলছি সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ্‌ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং তার পরিবার যেন তার অভাব ও এই আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

ফেসবুক এ একটা causes এর একটা লিঙ্ক দেয়া হলো। আশা করি আপনার বিষয়টা মানবিক ভাবে দেখবেন

———————-
মূল খবর
———————-